প্রতিষ্ঠাতার সন্তানই যুবলীগের শীর্ষ নেতৃত্বে!

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

প্রতিষ্ঠাতার সন্তানই যুবলীগের শীর্ষ নেতৃত্বে!

সালাহ উদ্দিন জসিম ৫:৩৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২২, ২০১৯

প্রতিষ্ঠাতার সন্তানই যুবলীগের শীর্ষ নেতৃত্বে!

যুবলীগের ক্যাসিনো ব্যবসা, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাস-দুর্নীতির দুষ্টুক্ষত সারতে আসছে নতুন নেতৃত্ব। ৭ম কংগ্রেস রাজনীতিতে সংগঠনটির পরিচ্ছন্ন ইমেজ পুনরুদ্ধারের মোক্ষম সময় বলে ধরে নিয়েছেন নীতিনির্ধারকরা।

সেজন্য নেতা নির্বাচনে একটু কৌশলী হয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি পরিচ্ছন্ন ও বিতর্কের ঊর্ধ্বে এমন কাউকে পছন্দ করেছেন।

যদিও এ নিয়ে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠেছে গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে। পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের মতো এই প্রশ্নফাঁস অপরাধ না হলেও বিশ্বাসযোগ্যতা আছে। অনেকে বলছেন, শেখ ফজলে শামস পরশ ও মঞ্জুরুল আলম শাহীন হচ্ছেন যুবলীগের চেয়ারম্যান-সম্পাদক।

জানা গেছে, যুবলীগের নেতৃত্বে বেশিরভাগ সময়ই প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মণির আত্মীয়রাই এসেছেন। আসন্ন কংগ্রেসে খোদ শেখ মণির সন্তানই আসছেন নতুন নেতৃত্বে। প্রথমদিকে তার কনিষ্ঠ ছেলে শেখ ফজলে নূর তাপসের নাম শোনা গেলেও তিনি তাতে সম্মত হননি। আওয়ামী লীগেই থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন শেখ তাপস। যার কারণে তার বড়ভাই ও শেখ মণির জ্যেষ্ঠ ছেলে শেখ ফজলে শামস পরশ যুবলীগের চেয়ারম্যান হচ্ছেন এটি মোটামুটি চূড়ান্ত হয়ে গেছে।

কারণ হিসেবে বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা চান শেখ মণির সন্তানদের কেউ আসুক নেতৃত্বে। তারা যেমন ক্লিন ইমেজের তেমনি ভালো সংগঠক। আওয়ামী লীগ নেতারাও এতে একমত।

এদিকে, এতদিন রাজনীতির মাঠে দেখা না গেলেও ইতিমধ্যে দেখা মিলেছে শেখ ফজলে শামস পরশের। শুক্রবার যুবলীগের সপ্তম কংগ্রেসের প্রস্তুতি দেখতে আসা আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে পরশকেও দেখা গেছে।

এসময় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক পরশের নেতৃত্বে আসার বিষয়ে বলেছেন, ‘কাউন্সিলররা চাইলে শেখ মণির পরিবার থেকেও যুবলীগের শীর্ষ নেতৃত্ব আসতে পারে।’

গণমাধ্যমের ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের সঙ্গে ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের মিল পাওয়া যায়। চূড়ান্ত মিল আছে কীনা, জানতে শনিবার বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

এছাড়াও চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় এগিয়ে বর্তমান যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক ছাত্রনেতা আতাউর রহমান আতা, অ্যাডভোকেট বেলাল হোসেন, সাবেক ছাত্রনেতা মইনুদ্দিন হাসান চৌধুরী, বাহাদুর বেপারীসহ অনেকে। শেখ পরিবার থেকে নেতৃত্ব আসলে তারা সাধারণ সম্পাদক পদেও থাকতে পারেন।

সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় এগিয়ে সাবেক ছাত্রনেতা বর্তমান যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম শাহীন, সুব্রত পাল, মহিউদ্দিন আহমেদ মহি, প্রচার সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ বাবলু, সাংগঠনিক সম্পাদক বদিউল আলম ও অর্থ সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র।

তবে সব কিছুই নির্ভর করছে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর। তিনি যে সিদ্ধান্ত নেবেন সংগঠনের কাউন্সিলররা তাই মাথা পেতে নেবেন বলে জানিয়েছেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ।

তিনি পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘যুবলীগে কখনোই ভোট হয়নি। সব সময় কাউন্সিলররা আমাদের নেত্রী, আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর নেতৃত্ব নির্বাচনের দায়িত্ব ছেড়ে দেন। তিনিই নেতা নির্বাচন করে দেন। এবারও তার ব্যত্যয় হবে না আশা করি।’

যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুব্রত পাল বলেন, ‘নেতৃত্ব নির্বাচনে শেখ পরিবার থেকে, না বাইরে কেউ আসবে জানি না। এটা নেত্রীর সিদ্ধান্তের ব্যপার।’

‘আমার বিষয়ে আলোচনা আপনাদের মতো আমিও শুনি। আমি আশাবাদী মানুষ, দায়িত্ব দিলে যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করবো। আশা করি, ক্লিন ইমেজ ও সৎদের প্রাধান্য থাকবে।’ জানান সুব্রত পাল।

শেখ পরিবারের সন্তান ও যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যননির্বাহী সদস্য শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, ‘নেত্রী যেটা ভালো মনে করবেন, সেটাই করবেন। আমি ক্যান্ডিডেট না, কিছু জানিও না। তবে সততা, প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সংগঠনটি পরিচালনা করতে পারবে, এমন কেউ আসুক চাই; যারা দেশের জন্য কিছু করতে পারবে। ’

যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘আমরা চাই তরুণ, যুববান্ধ ও সৎ নেতৃত্ব আসুক।’

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, এখানে শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তিনিই ভালো জানেন, কাকে দেবেন দায়িত্ব। তাদের চাওয়া- ছাত্রলীগের রাজনীতি করে আসা কর্মিবান্ধব, গতিশীল নেতৃত্ব।

তবে যারাই যুবলীগের নেতৃত্বে আসবে, তাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ইমেজ ফিরিয়ে সংগঠনকে গতিশীল করা।

প্রসঙ্গত, শনিবার যুবলীগের ৭ম জাতীয় কংগ্রেস। এ উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পদ্মা সেতুর সাজে মঞ্চ সাজানো হয়েছে। সম্মেলন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভাপতিত্ব করবেন সংগঠনটির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক চয়ন ইসলাম।

এসইউজে/এইচআর

 

পরিবর্তন বিশেষ: আরও পড়ুন

আরও