খালেদাকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যার চক্রান্ত চলছে: রিজভী

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

খালেদাকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যার চক্রান্ত চলছে: রিজভী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ১:৪৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৪, ২০১৯

খালেদাকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যার চক্রান্ত চলছে: রিজভী

সুচিকৎসার অভাবে ৭৫ বছর বয়সী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার দিন দিন আশঙ্কাজনকভাবে অবনতি ঘটছে বলে জানিয়েছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘উদ্বেগের সঙ্গে জানাতে চাই, কারাগারে যথাযথ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না দিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে চিরতরে পঙ্গু করে দেয়ার ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের অপকৌশল প্রয়োগ করছে সরকার। বিনা চিকিৎসায় তাকে কারাগারে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যার চক্রান্ত চলছে।’

তিনি বলেন, ‘বিগত ৬৪৫ দিন যাবত বিনা অপরাধে কারাবন্দী খালেদা জিয়া যে গুরুতর অসুস্থ এটা দেশের প্রতিটি মানুষ জানেন। অথচ সব কিছু জেনেও শুধু রুদ্ধকপাট মুক্তিহীন খালেদা জিয়াকে রোগে-শোকে কষ্ট দেয়ার জন্যই তার চিকিৎসায় বাধা দেয়া হচ্ছে। সুচিকিৎসার অভাবে ৭৫ বছর বয়সী চারবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার দিন দিন আশঙ্কাজনকভাবে অবনতি ঘটছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ইতিহাস আওয়ামী লীগের।’

রিজভী বলেন, ‘পিজি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার স্বাস্থ্য সম্পর্কে সরকারের শেখানো বক্তব্য ও ব্যাখ্যা দিলেও সুচিকিৎসার কোনো পদক্ষেপই নেয়নি। গত এক সপ্তাহে কোনো চিকিৎসক বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যাননি। তার হাতে যে ব্যথা ছিল তা পা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। সারা শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা। নার্সরা তার হাতে-পায়ে হাত দিতে পারছেন না, হাত দিলেই তিনি প্রচণ্ড যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে যাচ্ছেন। তার ডান পায়ের গোড়ালিতে একটা ফোড়ার কারণে সেই যন্ত্রণা আরও তীব্রতর হয়েছে। অথচ সরকারি চিকৎসকরা খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা করছেন না। তার জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। দেশবাসী তার অসুস্থতা নিয়ে উৎকণ্ঠায় প্রহর গুণলেও স্বাস্থ্যের সঠিক অবস্থা জনগণের সামনে প্রকাশ করছে না সরকার।’

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার রিউমেটোয়েড আর্থাইটিসের জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের চেয়ারম্যান এখনও কোনো মতামত দিচ্ছেন না। অথচ ইতোমধ্যে রিউমেটোয়েড আর্থাইটিসের তিন জন চিকিৎসক সদস্যের সমন্বয়ে বোর্ডের যে রিপোর্ট সেটিও প্রকাশ করা হচ্ছে না। মেডিকেল বোর্ডের চেয়ারম্যান তার বোর্ডের অপর তিন জন সদস্যকে নিয়ে অদ্যাবধি কোনো বোর্ড মিটিং করেননি। মেডিকেল বোর্ডের চেয়ারম্যান কি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা অন্যান্য সদস্যদের জানাচ্ছেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল বুধবার খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার ভাই-বোনরা সাক্ষাৎ করে তার গুরুতর অসুস্থতায় গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন। তিনি হাইলি এক্টিভ ডিফরমিং, রিউমেটোয়েড আর্থাইটিস, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশনসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন। রোগের প্রয়োজনীয় যথাযথ চিকিৎসা ও পরিচর্যা না হওয়ার কারণে উনার হাত ও পায়ের ছোট ছোট জয়েন্টগুলোসহ বিভিন্ন জয়েন্ট ফুলে গেছে এবং তাতে তীব্র ব্যথা অনুভূত হচ্ছে। উঠতে-বসতে পারছেন না। জয়েন্টগুলো শক্ত হয়ে যাচ্ছে, যা অচিরেই স্থায়ী রূপ ধারণ করতে পারে। হাত, পায়ের আঙুল বেঁকে যাচ্ছে। নিজ হাতে কিছু খেতেও পারছেন না।’

সরকারের মন্ত্রী ও নেতারা খালেদা জিয়ার গুরুতর রোগ নিয়ে উপহাস করছেন উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘জনগণের সেন্টিমেন্ট তোয়াক্কা করে না বলেই সরকার দেশের একজন জনপ্রিয় নেত্রীর জীবনকে নিঃশেষ করে দেয়ার সকল আয়োজনে ব্যস্ত রয়েছে। একদলীয় পলিটিক্যাল মনোপলি বজায় রাখার জন্যই বেগম জিয়ার জীবন বিপন্নের আয়োজনে সরকারের আগ্রাসী অসহিষ্ণুতা প্রবল হয়ে উঠেছে। সেজন্য তার চিকিৎসার অধিকারটুকুও কেড়ে নেয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার অন্ধ প্রতিহিংসার বশে বেগম খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতেই তার সুচিকিৎসা প্রদানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। তার প্রাপ্য জামিনে সরাসরি বাধা দেয়া হচ্ছে। নগ্নভাবে আদালতের ওপর হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। তার স্বাস্থ্য নিয়ে অসত্য সংবাদ পরিবেশন করতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা এক ভয়াবহ চক্রান্তের বর্ধিত প্রকাশ।’

‘রোহিঙ্গা সমস্যা জিয়াউর রহমানের সৃষ্টি’ সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে নিজেদের অনতিক্রম্য দুর্বলতা ও ব্যর্থতার গ্লানি ঢাকতেই প্রধানমন্ত্রী আজগুবি কথা বলছেন। উন্মাদ অভিগ্রস্ত না হলে এ ধরনের কথা বলা যায় না।’

তিনি বলেন, ‘ইতিহাস সাক্ষী, দেশের জনগণ সাক্ষী, মিয়ানমার বার বার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দিয়ে সমস্যা সৃষ্টি করতে চেয়েছিলো। কিন্তু ১৯৭৮ সালে সেটি শক্ত হাতে মোকাবেলা করেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ৯২ সালেও রোহিঙ্গা সংকট কঠোর ও সফলভাবে মোকাবেলা করেছেন খালেদা জিয়া। এটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের যারা খবর রাখেন সেই সমস্ত ব্যক্তিরাও এই কথাগুলি উল্লেখ করছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট কোনো দলীয়ভাবে দেখার বিষয় নয়, এটা একটা জাতীয় সংকট। এই সংকট বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রশ্ন। ফলে জাতীয় সংলাপ ডাকুন। বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে সংলাপে বসুন। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে তার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগান। রোহিঙ্গা ইস্যু দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে গিয়ে এখন সমস্যাটিকে উপক্রান্ত অবস্থায় সমাধান না করে লেজে গোবরে পাকিয়ে ফেলা হয়েছে।’

রিজভী বলেন, ‘সরকারের মনোবল এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে, তারা কোনো কূটনৈতিক প্রচেষ্টাই চালাতে পারছে না। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ব্যর্থতায় প্রমাণ হয়েছে- এই সরকার বন্ধুহীন হয়ে পড়ছে। সে জন্যই প্রধানমন্ত্রী নিজের ব্যর্থতা আড়াল করতে অন্যের সফলতা নিয়ে অবান্তর কথা বলছেন।’

এমএইচ/আরপি

 

রাজনীতি: আরও পড়ুন

আরও