‘দুই দিকেই কাটছেন বিএনপির এমপি হারুন’

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

‘দুই দিকেই কাটছেন বিএনপির এমপি হারুন’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৯:০৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১১, ২০১৯

‘দুই দিকেই কাটছেন বিএনপির এমপি হারুন’

ফাইল ছবি

অল্প সময়ের মধ্যে জামিন পেয়ে এদিক ওদিক দুই দিকেই করাতে কাটছেন বিএনপির সংসদ সদস্য (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩) মো. হারুনুর রশীদ।

সোমবার রাতে সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় দাঁড়িয়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে এমন দাবি করেন তিনি।

সারাদেশে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চালানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তিনি (প্রধানমন্ত্রী) অসাধারণ পদক্ষেপ নিচ্ছেন। সারাদেশে যে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু করেছেন এবং দেখা যাচ্ছে যে সেখানে আওয়ামী লীগেরই বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন। ঠিক ওই রকম একটা মুহূর্তেই আমার নামে হঠাৎ করে আদালতে সাজা হলো এবং এটা এতো ব্যাপকভাবে প্রচারিত হলো সারাদেশের মানুষের মধ্যে যে পারসেপশন তৈরি হলো যে বিএনপির এমপি বলেই হারুনকে সাজা দেয়া হইছে। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আলহামদুলিল্লাহ, উচ্চ আদালতে আমি আপিল করার সাথে সাথে অতি অল্প সময়ের মধ্যে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাই এবং সুপ্রিম কোর্টেও আমাকে জামিন মঞ্জুর রাখা হয়।’

এমপি হারুন বলেন, ‘এমপিদেরকে ১৯৮৮ সাল থেকে শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা দেয়া হচ্ছে।’ একটি পত্রিকার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘পঞ্চম সংসদে ৩০১টি, সপ্তম সংসদে ১৭৬, অষ্টম সংসদে ৩৩১, নবম সংসদে ৩১৫টি শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি করা হয়েছিল।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা টাকা দিয়ে গাড়িটি আমদানি করি। ৯৬ সালে আমি যখন প্রথম এমপি হই, তার আগে আমি গাড়ি ব্যবহারকারী ছিলাম না। আমার কোনো ব্যক্তিগত গাড়িও ছিল না। এমপিদের দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করার জন্য জাতীয় সংসদ এমপিদেরকে এই সুযোগটি দিয়েছেন। এটি নিয়ে পত্রপত্রিকা মিডিয়ায় ঢালাওভবে লেখালেখি হয়।’

স্পিকারকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন, ‘ইউরোপ আমেরিকাসহ উন্নত বিশ্বে এক কোটি দেড়কোটি টাকা দিয়ে, নগদ টাকা দিয়ে গাড়ি কেনা হয় না। তারা ব্যাংকের সুবিধা পায়। ডাউন পেমেন্ট দিয়ে গাড়ি ক্রয় করে। আমি কারাগারে থাকা অবস্থায় সরকারি কর্মকর্তাদেরকে গাড়ি কেনার সুবিধা দেয়া হচ্ছে। সচিবরা গাড়ির অপব্যবহার করছেন বলেও বিরাট খবর দেখলাম।’

হারুনুর রশীদ বরেন, ‘মাননীয় সংসদ নেতা রয়েছেন, আমি অনুরোধ করবো সংসদ সদস্যদের সত্যিকার অর্থে তারা তো রিকশায় করে গণভবনে যাবে না। জাতীয় সংসদ সদস্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েতো রিকশায় করে যাবে না। সচিবালয়ে তো রিকশায় যাবে না। আমি অনুরোধ করবো ব্যাংক থেকে স্বল্পসুদে এমপিদের গাড়ি কেনার সুযোগটা দেন তাহলে পাঁচ বছর একটা গাড়ি ব্যবহার করার পর গাড়িটা বিক্রি করলে অন্তত মূলধনটা সে ফেরত পাবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি যে বিষয়টি বলতে চাই- যখন রায়টি হলো আমার এলাকায় দেখলাম কিছু ব্যক্তি আনন্দ উৎসব করলো রাতে পিকনিক করলো। সারাদেশের মানুষ কিন্তু আমার জন্য দোয়া করেছে। আমি জেল থেকে মুক্ত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের অনেকে আমার প্রতি সহানুভূতি দেখিয়েছে। আমি তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। আমি মনে করি এই বিষয়গুলো আজকে আমার নামে সাজা হয়েছে সাথে সাথে এখানে দোষ আসলো হারুন বিএনপির এমপি। আমি যখন আবার জামিনে মুক্তি পেলাম তখন আবার দেখি টেলিভিশনের টকশোতে বলছে হারুনকে প্রধানমন্ত্রী খুব ভালোবাসে দেখো ১০ দিনের মধ্যে জামিন দিয়ে দিলো। অর্থাৎ আমি এই দিকেও করাতে কাটছি ওই দিকেও করাতে কাটছি।’

হারুন বলেন, ‘আমি মনে করি আমাদের কাছে গাড়ি আমদানি পরিপত্র আছে, আমি যদি গাড়ি সত্যিকার অর্থে হস্তান্তর করে থাকি তখন আমাকে সমুদয় শুল্ক পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু এখানে জরিমানা বা জেলের কোনো সুযোগ নেই। আমি আশা করি উচ্চ আদালত আমাকে এই বিষয়ে বিবেচনায় নিয়ে আসবেন।’

বিএনপির এই এমপি বলেন, ‘স্পিকারের কাছে আমি অনুরোধ করবো এমপিদেরকে যে সুযোগটি দেয়া হয়েছে, এমপিরা যেনো গাড়ি কিনতে পারে, গাড়িটি ব্যবহার করতে পারে। এ বিষয়ে একটু চিন্তা ভাবনা করবেন এবং মাননীয় সংসদ নেতাও রয়েছেন। অপব্যবহার যেনো না হয়, চারমাস আগে আমাকে গাড়ি কেনার পারমিশন দিয়েছেন। কিন্তু ব্যাংকে আমার এক কোটি টাকা নেই। আমি অবৈধভাবে কারো কাছ থেকে টাকা নিয়ে কিনতে পারি। কিন্তু আমি সেই জায়গায় যাবো না। আমি এজন্য আপনার কাছে আন্তরিক সহযোগিতা চাই।’

এইচকে/এইচআর

 

রাজনীতি: আরও পড়ুন

আরও