মায়ের বুকে চিরনিদ্রায় খোকা

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

মায়ের বুকে চিরনিদ্রায় খোকা

জ্যেষ্ঠ  প্রতিবেদক ৭:২০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৭, ২০১৯

মায়ের বুকে চিরনিদ্রায় খোকা

বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা, দলের নেতাকর্মী, বিভিন্ন দলের রাজনীতিবিদ ও সাধারণ মানুষের ভালবাসায় সিক্ত হয়ে চির নিন্দ্রায় শায়িত হলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও অভিক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে জুরাইন পুরাতন কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে খোকাকে।  এই কবরাস্থানে সামনের দিকে তার মা সালেহা খাতুন ও বাবা এম এ করীমের কবরে র‌য়েছে। আপনজন আর শুভাকাঙ্খীদের কাঁদিয়ে চিরদিনের জন্য মায়ের বুকেই আশ্রয় হলো খোকার।

২০০২ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ঢাকা সিটি করপোরেশন অবিভক্ত থাকা অবস্থায় মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছিলেন এই রাজনীতিবিদ, সেখানেই শেষবারের মতো বেলা পৌনে ৩ টায় নেয়া হয় সাদেক হোসেন খোকার মরদেহ।

প্রিয় মানুষের মরদেহ আনার পর (বর্তমান) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশেনের অনেক কর্মকর্তা কর্মচারীরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। নগর ভবনও যেন তখন শোকে পাথর।

সাদেক হোসেন খোকার প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে দক্ষিণের মেয়র সাইদ খোকন বলেন, দল মত নির্বিশেষে তিনি সকলের জন্য কাজ করে গেছেন। তার আদর্শ ধারণ করে সকলকে কাজ করার আহবান জানান তিনি।

এর আগে নয়াপল্টনে সাদেক হোসেন খোকার প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, খোকা ভাই আর আমাদের মাঝে নেই।

বিকাল পৌনে ৪ টায় গোপীবাগের ধুপখোলা মাঠে নিয়ে যাওয়া হয় খোকার মরদেহ। সেখানে শেষ নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তারপর তাকে জুরাইনে দাফন করা হয়।

সাদেক হোসেন খোকার জন্ম ১৯৫২ সালের ১২ মে। চলতি বছরের গত ৪ নভেম্বর নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মনোবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর করেন তিনি।

আশির দশকে বামপন্থি রাজনীতি ছেড়ে আসেন বিএনপিতে। ওই সময় নয়াবাজার নবাব ইউসুফ মার্কেটে বিএনপির কার্যালয় থেকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সূচনা করে সাতদলীয় জোটের নেতৃত্ব দেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ওই অন্দোলনে ঢাকা মহানগর সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্ব পেয়েছিলেন খোকা।

১৯৯০ সালে বাবরি মসজিদ ভাঙাকে কেন্দ্র করে পুরান ঢাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে পুরান ঢাকার মানুষের মনে আস্থার জায়গা করে নেন।

১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসনে (সূত্রাপুর-কোতোয়ালি) শেখ হাসিনাকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হয়ে আলোচনায় আসেন। এ সময় তিনি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।

১৯৯৬ সালের নির্বাচনে ঢাকার আটটি আসনের মধ্যে সাতটিতে বিএনপি প্রার্থী পরাজিত হলেও একমাত্র খোকা নির্বাচিত হন। দিনে দিনে তার জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। ঢাকার রাজনীতিতে খোকা ফ্যাক্ট হয়ে ওঠেন।

পরে আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী আন্দোলনে প্রায় পাঁচ বছর একক নেতৃত্ব দিয়ে তিনি বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতায় পরিণত হন।

২০০১ সালের নির্বাচনেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে মৎস্য ও পশুসম্পদমন্ত্রী হন। ওই সময় পুরান ঢাকায় বিএনপির রাজনীতিতে নিজস্ব বলয় তৈরির পাশাপাশি প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ডে দলকে শক্তিশালী করার পেছনে খোকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

এর আগে ১৯৯৪ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ হানিফের কাছে পরাজিত হন মির্জা আব্বাস। বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য বিরোধী দল কঠোর আন্দোলন শুরু করলে ঢাকায় বিএনপি কোণঠাসা হয়ে পড়ে।

এ অবস্থায় খোকাকে ১৯৯৬ সালে মহানগর বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০০২ সালের ২৫ এপ্রিল অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তিনি মেয়র নির্বাচিত হন। ২০১১ সালের ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত তিনি ঢাকার মেয়র ছিলেন।

এমএইচ/পিএসএস

আরও পড়ুন...
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে খোকার মরদেহ (ভিডিও)
শহীদ মিনারে খোকার মরদেহ

সংসদে খোকার প্রথম জানাজা
বীর মুক্তিযোদ্ধা খোকার মরদেহ ঢাকায়
ভালোবাসায় সিক্ত খোকা, নয়াপল্টনে জানাজায় জনস্রোত (ভিডিও)
নগর ভবনের প্রিয় প্রাঙ্গণ থেকে খোকাকে চিরবিদায়

 

রাজনীতি: আরও পড়ুন

আরও