গণফোরামে ‘ভাঙন’ ঠেকাতে খালেদার সঙ্গে কামালের সাক্ষাৎ অনিশ্চিত!

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

গণফোরামে ‘ভাঙন’ ঠেকাতে খালেদার সঙ্গে কামালের সাক্ষাৎ অনিশ্চিত!

মাহমুদুল হাসান ৭:৩৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০১, ২০১৯

গণফোরামে ‘ভাঙন’ ঠেকাতে খালেদার সঙ্গে কামালের সাক্ষাৎ অনিশ্চিত!

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের সাক্ষাৎ ‘ফিকে’ হয়ে যাচ্ছে।

ড. কামাল হোসেনের অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়টি নিয়ে ‘পরিষ্কার’ করে কিছু বলছেন না ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। শিগগিরই ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক ডেকে তা চূড়ান্ত করার কথা বললেও প্রায় দুই সপ্তাহেও তা আলোর মুখ দেখেনি। 

জানা গেছে, খালেদা জিয়ার সঙ্গে ড. কামাল হোসেনের সাক্ষাৎ ইস্যুটি মূলত গণফোরামের প্রতিষ্ঠাকালীন ৫ প্রেসিডিয়াম সদস্যদের চিঠিতেই আটকে গেছে। তারা চান না, কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে ড. কামাল হোসেন সাক্ষাৎ করুক।

এছাড়া বিএনপির সঙ্গে গণফোরামের জোট এবং ড. কামাল হোসেনের মুখে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি ও তার সঙ্গে জেলখানায় দেখা করতে যাওয়াকে মেনে নিতে পারছেন না তারা। ফলে খালেদা জিয়ার সঙ্গে ড. কামালের সাক্ষাৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

জানতে চাইলে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘আমরা সরকারের অনুমতির জন্য অপেক্ষা করছি। অনুমতি পেলেই আমরা যাওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিব।’

দলের ৫ নেতার চিঠি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কতজনই তো ক্ষুব্ধ হতে পারেন। দল করলে এটা থাকবেই। খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয় এর সঙ্গে সম্পর্ক নেই।’

গত ৫ মে গঠিত গণফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটি ‘স্বেচ্ছাচারী’ কায়দায় করা হয়েছে অভিযোগ করে অবিলম্বে এ কমিটি ভেঙে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন ওই ৫ জন প্রেসিডিয়াম সদস্য। এছাড়া গত ১২ অক্টোবর এসব লিখিত অভিযোগ গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের কাছে দিয়েছেন তারা।

চিঠিতে স্বাক্ষর করেন গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য মফিজুল ইসলাম খান কামাল, জামাল উদ্দিন আহমেদ, এস এম আলতাফ হোসেন, তোবারক হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম ও স্থায়ী সদস্য অধ্যাপক ডা. এ এ মাহমুদ বীর প্রতীক।

গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বরাবর দুই পৃষ্ঠার লিখিত ওই চিঠিতে স্বাক্ষার করা একজন স্থায়ী সদস্য জানান, তাদের অভিযোগ আমলে নিয়ে শিগগিরই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তারা সারাদেশের কর্মী ও কাউন্সিলরদের ডেকে নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেবেন।

এছাড়া বিক্ষুব্ধরা চিঠিতে উল্লেখ করেন, দলীয় গঠনতন্ত্রবিরোধী স্বেচ্ছাচারী কায়দায় কতিপয় ব্যক্তির স্বার্থে অগণতান্ত্রিকভাবে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন এবং দলীয় আদর্শ ও লক্ষ্য জলাঞ্জলি দিয়ে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তির সঙ্গে ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছে।

মফিজুল ইসলাম খান কামাল পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘আমরা চিঠির মধ্যে দিয়ে সব কথা বলে দিয়েছি। নতুন করে কিছু বলার নেই।’

তিনি বলেন, ‘আজকে যাদের সঙ্গে ঐক্য করা হয়েছে। আমাদের নীতির সঙ্গে এটা যায় না। যা শুরু থেকেই বলে আসছি। কেন ড. কামাল হোসেন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন, তার মুক্তি চাইবেন? এসব অন্য রাজনীতি হচ্ছে, এর সঙ্গে আমরা নাই। বর্তমানেও যে লুটপাট হচ্ছে এসব আমরা সমর্থন করি না। কারণ আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করি। সত্য এবং ন্যায়ের পক্ষে সারাজীবন কথা বলে যাব।’

অধ্যাপক ডা. এ এ মাহমুদ বীর প্রতীক বলেন, আমরা বলেছি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলাই গণফোরামের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। গণফোরাম যে উদ্দেশ্য নিয়ে গঠিত হয়েছিল তাতে বিএনপির সঙ্গে জোট করার কথা না।

কেমন করে গণফোরাম বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করতে পারে উল্লেখ করি তিনি বলেন, ড. কামাল হোসেন কিভাবে খালেদা জিয়াকে জেলখানায় দেখতে যাওয়ার কথা বলতে পারেন? এটা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে গত ২১ অক্টোবর ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের জানানো হয়, খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতে সরকারের কোনো বাধা নেই। এরপর গত ১০ দিনেও দিনক্ষণ ঠিক করতে পারেনি ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।

কারা অধিদপ্তরের সিটিজেন চার্টারে উল্লেখ রয়েছে, আত্মীয়-স্বজনরা বন্দির সাথে ১৫ দিন অন্তর অন্তর একবার করে দেখা করতে পারেন; বন্দিদের সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য জেল সুপার বরাবরে আবেদন করতে হবে। যারা আবেদনপত্র লিখতে সক্ষম নন তাদের সহায়তা করার জন্য রিজার্ভ গার্ডে কর্তব্যরত কর্মচারীর স্লিপের মাধ্যমে দেখা করার সুযোগ পাবেন; নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বে বা পরে দূর-দূরান্ত থেকে আগত সাক্ষাৎ-প্রার্থীদের সাথে বন্দিদের সাক্ষাতের জন্য সাধারণত মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে অনুমতি প্রদান করা হয়; এ সংক্রন্ত বেশ কয়েকটি বিষয় সিটিজেন চার্টারে উল্লেখ রয়েছে।

গত বছর ৮ ফেব্রুয়ারি হতে কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য পহেলা এপ্রিল বিএসএমএমইউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ৬১২ নম্বর কেবিনে তাকে রাখা হয়েছে।

এমএইচ/এসবি

 

পরিবর্তন বিশেষ: আরও পড়ুন

আরও