খালেদার সঙ্গে সাক্ষাতে কামালদের বাধা কোথায়?

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

খালেদার সঙ্গে সাক্ষাতে কামালদের বাধা কোথায়?

মাহমুদুল হাসান ৭:৪৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৬, ২০১৯

খালেদার সঙ্গে সাক্ষাতে কামালদের বাধা কোথায়?

বিএনপি চেয়ারপারসন কারাবন্দি খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয় সরকারের ‘সবুজ সংকেত’ পেলেও দিনক্ষণ ঠিক করতে পারছেন না জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা।

ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনসহ ৫ জন করে দুই দফায় মোট ১০ জন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাবেন।

তবে সেই ১০ জনের নাম এখনও চূড়ান্ত করতে পারেনি ফ্রন্ট।

জানা গেছে, আগামী দুই এক দিনের মধ্যে ড. কামাল হোসেন ও ঐক্যফ্রন্টের মুখমাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ফন্টের নেতারা বৈঠকে বসবেন। বৈঠক থেকেই কারা কারা খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতে যাচ্ছেন তার চূড়ান্ত তালিকা করা হবে। এরপর তা আইজি প্রিজন এবং জেল সুপারকে জানানো হবে।

এদিকে গত কয়েকদিন ধরে ড. কামাল হোসেন অসু্স্থ। তার পায়ের অবস্থা ‘খুবই খারাপ’। ড. কামালকে ছাড়া বিএনপির নেতারাও খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান না। ফলে কবে নাগাদ খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঐক্যফ্রণ্ট নেতারা সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন তাও পরিষ্কার নয়।

ঐক্যফ্রন্টের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক নেতা পরিবর্তন ডটকমকে জানিযেছেন, চলতি সপ্তাহেই দিনক্ষণ ঠিক করা হবে। দুই একের মধ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়ে বৈঠক করে তা চূড়ান্ত করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে গত ২১ অক্টোবর ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের জানানো হয়, খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতে সরকারের কোনো বাধা নেই। এরপর গত ৫ দিনেও দিনক্ষণ ঠিক করতে পারেনি ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।

খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের সাক্ষাৎ কবে নাগাদ হতে পারে এমন প্রসঙ্গে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘এখনও দিন-তারিখ ঠিক হয়নি। গতকাল খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা দেখা করে এসেছেন। আমাদের দেখার বিষয়ে একটু সময় লাগবে। আমরা আইজি প্রিজনের সঙ্গে যোগযোগ রাখছি। ওখান থেকে তারিখটা পেলেই আমরা চূড়ান্তভাবে বলতে পারবো। দুই একদিন সময় লাগবে হয় তো।’ 

ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল জেএসডির সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বলেন, ‘আমাদের নেতা ড. কামাল হোসেন অসুস্থ থাকায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাওয়া হচ্ছে না। কবে যাওয়া হবে, এ ব্যাপারে এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘ড. কামাল হোসেনকে ছাড়া আমরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যেতে চাই না।’

ঐক্যফ্রন্টের দপ্তর সম্পাদক জাঙ্গাহীর আলম মিন্টু পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যাপারে পরিবারের সদস্যরা আগে গুরুত্ব পাবেন। পরিবারের সদস্যরা প্রতি ১০ দিন পর পর সে সুযোগ পান। আমাদের পক্ষ থেকে গত ২২ অক্টোবর আইজি প্রিজন ও জেল সুপারকে জানানো হয়েছে। কিন্তু পরিবারের সদস্যদের দেখার করা সময় সন্নিকটে ছিল। তাই তারা আগে দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন। এক্ষেত্রে এক সঙ্গে একই সপ্তাহে ঐক্যফ্যন্টকে সুযোগ দেয়া হয়নি। জেলকোট অনুযায়ী সেই সুযোগও নাই। তাই আমরা অপেক্ষা করছি।’

আইজি প্রিজন ও জেল সুপারের সঙ্গে দিন-তারিখ ঠিক করা নিয়ে নিয়মিত যোগযোগ রক্ষা করা হচ্ছে বলেও জানান মিন্টু।

গত বছর ৮ ফেব্রুয়ারি হতে কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য পহেলা এপ্রিল বিএসএমএমইউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ৬১২ নম্বর কেবিনে তাকে রাখা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার খালেদা জিয়ার স্বজনরা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। খালেদা জিয়ার মেজ বোন সেলিমা ইসলামের নেতৃত্বে পরিবারের ৬ সদস্য সাক্ষাৎ করেন।

ঘণ্টাব্যাপী খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সেলিমা ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘খালেদা জিয়ার শরীরের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। উনি উঠতে পারছেন না, বসতে পারছেন না, নিজ হাতে কিছু খেতে পারছেন না। চলতে পারছেন না। শুয়ে থাকতেও উনার কষ্ট হচ্ছে। উনার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া দরকার। আমরা উনাকে বিদেশে পাঠাতে চাই।

হাসপাতালে খালেদা জিয়ার কোন চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না অভিযোগ করে সেলিমা ইসলাম বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে চিকিৎসকরা উনাকে দেখতে আসেননি।

বিদেশে যাওয়ার বিষয়ে খালেদা জিয়া কিছু বলেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, উনি বিদেশে যাওয়ার বিষয়ে আমাদের কিছু বলেননি। আমরাই উনাকে বিদেশে পাঠাতে চাই। কারণ এখানে তো চিকিৎসা হচ্ছে না। বরং দিনে দিনে উনার স্বাস্থ্যের অবস্থা আরো খারাপ হচ্ছে। খালেদা জিয়া জামিন পেলেই উন্নত চিকিৎসার জন্য আমরা তাকে বিদেশ পাঠাবো।

এমএইচ/এসবি

 

পরিবর্তন বিশেষ: আরও পড়ুন

আরও