মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগে আসছে নতুন মুখ

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগে আসছে নতুন মুখ

সালাহ উদ্দিন জসিম ১০:০০ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২০, ২০১৯

মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগে আসছে নতুন মুখ

কেন্দ্রের পাশাপাশি আসছে নভেম্বরে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ একযুগ পর সংগঠনটির এই দুই শাখায় আসবে নতুন নেতৃত্ব। এ উপলেক্ষে মহানগর সংগঠনেও বেশ উৎসবের আমেজ। দলীয় অফিসে হাজিরা দেয়ার পাশাপাশি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট দখল করে ব্যানার-ফেস্টুন লাগিয়েছেন প্রার্থীরা। দল চাইছে, পরিচ্ছন্ন ইমেজ ও দুর্দিনের সারথীদের সামনে আনতে। আর নেতাকর্মীদের চাওয়া, কর্মীবান্ধব ও সাবেক ছাত্রনেতাদের।

দলীয় সূত্র বলছে, আসছে ১৬ নভেম্বর কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন। এর আগে ১১ নভেম্বর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও ১২ নভেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তরের সম্মেলন। এগুলো যথাক্রমে ইঞ্জিনীয়ার্স ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশ (আইবি) ও কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (কেআইবি) অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।

ঢাকা মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ এই দুই ইউনিটের সম্মেলন উপলক্ষে পুরো ঢাকাজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। অনেক নেতা সম্মেলন সফল হোক, চেয়ে ব্যানার ফেস্টুন ও পোস্টার করেছেন। অনেকে আবার এসবের বাইরেও পার্টি অফিস ঘিরে শোডাউন ও নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

জানা গেছে, দুই সিটিতে অন্তত দুই ডজন প্রার্থী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ চাইছেন। তাদের মধ্যে ক্লিন ইমেজের, দুর্দিনের পরীক্ষিত ও দক্ষদের হাতে দায়িত্ব দিতে চান কেন্দ্রীয় নেতারা।

এ বিষয়ে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোল্লা মো. আবু কাওছার পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘সাবেক ছাত্রলীগ নেতা যিনি স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন ইমেজের রাজনীতিক, দুর্দিন-দুঃসময়ে পরীক্ষিত, এমন নেতৃত্বকে প্রাধান্য দেয়া হবে।’

দলের এই প্রত্যাশিত শুদ্ধ নেতৃত্বের সন্ধান করে দেখা গেছে, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইসহাক মিয়া, স্বেচ্ছাসেবকলীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সাংগঠনিক সম্পাদক মনোয়ারুল ইসলাম বিপুলসহ অনেকে উত্তর শাখায় এগিয়ে।

এদিকে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগেও সাবেক ছাত্রনেতারা এগিয়ে। এর মধ্যে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কামরুল হাসান রিপন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আনিসুর রহমান সরকার ও সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান রানা এগিয়ে আছেন। এ ছাড়াও স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ হাওলাদার, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান ইরানও তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কামরুল হাসান রিপন বলেন, ‘আমাকে নেত্রী বিরোধী দলে থাকাকালীন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। নেত্রীর আস্থার জবাবে নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়ে দায়িত্ব পালন করেছি। এখানেও নেত্রী আমার ওপর আস্থা রাখলে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হবো।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আনিসুর রহমান সরকারও বললেন একই কথা। পরিবর্তন ডটকমকে তিনি বলেন, ‘আমি প্রার্থী না। আর এখানে প্রার্থী হওয়ার সুযোগও নেই। নেত্রী যদি দায়িত্ব দেন, নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে পালন করবো। যেমনটা করেছি ছাত্রলীগে।’

স্বেচ্ছাসেবকলীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সাংগঠনিক সম্পাদক মনোয়ারুল ইসলাম বিপুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর শুদ্ধি অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে যারা শুদ্ধ রাজনীতি চর্চায় সহাসিকতার সঙ্গে এগিয়ে আসবে, তারাই নেতৃত্বে আসুক, এটা আমরা চাই।’

ছাত্রলীগের সাবেক এ কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে ছাত্রলীগ থেকে বিদায় নেয়ার পর থেকে গত ৯ বছর এই সংগঠনে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছি। কোথাও কোনো গ্যাপ হয়নি, হারিয়েও যাইনি। আমাদের নেতৃবৃন্দ সবই জানেন। তারা যদি দায়িত্ব দেন বিগত দিনের মতোই সক্রিয় থেকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবো।’

স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনকি সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘আগামী দিনে নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আমরা গুরুত্ব দেবো- যাকে নিয়ে কোনো বিতর্ক নাই, নীতি আদর্শের প্রতি নির্ভেজাল, এমন নেতাদের। আমরা চাই, সৎ ও জননেত্রী শেখ হাসিনার সারথী হিসেবে থাকার মতো এবং দীর্ঘদিন এ সংগঠন করে পরীক্ষিত, এমন নেতৃত্ব আসুক। ’

এসইউজে/আরপি

 

পরিবর্তন বিশেষ: আরও পড়ুন

আরও