গণভবনের ‘সান্ত্বনা’ শব্দটি স্বজনহারাদের কাছে ভয়ংকর : রিজভী

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গণভবনের ‘সান্ত্বনা’ শব্দটি স্বজনহারাদের কাছে ভয়ংকর : রিজভী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ২:১১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৮, ২০১৯

গণভবনের ‘সান্ত্বনা’ শব্দটি স্বজনহারাদের কাছে ভয়ংকর : রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আ্যডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, এদেশের জনগণ এখন এই গণভবনের নাম পরিবর্তন করে সেটিকে ‘সান্ত্বনা ভবন’ নামে ডাকতে শুরু করেছে। ডাক্তারের ‘সরি’ শব্দটি যেমন রোগীর স্বজনের কাছে চরম ভয়ংকর, গণভবনের ‘সান্ত্বনা’ শব্দটিও স্বজনহারাদের কাছে তেমনই ভয়ংকর! সান্ত্বনার নামে গণভবনের এই ‘প্রহসন’ যেন দেশবাসীকে আর দেখতে না হয়।

শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে জাতীয়তাবাদী মৎসজীবী দল আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। এরপর রিজভী নেতৃত্বে একটি মিছিল বের করা হয়। নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে আবার বিএনপি অফিসের সামনে মিছিল শেষ হয়। ভারতের সাথে ‘অবৈধ’ চুক্তি ও বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এ পথসভায় করা হয়।

রিজভী বলেন, ‘জনগণ নিশ্চয়ই ভুলে যায়নি যে, ইতোপূর্বে ইলিয়াস আলীর স্ত্রী-সন্তানদেরও গণভবনে ডেকে নিয়ে সান্ত্বনা দেয়া হয়েছিল। তাকে উদ্ধার এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির আশ্বাস দেয়া হয়েছিল। কিন্তু আজও ইলিয়াস আলীর পরিবার তার সন্ধান পায়নি। সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির মা-বাবাও গণভবনের আশ্বাস পেয়েছিলেন। বিশ্বজিৎ এর মা-বাবা, নুসরাতের মা-বাবা, তনুর বাবাকেও গণভবনে ডেকে নিয়ে বিচারের গ্যারান্টি ও সান্ত্বনা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ওইসব মামলার কী পরিণতি হয়েছে দেশবাসী তা ভালো করেই জানে।’

রিজভী বলেন, ‘বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা নিছক একটি হত্যাকাণ্ড নয়। আমাদের রাষ্ট্র, সমাজ ও চিন্তা চেতনায় যে পচন ধরেছে- আবরার হত্যা তারই নগ্ন বহিঃপ্রকাশ।’

তিনি বলেন, ‘আধিপত্যবাদী অপশক্তি এবং তাদের এ দেশীয় দোসরদের বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিক জনগণের আন্দোলনের মূর্ত প্রতীকে পরিণত হয়েছেন শহীদ আবরার ফাহাদ। আবরার ফাহাদ বর্তমান দুরাচার সরকারের বিরুদ্ধে কেবল বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বরই নয়, শহীদ আবরার এখন দেশপ্রেমের প্রতীক।’

রিজভী বলেন, ‘শেখ হাসিনা প্রায়শই তাঁর নিজের স্বজন হারানোর কথা বলে কাঁদেন। স্বজন হারানোর সুবিধাভোগী হিসেবে তিনি কয়েকবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।’

অবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তি দিয়ে সুচিকিৎসার সুযোগ করে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, ‘অন্যথায় তার সকল দায়-দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। জনগণ অন্যায়কারীদের হিসাব রাখছেন। তারা সব কড়ায়-গন্ডায় বুঝে নিবে। জনগণের ধৈর্য ও সহ্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। মিডনাইট ভোট ডাকাতির পর গোটা দেশের ভোট বঞ্চিত মানুষ এমনভাবে ক্ষিপ্ত হয়ে আছে যে, গণবিস্ফোরণ শুরু হলে গণভবনের ইট পাথরও থাকবে না।’

জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম মাহতাবের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব আব্দুর রহিমের সঞ্চালনায় মিছিল ও পথসভায় মৎস্যজীবী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাদিম চৌধুরী, অধ্যক্ষ সেলিম মিয়া, জাকির হোসেন খান, ওমর ফারুক পাটোয়ারী, লোকমান হোসেন হাওলাদার, শাহ আলম, জহিরুল ইসলাম বাশার, এম এ হান্নান, কবির উদ্দিন মাষ্টার, সাইদুল ইসলাম টুলু প্রমুখ।

এমএইচ 

 

রাজনীতি: আরও পড়ুন

আরও