সেবক লীগে নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে যারা

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

সেবক লীগে নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে যারা

সালাহ উদ্দিন জসিম ৯:৪৩ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৭, ২০১৯

সেবক লীগে নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে যারা

মেয়াদের দ্বিগুণেরও বেশি সময় অতিবাহিত করে সম্মেলন করছে স্বেচ্ছাসেবক লীগ। ইতিমধ্যে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটিও করেছে সংগঠনটি। জোর প্রস্তুতি চলছে সম্মেলনের। প্রায় প্রতিদিনই সম্মেলন প্রস্তুতির জন্য গঠিত নানা উপ-কমিটি বৈঠক করে কাজ এগুচ্ছে। নেতা হতেও আছে বেশ দৌড়ঝাঁপ। প্রায় ডজনখানেক নেতা আছেন এই দৌড়ে।

জানা গেছে, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাদের মতো স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাদেরও পিছু ছাড়েনি বিতর্ক। স্বেচ্ছা সেবার জন্য গঠিত হলেও সংগঠনের নেতাদের মনোযোগ নেই এতে। ইতিমধ্যে সংগঠনটির সভাপতি মোল্লা কাওছারের ক্যাসিনো সম্পৃক্ততা ও সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ এমপির পরিবহন বাণিজ্যে ব্যস্ত সময় পার করার খবর সবার মুখে মুখে। এ ছাড়াও সংগঠনটির বেশিরভাগ নেতার টেন্ডার বাণিজ্যসহ নানা কাজে ব্যস্ত থাকার খবর পাওয়া গেছে।

এ কারণে আসন্ন সম্মেলনে স্বোচ্ছাসেবক লীগেও আঁচ পড়বে প্রধানমন্ত্রীর শুদ্ধি অভিযানের। পদায়নে ‘শুদ্ধ’ নেতৃত্ব চাইছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ইতিমধ্যে সে নেতৃত্বের খোঁজে তিনি কাজ করছেন। এতে গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতা করছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।

তথ্যমতে, ১৯৯৪ সালের ২৭ জুলাই ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক নেতাদের সমন্বয়ে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এটির প্রথম কমিটি হয় ১৯৯৭ সালে। ওই কমিটিতে তৎকালীন সংসদ সদস্য মকবুল হোসেনকে আহ্বায়ক করা হয়। পরে ২০০২ সালে প্রথম কাউন্সিলে সভাপতি নির্বাচিত হন বাহাউদ্দিন নাছিম ও সাধারণ সম্পাদক হন পঙ্কজ দেবনাথ। এর দীর্ঘ ১০ বছর পর ২০১২ সালে অ্যাডভোকেট মোল্লা মো. আবু কাওছারকে সভাপতি এবং পঙ্কজ দেবনাথকে সাধারণ সম্পাদক করে ফের কমিটি দেয়া হয়। তিন বছর পর কমিটি করার কথা থাকলেও দ্বিগুণ সময় অতিবাহিত করে আগামী ১৬ নভেম্বর সম্মেলন করছে স্বেচ্ছাসেবক লীগ।

সম্মেলনের খবরে খুশির আমেজে এই সংগঠনের নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রীয় কার্যালয় গুলিস্তান ও আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। এই দুই কার্যালয়ের পাশাপাশি নেতাদের দ্বারেও হাজিরা দিচ্ছেন অনেকে। তাদের উদ্দেশ্য- কেন্দ্রীয় সম্মেলনে নিজেকে প্রার্থী হিসেবে জানান দেয়া।

নেতা হওয়ার তালিকায় আছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ, আফজালুর রহমান বাবু যুগ্ম-সম্পাদক গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আজিম, শেখ সোহেল রানা টিপু, সাজ্জাদ সাকিব বাদশা, আবদুল আলীম, খাইরুল হাসান জুয়েল, দফতর সম্পাদক সালেহ মোহাম্মদ টুটুল।

তবে আফজাল বাবু বর্তমানে অসুস্থ, রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সৎ ও পরিচ্ছন্ন নির্মল রঞ্জন গুহ, আফজালুর রহমান বাবু, ১/১১ এর পরীক্ষিত ছাত্রনেতা শেখ সোহেল রানা টিপু, বিরোধী দলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতৃত্বদানকারী একেএম আজিমসহ কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবকলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের জন্য আওয়ামী লীগ সভাপতির গুডবুকে আছেন। তাদের বিষয়ে আরও খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, গুডবুকের ওই সব নেতা গত ১০ বছরের ক্ষমতায় থাকাকালীন কোনো অনিয়ম-দুর্নীতে জড়াননি। টাকার পেছনে দৌড়াতে গিয়ে ছাত্রজীবনে ধারণ করা আদর্শ বিলিয়ে দেননি। আদর্শিক মানদণ্ডে উত্তীর্ণ সাবেক ছাত্রলীগার ওই নেতাদের নেতৃত্বে আনতে চান আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। 

তবে নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে থাকাদের অন্যতম একেএম আজিম পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘এখানে আমাদের চাওয়া পাওয়া বা প্রার্থিতা বড় নয়। আমাদের আদর্শের বাতিঘর ও আমাদের আবেগের যায়গা জননেত্রী শেখ হাসিনা; তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। আমরা তার চিন্তা ও নির্দেশনা বাস্তবায়ন করি। আমাদের রাজনীতিজুড়েই তিনি। নেত্রী (শেখ হাসিনা) যাকে ভালো মনে করবেন, তার হাতে নেতৃত্ব দেবেন। আমরা তার নেতৃত্বে কাজ করবো।’

১/১১ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সোহেল রানা টিপু বলেন, ‘আগামী দিনে নেত্রী যাকে নেতা বানাবেন, তার নেতৃত্বে আমরা কাজ করবো। তবে আমাদের চাওয়া- দুর্দিনের পরীক্ষিত, দক্ষ, মেধাবী ও পরিচ্ছন্ন ইমেজের কেউ আসুক। ’ 

তবে নেতৃত্ব নির্বাচনের পক্রিয়া নিয়ে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোল্লা মো. আবু কাওছার পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, অতীতে কাউন্সিলররা নেতা নির্বাচনে নেত্রীর ওপর দায়িত্ব ন্যস্ত করেছেন, নেত্রী নাম ঘোষণা করেছেন। এবারও হয়তো প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এমনই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে আমরা চাই, সাবেক ছাত্রলীগ, স্বচ্ছ ও পরীক্ষিত নেতৃত্ব আসুক।

আওয়ামী লীগ নেতারাও বলছেন, এবার মূল দল ও সহযোগী সংগঠনে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির ও পরীক্ষিত সাবেক ছাত্রনেতাদের পদায়ন হবে।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম পরিবর্তন ডটকম বলেন, যাকে নিয়ে কোনো বিতর্ক নাই, নীতি আদর্শের প্রতি নির্ভেজাল, সৎ ও জননেত্রী শেখ হাসিনার সারথী হিসেবে থাকার মতো এবং দীর্ঘদিন এ সংগঠন করে এমন পরীক্ষিতদের মধ্য থেকেই নেতা নির্বাচিত হবে বলে আমার বিশ্বাস।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও জানিয়েছেন, উজ্জ্বল ভাবমূর্তির নেতারাই এবার আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে আসবে।

নেতা যেই আসুক, স্বেচ্ছাসেবক লীগ যেনো নীতি আদর্শ বিসর্জন দিয়ে স্বেচ্ছাসেবা ছেড়ে পদ বাণিজ্য বা অর্থ উপার্জনের মাধ্যম না হয়, সেটাই চান সংগঠনটির সাধারণ কর্মীরা।

এসইউজে/আরপি

 

পরিবর্তন বিশেষ: আরও পড়ুন

আরও