সরকারকে পদত্যাগ করার আহ্বান ড. কামালের

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

সরকারকে পদত্যাগ করার আহ্বান ড. কামালের

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৭:২৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৩, ২০১৯

সরকারকে পদত্যাগ করার আহ্বান ড. কামালের

সরকারকে দ্রুত সরে গিয়ে নির্বাচন দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

রোববার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যার বিচারের দাবি ও নাগরিক শোক র‌্যালি পূর্ব সমাবেশে তিনি একথা বলেন।

সময় থাকতে মাথা ঠাণ্ডা করে সরকারকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়ে ড. কামাল হোসেন বলেন, আপনারা যেগুলো করছেন এসব করে বার বার পার পাওয়া যাবে না। আপনারা দ্রুত সরে যান। দেশের মালিক জনগণ। তাদের হাতে দেশের মালিকানা ফিরিয়ে দেন।

কুষ্টিয়ায় আবরারের বাড়িতে যাওয়ার সময় বিএনপি নেতাদের বাধা দেয়ার প্রসঙ্গ তুলে ড. কামাল হোসেন বলেন, যারা এই বাধা দিচ্ছে সবাই তাদের তালিকা করে রাখেন। এসব সাংবিধানিক অধিকারে বাধা দানকারিদের কড়া শাস্তি হবে।

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরারকে যেভাবে হত্যা করা হলো এরা কি মানুষ প্রশ্ন তুলে ড. কামাল বলেন, এই ছেলেদের আমরা পশু বানাচ্ছি কেন। কারা এদেরকে পশু বানাচ্ছে। বাংলার এই ছেলেরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিল, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল। এরা সৎ সাহসী ছেলে। এদেরকে আপনারা পশু বানিয়েছেন। যারা মানুষকে অমানুষ বানাচ্ছেন, আপনাদের কি শাস্তি হবে সেটা চিন্তা করেন। কোনো ছেলে পশু হয়ে মায়ের পেট থেকে জন্ম নেয় না।

দেশবাসীর উদ্দেশ্যে কামাল হোসেন বলেন, যেসব লোক মানুষকে পশু বানাচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করুন। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। ১৬ কোটি মানুষের দেশ এখানে কতিপয় লোককে রাষ্ট্রক্ষমতার প্রশ্রয় দিয়ে পশু বানানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, যে দলের নামে এখন দেশ শাসন করছে এই দলেতো আমরা সবাই ছিলাম। সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশকে স্বাধীন করেছিলাম। তাজউদ্দীন, নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে। সেই দলের নামে যে কাজগুলো হচ্ছে সেটাতে বঙ্গবন্ধু, তাজউদ্দীন, নজরুল ইসলামকে অসম্মান করা হচ্ছে। অসম্মান করা হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধাদেরকে।

আবরারকে যারা হত্যা করেছে তারা কার আদর্শের অনুসারী প্রশ্ন করে ড. কামাল হোসেন বলেন, যিনি দেশ শাসন করছেন এরা তার আদর্শের অনুসারী। এই কি আপনার আদর্শ? এই যদি আপনার আদর্শ হয়ে থাকে তাহলে আর এক মুহূর্তও আপনার সিংহাসনে থাকা উচিত না।

ড. কামাল বলেন, এই জনসভায় যারা আছেন সবাই বলছেন, আল্লাহর ওয়াস্তে আপনি দেশ শাসন করা থেকে সরে দাঁড়ান। নির্বাচন হোক। দেশকে শাসন করবে দেশের মানুষ। সাধারণ নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে তারা ঠিক করবে কে দেশ শাসন করবে।

২৯-৩০ ডিসেম্বর কি কোনো নির্বাচন হয়েছিল প্রশ্ন করে ড. কামাল বলেন, আপনি যে ৩০ তারিখে বললেন আমাকে তৃতীয়বার নির্বাচিত করার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। কে আপনার ধন্যবাদ গ্রহণ করবে। আমি সাক্ষী দেব তৃতীয়বার আপনাকে কেউ নির্বাচিত করেনি। আপনি নাটক করেছেন, আপনিতো নাটকের কোনো নেত্রী না। আপনি নিজে মিথ্যার শিকার হয়েছেন। এতে ভয়াবহ পরিণতি হয়।

বক্তব্য শেষ করার আগে ড. কামাল হোসেন বলেন, খালেদা জিয়ার বেঁচে থাকা নিয়ে সবাই আশঙ্কা করছেন। তিনি বিরোধী দলের নেতা ও তিনবার দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। অসুস্থ হওয়ার পরে ওনাকে মুক্ত করা হবে না, তিনি চিকিৎসা পাবেন না এটা আমাদের সভ্যতা ও সংবিধান বিরোধী। আমি তার মুক্তির বিষয়ে সবার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করছি।

নাগরিক ঐক্যর আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দফতর প্রধান জাহাঙ্গীর আলম মিন্টুর পরিচালনায় শোক র‌্যালি পূর্ব সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন, জেএসডির সভাপতি আসম আব্দুর রব, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, জেএসডি সহসভাপতি তানিয়া রব, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, নাগরিক ঐক্যর উপদেষ্টা এসএম আকরাম, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, সুব্রত চৌধুরী, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সহসভাপতি নবী উল্লা নবী, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার প্রমুখ।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আগামী ১৮ অক্টোবর আবরার হত্যার প্রতিবাদে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে রাজধানীর যেকোনো স্থানে নাগরিক শোকসভা হবে।

পরে একটি শোক র‌্যালি প্রেসক্লাব থেকে শুরু হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের দিকে যেতে চাইলে পুলিশ হাইকোর্ট মোড়ে তাদের আটকে দেয়। সেখানে দাঁড়িয়ে জেএসডি সভাপতি আসম আব্দুর রব বলেন, আবরার হত্যার প্রতিবাদে আগামী ২২ অক্টোবর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নাগরিক সভা হবে।

এমএইচ/এসবি

 

রাজনীতি: আরও পড়ুন

আরও