দেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করেছে সরকার: ফখরুল

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৪ কার্তিক ১৪২৬

দেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করেছে সরকার: ফখরুল

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ২:০৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৯

দেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করেছে সরকার: ফখরুল

সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে তৃণমূল পর্যন্ত পুরোপুরি দুর্নীতিতে নিমজ্জিত বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, গত কয়েকদিনের অভিযানে তা প্রমাণ হয়েছে এবং দেশের মানুষ সেটি দেখছে। কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বেরিয়ে আসছে। সরকার দায় এড়াতে এখন বিএনপিকে জড়াচ্ছে।

শনিবার সকালে নবনির্বাচিত ছাত্রদলের নেতাদের নিয়ে দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার আকণ্ঠ নিমজ্জিত হয়েছে দুর্নীতিতে। তাদের একেবারে উচ্চ পর্যায় থেকে তৃণমূলের কর্মী পর্যন্ত দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। তারই কিছু প্রমাণ আপনারা গত কয়েকদিন ধরে দেখছেন।

তিনি বলেন, ঢাকা মহানগর থেকে শুরু করে যুবলীগ, ছাত্রলীগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পর্যন্ত সবখানেই তারা আজকে যে ভয়াবহ আকারে দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এটা দেশের জন্য, জনগণের জন্য অত্যন্ত ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে।

তিনি আরও বলেন, জুয়ার আখড়া বন্ধে গত কয়েকদিনে র‌্যাবের অভিযানে যুবলীগের বিভিন্ন নেতার সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে এসেছে। তার আগে চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠায় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে পদচ্যুত করা হয়।

জুয়ার আখড়ায় সম্পৃক্তদের আগে বিএনপির সহযোগী সংগঠন যুবদলে যুক্ত থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে, যা বলছেন আওয়ামী লীগের নেতারাও। এ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই ধরনের কথা-বার্তা বলে তো লাভ নেই। দেশের মানুষ বোঝে। এটা তারা এড়িয়ে যেতে চায়। আপনারা দেখছেন, ধর্মের কল বাতাসে নড়তে শুরু করেছে।

ক্যাসিনো ব্যবসা বিএনপির আমলেই শুরু হয়েছে- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ফখরুল বলেন, উনাকে জিজ্ঞাস করেন তো এটা (ক্যাসিনো) পত্র-পত্রিকায় কখনও সামনে এসেছে? বিএনপির আমলে তো কখনও মিডিয়াতে আসেনি।

তিনি বলেন, আজকে পত্র-পত্রিকা, টেলিভিশনে যেভাবে এসেছে, এতে প্রমাণ হয়ে গেছে যে, আওয়ামী লীগ সরকার শুধু দুর্নীতি নয়, তারা বাংলাদেশের যে রাজনৈতিক কাঠমো তা ভেঙে ফেলছে, সামাজিক কাঠামো তা ভেঙে ফেলছে এবং এদেশকে সত্যিকার অর্থে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করেছে।

ছাত্রদলের কাউন্সিল আয়োজন করা হয় গত বুধবার। তাতে ফজলুর রহমান খোকন সভাপতি এবং ইকবাল হোসেন শ্যামল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

ছাত্রদলের কাউন্সিলের অর্জন কী- প্রশ্ন করা হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আপনারা নিজেরাই দেখলেন, সরকারের সমস্ত ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত ভেদ করে, আদালতকে তারা (সরকার) ব্যবহার করার চেষ্টা করেছে। অত্যন্ত সফলভাবে ছাত্রদলের কাউন্সিল হয়েছে। নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে এই কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে।

ছাত্রদলের নবনির্বাচিত দুই নেতাসহ সংগঠনের সাবেক ও বর্তমান নেতা-কর্মীদের জিয়ার কবরের সামনে আন্দোলনের শপথ করান ফখরুল।

এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভুইয়া, বিশেষ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন, যুগ্ম সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজুলুর রহমান মিলন, প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপি নেতা কামরুজ্জামান রতন, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আজিজুল বারী হেলাল, আমিরুল ইসলাম খান আলীম, শহিদুল ইসলাম বাবুল, আবদুল আউয়াল খান, সাইফুল আলম নিরব, শফিউল বারী বাবু, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মোরতাজুল করীম বাদরু, আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, ইয়াসীন আলী, হাবিবুর রশীদ হাবিব, রাজীব আহসান, আকরামুল হাসান।

এমএইচ/আরপি

 

রাজনীতি: আরও পড়ুন

আরও