ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদককে অপসারণে মুখোশ খুলে গেছে: মওদুদ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯ | ২ কার্তিক ১৪২৬

ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদককে অপসারণে মুখোশ খুলে গেছে: মওদুদ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ২:১২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯

ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদককে অপসারণে মুখোশ খুলে গেছে: মওদুদ

যুবলীগ ও ছাত্রলীগ গত ১০ বছর যে অত্যাচার নির্যাতন, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি করেছে ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদককে অপসারণ করার মাধ্যমে সম্পূর্ণভাবে তাদের মুখোশ খুলে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স  বাংলাদেশ (অ্যাব) আয়োজিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

মওদুদ  বলেন, 'আজকে বিরোধী দল নাই, তার পরেও সরকার এমন অবস্থায় পড়েছে তাদেরকে বাধ্য হয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদককে অপসারণ করতে হয়েছে। কারণ ঘুষের জন্য তারা দুর্নীতি করেছে সেজন্য। সরকার নাকি একটি তালিকা বের করেছে সেখানে লেখা আছে ৫০০ জন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা চাঁদাবাজি করছে।’

তিনি বলেন, এটা ৫০০ নয় ৫০০০ হবে বা তার চেয়ে বেশি হবে। এটার মাধ্যমে (সভাপতি-সম্পাদককে অপসারণের মাধ্যমর) কী বুঝানো হয়েছে, সরকার পরিষ্কারভাবে বুঝাতে সক্ষম হয়েছে ছাত্রলীগ-যুবলীগ সারাদেশে চাঁদাবাজি টেন্ডারবাজি করে মানুষের ওপর অত্যাচার নির্যাতন করে জমি দখল করে মানুষকে গুম করে টাকা নেয় এই ধরনের কথা আজকে তারা প্রমাণ করেছেন।

মওদুদ বলেন, 'এই সরকার একটি অসাংবিধানিক সরকার। কারণ তারা সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন বলতে যা বোঝায় সেই নির্বাচনের মাধ্যমে তারা নির্বাচিত হয়নি। তারা সত্যিকার অর্থে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না। জনগণের প্রতিনিধিত্ব যেহেতু তারা করে না সেজন্য এই সরকার পরিচালনা করার সাংবিধানিক ক্ষমতা তাদের নেই। কিন্তু তার পরেও তারা জোর করে ক্ষমতায় টিকে আছেন। একেবারে বিরোধী দলকে নিষ্পেষিত করার মাধ্যমে এক দলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছে। যেহেতু তাদের জবাবদিহিতা নেই সেজন্য দুর্নীতি আজকে সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, 'কয়েকদিন আগে খবরের কাগজে দেখলাম, দৈনিক নাকি ৭৫ হাজার কোটি টাকা বিদেশে চলে যাচ্ছে। এটা কাদের টাকা এটা জনগণের টাকা। যারা দুর্নীতি করেছেন যাই স্মাগলিং করেছেন অবৈধভাবে টাকা উপার্জন করেছেন তাদেরই টাকা বিদেশে পাচার করা হচ্ছে সংবিধান লংঘন করে। আজকে দুর্নীতি সর্বকালের সর্ব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে এই সরকারের সময়ে। অর্থাৎ এমন কোনো জায়গা নেই যেটি দুর্নীতিমুক্ত।’

সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে বাংলাদেশ একটি বিরাট সংকটের সম্মুখীন হয়েছে বলে মনে করেন সাবেক এই আইনমন্ত্রী।

তিনি বলেন, 'রোহিঙ্গা সংকট এই সরকারের সৃষ্টি, রোহিঙ্গা সংকটের জন্য এই সরকারই সম্পূর্ণরূপে দায়ী। তাদের কূটনৈতিক ব্যর্থতার কারণে ১১ লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশের মাটিতে রয়েছে। এখন পর্যন্ত তারা একজন রোহিঙ্গাকেও দেশে ফেরত পাঠাতে পারেনি। এই সরকার যেহেতু একটি নতজানু সরকার তাই তাদের পক্ষে রোহিঙ্গা ইস্যুতে কখনো তারা সফল হতে পারবেন না। কারণ তারা দুর্বল, তাদের শক্তি নাই, জনগণের সমর্থন তাদের নাই।’

আইনি প্রক্রিয়ায় বেগম জিয়াকে মুক্ত করা সম্ভব নয় জানিয়ে মওদুদ বলেন, 'আমরা অনেক চেষ্টা করেছি এক বছর সাত মাস তিনি আজকে কারাগারে বন্দি একটি বানোয়াট মিথ্যা মামলায় তাকে সাজা দেয়া হয়েছে। তার শরীর খুবই খারাপ, কিন্তু তার পরেও এই অমানবিক সরকার সরকার বিভিন্ন কৌশলে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিশেষ করে নিম্ন আদালত এখন সম্পূর্ণরূপে প্রশাসনের অধীনে কাজ করে। সেই কারণে আজও পর্যন্ত আমরা বেগম খালেদা জিয়ার জামিন নিশ্চিত করতে পারিনি।’

মানববন্ধনের অংশ নেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া, সহ-প্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, সহ-তথ্য বিষয়ক সম্পাদক সাংবাদিক নেতা কাদের গনি চৌধুরী প্রমুখ।

এমএইচ/আরপি

 

রাজনীতি: আরও পড়ুন

আরও