শোভন-রাব্বানীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ায় ‘খুশি’ ফখরুল

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯ | ২ কার্তিক ১৪২৬

শোভন-রাব্বানীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ায় ‘খুশি’ ফখরুল

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৬:৪৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯

শোভন-রাব্বানীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ায় ‘খুশি’ ফখরুল

'ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদককে বাদ দেওয়ায় প্রমাণিত হয়েছে যে দেশে দুর্নীতি কি আকারে চলছে' এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একইসঙ্গে তিনি বলেন, 'তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় আমরা খুশি হয়েছি।'

রোববার বিকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বাদ দেওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এতে এটাই প্রমাণ হয়েছে যে দেশে কি হারে দুর্নীতি চলছে। একটা শুধুমাত্র একটা প্রকাশ হয়েছে। যাতে একটা সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে বহিষ্কার করতে হয়েছে আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং দেশের প্রধানমন্ত্রীকে। এমন সারাদেশেই চলছে, এতে প্রমাণ হয়েছে যে দুর্নীতি কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে।

তিনি বলেন, একেকটি সংগঠনের গঠনতন্ত্র আছে। ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র সম্পর্কে যতটুকু জানি তাদের সংগঠনের নেত্রী হলেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী। তিনি সাংগঠনিক অভিভাবক। এখানে বহিষ্কারের কি বিধান আছে সেটা আমার জানা নেই। তবে সাংগঠনিক নেত্রী হিসেবে তিনি ব্যবস্থা নিতে পারেন। পদত্যাগ করতে বলেছেন, তারা পদত্যাগ করেছেন এখানে জটিলতার কিছু নেই।

ছাত্রদলের কাউন্সিল বন্ধের বিষয়ে অপর এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, আইন দিয়ে রাজনীতি হয় না। আমি আগেও বলেছি, রাজনীতিকে যে আদালত দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা হয় সেখানেই আমাদের আপত্তি। এটা একটা নজিরবিহীন ঘটনা যে একটা রাজনৈতিক দলের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে আদালত। আবার সেটা সরকারই করাচ্ছে। সরকারের উদ্যোগেই হচ্ছে। এতে প্রমাণ করে যে এই সরকার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, বিরোধীদলেও বিশ্বাস করে না।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রের মূল মন্ত্রই হচ্ছে জনগণ আর দেশের জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব যা একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়ে থাকে। যার মাধ্যমে দেশে একটা প্রতিনিধিত্বশীল সরকার গঠিত হয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশে আজ দুটিই অনুপস্থিত। আশির দশক থেকে শুরু করে গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যিনি বার বার গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন, তিনি আজ মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি। বিশ্ব গণতন্ত্র দিবসে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এর চেয়ে বড় প্রহসন আর কি হতে পারে। ২০০৭ সালে যে বছর গণতন্ত্র দিবস পালন শুরু হয় সেই বছরই এক এগারোর সেনাসমর্থিত সরকার আসে। সেদিন থেকেই বাংলাদেশে গণতন্ত্রহীনতা শুরু হয়।

তিনি বলেন, আজকে আমরা জনগণকে বলতে চাই, গণতন্ত্র দিবসকে সামনে রেখে আসুন দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি, গণতন্ত্র মুক্তি, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করা ও উদার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাষ্ট্র বিনির্মাণ করি। এ লক্ষ্যে দলমত-বর্ণ নির্বিশেষে মুক্তিযুদ্ধে যে গণতান্ত্রিক চেতনার জন্যে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম, সেই চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাই। ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের মধ্যে দিয়েই আমরা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণে বদ্ধ পরিকর।

এসময় দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, দেশে দুই ধরণের আইন চলছে। একটা সরকারি দলের জন্য। অন্যটা বিরোধীদের জন্য। যেমন আমরা দেখেছি ওয়ান ইলেভেনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ২১টি মামলা ছিল। একটি মামলাও এখন নাই। একই ধরণের মামলা যেসব বিএনপি নেতাদের নামে ছিল সেগুলো এখনও ট্রায়াল চলছে। দেশে যদি একটা আইন থাকতো তাহলে আজকে প্রধানমন্ত্রীও ট্রায়াল ফেস করতেন। 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ।

এমএইচ

 

রাজনীতি: আরও পড়ুন

আরও