ছাত্রদলের কাউন্সিল স্থগিতের মামলাকারী কে এই আমান?

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৪ কার্তিক ১৪২৬

ছাত্রদলের কাউন্সিল স্থগিতের মামলাকারী কে এই আমান?

মাহমুদুল হাসান ৭:৫০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৯

ছাত্রদলের কাউন্সিল স্থগিতের মামলাকারী কে এই আমান?

ছাত্রদলের কাউন্সিল ও নির্বাচন স্থগিতের পর বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী গঠনগুলোর নেতাকর্মীদের মধ্যে শুরু হয়েছে কাদা ছোড়াছুড়ি। সংগঠনটির এক গ্রুপ আরেক গ্রুপের বিরুদ্ধে দায় চাপানো চেষ্টায় মরিয়া।

সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রদলের পর যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কমিটি হবে। দলের হাইকমান্ড প্রতিটি সংগঠনের কমিটিই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। ওইসব সংগঠন ও কমিটিতে পদপ্রত্যাশীদের অনুসারীদের মধ্যেই এই কাদা ছোড়াছুড়ি।

আজ শনিবার ছাত্রদলের কাউন্সিল এবং শীর্ষ দুই পদ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনের কথা ছিল। ছাত্রদলের কাউন্সিলে সভাপতি পদে ৯ জন, সাধারণ সম্পাদক পদে ১৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ছিলেন। এই কাউন্সিলে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য ৫৩৩ জন কাউন্সিলর তাদের ভোট প্রয়োগ করতে পারবেন।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তারা কার্ড গ্রহণ করেন। কিন্তু ওই দিনই বিকালে হঠাৎ করেই আদালতের নির্দেশে এ কাউন্সিল ও নির্বাচনটি স্থগিত করতে বাধ্য হয় বিএনপি।

সদ্য বিলুপ্ত ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। কাউন্সিল স্থগিত হওয়ার পরই আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠে বিএনপিতে। কে এই আমান, কার অনুসারী, তার বাড়িই বা কোথায়?

ছাত্রদল সূত্রে জানা গেছে, আমানউল্লান আমানের বাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায়। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা আলিয়া মাদরাসায়।

জানা গেছে, ২০০৯ সালের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও আমিরুল ইসলাম আলীম কমিটি ঘোষণার পর ওই কমিটির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে কমিটিতে স্থান না পাওয়া ছাত্রদলের একটি গ্রুপ। নরসিংদী অঞ্চলের এক নেতা মূলত ওই বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেন। তখন এই আমান সেই বিদ্রোহে তার গ্রুপে যোগ দিয়ে বিদ্রোহে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়। এরপর ওই নেতার গ্রুপেই ছিলেন তিনি।

পরে ২০১২ সালের আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল-হাবিবুর রশীদ হাবিবের নেতৃত্বে কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটিতে আমান পদ না পেয়ে বরিশাল অঞ্চলের এক নেতার গ্রুপে যোগ দেয়। এরপর কিছুদিন সে ওই গ্রুপেই সক্রিয় থাকে।

২০১৪ সালের রাজিব আহসান ও আকরামুল হাসান মিন্টুর নেতৃত্বে ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। তখন আমান আবার নরসিংদী গ্রুপে যোগ দেয়। এবার সে সফলও হয়। রাজিব-আকরাম কমিটিতে তাকে সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক করা হয়।

এছাড়াও আমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের প্রভাবশালী এক নেতার সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা রক্ষা করে চলতেন বলে ছাত্রদল সূত্রে জানা যাচ্ছে।

তবে, আমানের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সফল হওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জানান, মামলার আগ থেকেই তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। এখনও তার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।

ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটির একজন যুগ্ম সম্পাদক বলেন, আমান ঢাকা সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা থেকে দাখিল ও আলিম পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগে পড়াশোনা করেছেন বলে পরিচয় দিতেন। বিভিন্ন সময়ে মাজার কেন্দ্রিক ওরসে যাতায়াত ছিল তার। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন গ্রুপে তাকে দেখা গেলেও কার্যত ছাত্রদলের কোনো গ্রুপেই সে স্থির থাকেনি। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন গ্রুপে যোগ দিয়েছেন।

ছাত্রদলের এ নির্বাচন স্থগিতে আদালতের নির্দেশকে সরকারের ‘গভীর ষড়যন্ত্র’ হিসেবেই দেখছে বিএনপি। দলের নেতাদের বক্তব্য, ছাত্রদলের কাউন্সিল ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে সংগঠন গুছিয়ে বিএনপি ঘুরে দাঁড়ানোকে ব্যাহত করতেই সরকার এ ষড়যন্ত্র করেছে।

বৃহস্পতিবার এক মামলায় কাউন্সিলের ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ দেন ঢাকার চতুর্থ সহকারী জজ আদালত। এই আদেশের পর থেকে ছাত্রদলসহ বিএনপি নেতাদের মধ্যে আমানই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। সন্দেহ করা হচ্ছে, আমান মামলা করলেও এই মামলার পেছনে ছাত্রদলের সাবেক কয়েক নেতা ও বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কোনো নেতারও ইন্ধন থাকতে পারে।

আইনি লড়াই চালিয়ে স্থগিতাদেশ তোলার পরই ছাত্রদলের কাউন্সিল আয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু বলেন, আমরা আদালত যাব, এটা সিদ্ধান্ত হয়েছে। স্থগিতাদেশের বিষয়টি ফয়সালা হলে কাউন্সিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কাউন্সিলের ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা ‘সরকারের মাস্টারপ্ল্যানে’র অংশ বলে অভিযোগ করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আমানউল্লাহর দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রদলের কাউন্সিল স্থগিতাদেশ সম্পূর্ণরূপে অযৌক্তিক। কারণ ছাত্রদলের সাবেক ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আমান উল্লাহ আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য কাউন্সিলে প্রতিযোগী ছিলেন না এবং প্রতিযোগিতার জন্য আবেদন করেননি কিংবা তিনি কাউন্সিলরও নন।

এমএইচ/এসবি

 

রাজনীতি: আরও পড়ুন

আরও