ছাত্রদলের সম্মেলনে হিসাব-নিকাশে কাউন্সিলররা

ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

ছাত্রদলের সম্মেলনে হিসাব-নিকাশে কাউন্সিলররা

মাহমুদুল হাসান ৯:২৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯

ছাত্রদলের সম্মেলনে হিসাব-নিকাশে কাউন্সিলররা

মাত্র ২৪ ঘণ্টা পরই শেষ হচ্ছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা। শেষ মুহূর্তে প্রার্থীরা যাচ্ছেন কাউন্সিলরদের কাছে, দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতিও।

কিন্তু কাউন্সিলররাও যোগ্য নেতা নির্বাচনে কষছেন নানা হিসাব-নিকাশ। তারা পোড় খাওয়া ত্যাগী নেতা নির্বাচন করতে চান বলে একাধিক কাউন্সিলরের সাথে কথা বলে জানা গেছে।

নেয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি কাউন্সিলর আজগর উদ্দীন দুখু বলেন, সম্মেলনকে ঘিরে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে তৃণমূলের একটা সেতুবন্ধন তৈরি হয়েছে। এটা ভবিষ্যতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করবে।

তিনি বলেন, আমরা অতীতের ত্যাগ ও নেতৃত্বে গুণাবলি দেখে নেতা নির্বাচন করবো। যিনি সংগঠনের নেতৃত্ব দিতে পারবেন।

আরেক কাউন্সিলর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শেখ মো. হাফিজুর রহমান বলেন, অতীতের আন্দোলনের প্রোফাইল দেখেই নেতা নির্বাচন করবো। কাউন্সিলরদের ভোটের মাধ্যমে সঠিক নেতৃত্ব বের হয়ে আসবে বলে তার দৃঢ় বিশ্বাস।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে ২টা পর্যন্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। তাই ১২ সেপ্টেম্বর মধ্য রাত পর্যন্ত প্রার্থীরা প্রচার চালাতে পারবেন।

সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এ দুটি পদে নির্বাচনে অংশ নেবেন সংগঠনটির সারাদেশের ১১৭টি ইউনিটের ৫৩৩ জন কাউন্সিলর।

শীর্ষ এই দুটি পদের মধ্যে সভাপতি পদে ৯ জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ১৯ জন বৈধ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যাদের বেশিরভাগই ছাত্র রাজনীতির তীর্থস্থান খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা।

নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন যারা

ছাত্রদলের সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, হাফিজুর রহমান, মো. ফজলুর রহমান খোকন, মাহমুদুল হাসান বাপ্পী, রিয়াদ মো. তানভীর রেজা রুবেল, মো. এরশাদ খান,  এসএম সাজিদ হাসান বাবু, এবিএম মাহমুদ আলম সরদার ও মো. মামুন খান।

সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শাহ নাওয়াজ, মোস্তাফিজুর রহমান, তানজিল হাসান, জুয়েল হাওলাদার (সাইফ মাহমুদ জুয়েল), আমিনুর রহমান আমিন, শেখ আবু তাহের, জাকিরুল ইসলাম জাকির, মোহাম্মদ কারিমুল হাই (নাঈম), মাজেদুল ইসলাম রুমন, ডালিয়া রহমান, সাদিকুর রহমান, কেএম সাখাওয়াত হোসাইন, সিরাজুল ইসলাম, মো. ইকবাল হোসেন শ্যামল, মুন্সি আনিসুর রহমান, মো. মিজানুর রহমান শরিফ, শেখ মো. মশিউর রহমান রনি, সোহেল রানা ও কাজী মাজহারুল ইসলাম।

যশোরের সন্তান সভাপতি প্রার্থী কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, পারিবারের বাইরে গিয়ে আমি ভিন্ন মতার্দশের রাজনীতি করছি। আশাকরি কাউন্সিলররা আমার ত্যাগ বিবেচনায় নিবেন।

আরেক সভাপতি প্রার্থী বাগেরহাটের সন্তান হাফিজুর রহমান পরিবর্তন ডটকমকে জানান, ছাত্র রাজনীতির কারণে বারবার হামলার শিকার হয়েছেন। বিগত সব আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় থেকেছেন। তার বিশ্বাস কাউন্সিলররা সঠিক নেতৃত্ব বাছাই করবে।

সভাপতি প্রার্থী উত্তরাঞ্চলের বিএনপির নেতাদের ‘আস্থাভাজন’ ফজলুর রহমান খোকন- সিন্ডিকেট ও আঞ্চলিক দুই হিসেবেই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন। জয়ের ব্যাপারে তিনিও আশাবাদী।

সাধারণ সম্পাদক পদে বিএনপির অন্যতম ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত নোয়াখালী জেলার ছেলে শাহ নাওয়াজ। সূর্যসেন হলের এই শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি ভোট পেতে ভোটারদের কাছে ছুটছেন। চূড়ান্ত বিচারের ভার তিনি কাউন্সিলরদের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন।

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রথম নারী সাধারণ সম্পাদক হতে চান ডালিয়া রহমান। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কোথাও গেলে তার গাড়িবহরের সঙ্গে স্কুটি নিয়ে থাকতেন ডালিয়া। তিনি খালেদা জিয়ার ‘স্কুটি সঙ্গী’ হিসেবে বেশ পরিচিত মুখ। সাধারণ সম্পাদক পদে তিনি নির্বাচিত হলে প্রথমবারের মত ছাত্রদলে ইতিহাস সৃষ্টি হবে।  

ডালিয়া রহমান বলেন, কাউন্সিলররা আমার অতীতে রাজনীতির অবদান বিবেচনার নিয়ে ভোট দিবেন বলে আমি আশাবাদী।

গত ১৫ জুলাই ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের দিন ঘোষণা করা হয়েছিল। সে সময় বলা হয়েছিল, ২০০০ সালের আগে যারা এসএসসি পাস করেছে, তারা কাউন্সিলে প্রার্থী হতে পারবে না।

তখন এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ছাত্রদলের একাংশ বিদ্রোহ শুরু করেন। বাদ পড়া নেতারা বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয় সামনে টানা বিক্ষোভ ও ভাংচুরের মতো ঘটনাও ঘটান। ফলে ১৫ জুলাই কাউন্সিল করতে ব্যর্থ হন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।

এমএইচ/এসবি
আরও পড়ুন...
ছাত্রদলের কাউন্সিল: ‘বড় ভাই’ সিন্ডিকেট শঙ্কা

 

রাজনীতি: আরও পড়ুন

আরও