‘চিরকৃতজ্ঞ’ রুমিন নিয়ে কী ভাবছে বিএনপি?

ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

‘চিরকৃতজ্ঞ’ রুমিন নিয়ে কী ভাবছে বিএনপি?

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৮:৩৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৫, ২০১৯

‘চিরকৃতজ্ঞ’ রুমিন নিয়ে কী ভাবছে বিএনপি?

গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী বরাবর ১০ কাঠার প্লটের জন্য আবেদন জানিয়ে সেটি পেলে ‘চিরকৃতজ্ঞ’ থাকবেন বলে উল্লেখ করেছেন বিএনপি দলীয় সংরক্ষিত এমপি ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

গত ৩ আগস্ট রুমিন ফারহানার স্বাক্ষরে সংসদ সদস্যের প্যাডে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী বরাবর চিঠিটি পাঠানো হয়।

সেখানে বলা হয়, ঢাকা শহরে তার নামে কোনো ফ্ল্যাট বা জমি নেই। ওকালতি ছাড়া তার অন্য আর কোনো ব্যবসা বা পেশা নেই। এজন্য ঢাকার পূর্বাচল আবাসিক এলাকায় তার ১০ কাঠার একটি প্লট প্রয়োজন।

‘এমতাবস্থায়, আপনার নিকট আমার আবেদন, আমার নামে ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দ করলে আমি আপনার কাছে ‘চিরকৃতজ্ঞ’ থাকব।’

একাদশ জাতীয় সংসদকে ‘অবৈধ’ বলে আসা রুমিন ফারহানা সংরক্ষিত আসনের এমপি হিসেবে নিজেই সংসদে যোগ দেয়ার পর বিষয়টি আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

সংসদে যোগ দিয়ে প্রথম দিনের বক্তৃতাতেও এ সংসদ ও সরকারকে ‘অবৈধ’ আখ্যায়িত করেন বিএনপির এই আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক।

সংসদে যোগ দেয়ার দুই মাসের মাথায় নিজেই এমপি হিসেবে প্লটের আবেদন করা এবং সেটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর তাকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে।

এই সমালোচনায় রুমিন ফারহানার দলের নেতারাও রয়েছেন। তারা প্লট চাওয়াকে রুমিনের ‘ডাবলস্টান্ডার্ড’ নীতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তবে রুমিন ফারহানার প্রয়াত বাবা ভাষাসৈনিক অলি আহাদের দল ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি বলেছেন, আবেদনে ঢাকা শহরে কোনো জায়গা/ফ্ল্যাট, জমি নেই বলে রুমিন যে তথ্য দিয়েছেন, তা সঠিক নয়।

পরিবর্তন ডটকমকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের এই নেতা বলেন, ‘রুমিনের নামে লালমাটিয়ার ৩/৩/বি-তে একটি প্লট আছে। ১৯৭৩ সালে সরকার থেকে দেয়া ওই প্লটটি নিয়ে অলি আহাদ সাহেবের ভাগ্নে সাহিদ হাসান মিহিরের পরিবারের সঙ্গে ঝামেলাও হয়েছিল। বিএনপি ক্ষমতাসীন হওয়ার পর সিটি মেয়র মির্জা আব্বাস ও পরে সাদেক হোসেন খোকা মিলে কাগজপত্র করে আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা কহিনুরের মাধ্যমে প্লটটির দখল রুমিনকে বুঝে দেয়া হয়।’

সাইফুদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, ‘অলি আহাদের স্ত্রী রাশেদা বেগম ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের মহাপরিচালক। তিনি তার পৌত্রিক সূত্রে ধানমন্ডির বাড়িটি পেয়েছেন। যেহেতু অলি-রাশেদা দম্পতির অন্য কোনো সন্তান নেই, তাই বাড়িটির উত্তরাধিকার রুমিন। এটি ছাড়াও রুমিনদের চট্টগ্রামের ষোলোশহরে একটি প্লট আছে।’

আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘অলি আহাদ সব সময় লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে রাজনীতি করেছিলেন। কিন্তু, মেয়ে বাবার ধারকাছেও যেতে পারলেন না। যে সংসদ ও সরকারকে অবৈধ বলা হল, সেখান থেকে কোনো সুবিধা নেয়া নৈতিকতাবিরোধী। রাজনৈতিক শিষ্টাচারের সঙ্গে বেমানান।’

অবশ্য একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের প্রার্থী হওয়ার হলফনামাতেও রুমিন ফারহানা তার মায়ের কাছ থেকে পাওয়া ১৮৫০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট থাকার তথ্য দিয়েছেন।

প্লট আবেদনের পক্ষে সাফাই গেয়ে রুমিন ফারহানা বলেছেন, এটি তার রাষ্ট্রপ্রদত্ত সুবিধা, যেমনটি বাকি এমপিরাও পেয়ে থাকেন।

তিনি আরও দাবি করেন, সরকার বা আওয়ামী লীগের কাছে তিনি কিছু চাননি। রাষ্ট্রের কাছে প্রাপ্ত অধিকার বিষয়ে আবেদন করেছেন, যা একটি প্রক্রিয়ামাত্র।

রুমিনের বক্তব্যে দ্বিমত করে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘চিরকৃতজ্ঞ’ থাকার যে কথা রুমিন বলেছেন, তা নিয়ে আমরা মন্তব্য নেই। বিষয়টি নিয়ে অবশ্যই বিএনপির মুখপাত্র তার অবস্থান তুলে ধরবেন। তবে সবকিছুর বাইরেও রাজনৈতিক ‘শিষ্টাচার’ বলে একটি শব্দ আছে, যেটি অভিজ্ঞতায় তরুণ হওয়ায় রুমিন হয়তো বুঝতে পারেননি।

এ বিষয়ে বিএনপির স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক ও মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘রুমিন সংসদে যোগ দিয়ে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে যেসব বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে দলের নেতাকর্মীরা কিছুটা হলেও উজ্জীবিত হয়েছিলেন। কিন্তু, অবৈধ সরকারের কাছে ব্যক্তিগত সুবিধা চাওয়ায় অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে আমাদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে আমরাও বিব্রত।’

তবে রুমিন ফারহানাকে সমর্থন করে বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘রুমিন ফারহানা সংসদ সদস্য হিসেবে প্লট চেয়ে আবেদন করতেই পারেন। এতে দোষের কিছু দেখি না। সরকারি প্লট পাওয়া তার অধিকার। তিনি তো আওয়ামী লীগের কাছে কিছু চাননি। এ নিয়ে জলঘোলার কিছু নেই।’

এমএইচ/আইএম

 

রাজনীতি: আরও পড়ুন

আরও