অধ্যাপক মোজাফফরকে ফুলেল শ্রদ্ধা

ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

অধ্যাপক মোজাফফরকে ফুলেল শ্রদ্ধা

ঢাবি প্রতিনিধি ৪:৪৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৪, ২০১৯

অধ্যাপক মোজাফফরকে ফুলেল শ্রদ্ধা

বরেণ্য রাজনীতিক ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) সভাপতি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদকে শেষ শ্রদ্ধা জানালেন সর্বস্তরের মানুষ।

সর্বস্তরের মানুষের শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য আজ শনিবার দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের মরদেহ আনা হয়।

শনিবার সকালে প্রথমে সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে জানাজা হয় সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোজাফফরের; সেখানে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানোও হয়। পরে মরদেহ নেওয়া হয় ধানমন্ডিতে ন্যাপের কেন্দ্রীয় কার্যালয়।

সেখান থেকে দুপুরে কফিন নেওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে; রাজনৈতিক সহকর্মী, অনুসারীদের ফুলে ফুলে ঢেকে যায় এই রাজনীতিকের কফিন।

আওয়ামী লীগ, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টির সঙ্গে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন বিএনপি, কমিউনিস্ট পার্টির নেতারাও। ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি, জাতীয় কবিতা পরিষদ, বাংলাদেশ ইতিহাস সম্মিলনী পরিষদসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও শেষ বিদায় জানায় প্রয়াত নেতাকে।

আওয়ামী লীগের পক্ষে ফুলেল শ্রদ্ধা জানিয়ে দলের আইন বিষয়ক সম্পাদক ও পূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, রাজনীতিতে কীভাবে আত্মোৎসর্গ করতে হয়, কীভাবে সততার দৃষ্টান্ত রাখতে হয়, লোভ-লালসা পরিহার করতে হয়, অনন্তকাল তার অনুপ্রেরণা জোগাবেন অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ।

শ্রদ্ধা জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান বলেন, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ জীবনে কোনো সম্মাননার পেছনে ছোটেননি। তিনি প্রমাণ করে গেছেন, শুধু পদ-পদবির পেছনে ছোটাই রাজনীতি না। আদর্শের রাজনীতিই হল প্রকৃত রাজনীতি।

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থনের ক্ষেত্রে অধ্যাপক মোজাফফর অনন্য অবদান রেখেছেন। তার মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনীতিতে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে থাকবে।

সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, অধ্যাপক মোজাফফর সমাজতন্ত্রের জন্য আত্মনিয়োজিত একজন নেতা ছিলেন। তিনি ন্যাপ নেতা ছিলেন বটে, কিন্তু রাজনীতির শুরুতে তিনি কমিউনিস্ট পার্টিরও একজন সদস্য ছিলেন।

জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু শ্রদ্ধা জানিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশে সমাজতন্ত্রের আন্দোলন এবং প্রগতিশীল রাজনীতিতে তার অবদান অনেক। তিনি সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে আপসহীন ছিলেন। এজন্যই তিনি জাতীয় নেতা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সময়ের শিক্ষক মোজাফফরের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে একজন কিংবদন্তি ছিলেন তিনি।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন পর্বে পর বায়তুল মোকাররমে জানাজা হয় অধ্যাপক মোজাফফরের।

ন্যাপ নেতারা জানিয়েছেন, আগামীকাল রোববার কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা নিজ গ্রামে অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের দাফন সম্পন্ন করা হবে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ৪৯ মিনিটে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ। তার বয়স হয়েছিল ৯৭ বছর।

মোজাফফর আহমদ ১৯২২ সালের ১৪ এপ্রিল কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে সম্মানসহ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি বিভিন্ন কলেজে দীর্ঘদিন শিক্ষকতার পর ১৯৫২ থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে অধ্যাপনা করেন। ১৯৫৪ সালে অধ্যাপনা ছেড়ে দিয়ে সম্পূর্ণভাবে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন তিনি।

ওএস/এসবি

আরও পড়ুন...
অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত

 

রাজনীতি: আরও পড়ুন

আরও