অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত

ঢাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত

পরিবর্তন প্রতিবেদক: ১:০৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৪, ২০১৯

অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সদ্য প্রয়াত অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় নামাজ পড়ান জাতীয় সংসদ ভবন মসজিদের ইমাম মাওলানা ক্বারী মো. সাইফুল্লাহ।

জানাজায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, সিপিবি নেতা মুজাহিদুল ইসলাম, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।     

জানাজা শেষে তাকে রাষ্ট্রীয় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এ সময় ন্যাপের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের জীবন বৃত্তান্ত পাঠ করেন। 

এরপর বেলা সাড়ে ১১টায় তার মরদেহ নেওয়া হবে ন্যাপ অফিসে। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বেলা ১২টায় তাকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিয়ে যাওয়া হবে, সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাদ যোহর বায়তুল মোকাররম মসজিদে তার দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এর পরদিন কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা নিজ গ্রামে অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের দাফন সম্পন্ন করা হবে।

অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ শুক্রবার রাত পৌনে ৮টার দিকে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।

গত ১৪ আগস্ট শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে অধ্যাপক মোজাফফরকে অ্যাপোলোতে ভর্তি করা হয়। বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন তিনি। অধ্যাপক ডা. বোরহানউদ্দিনের অধীনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অবস্থার অবনতি হলে গত সোমবার তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়।

উপমহাদেশে বাম ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী রাজনীতিতে কিংবদন্তিতুল্য ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ ১৯২২ সালের ১৪ এপ্রিল কুমিল্লার দেবিদ্বারের এলাহাবাদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। নিজেকে তিনি সব সময় ‘কুঁড়েঘরের মোজাফফর’ বলে পরিচয় দিতে পছন্দ করতেন।

মোজাফফর আহমদের রাজনৈতিক জীবনের শুরু ১৯৩৭ সালে। তিনি ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন কলেজে শিক্ষকতা করেছেন।

১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপনা ছেড়ে দিয়ে সম্পূর্ণভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হন। মুক্তিযুদ্ধে অবদানস্বরূপ সরকার ২০১৫ সালে তাকে স্বাধীনতা পদকের জন্য মনোনীত করলেও তিনি সবিনয়ে তা ফিরিয়ে দেন। বেশ কয়েক বছর ধরেই অসুস্থ অবস্থায় রাজধানীর বারিধারায় মেয়ের বাসায় দিন কাটাচ্ছিলেন অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ।

ওএস/জেডএস/

 

রাজনীতি: আরও পড়ুন

আরও