এরশাদের দেহ রংপুর যেতেই পাল্টে গেল সিদ্ধান্ত

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

এরশাদের দেহ রংপুর যেতেই পাল্টে গেল সিদ্ধান্ত

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৩:৫১ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৬, ২০১৯

এরশাদের দেহ রংপুর যেতেই পাল্টে গেল সিদ্ধান্ত

এজন্যই বুঝি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ! জীবনভর তাকে নিয়ে আলোচনাটা থামতে দেননি। মৃত্যুর পরেও থাকলেন সেই আলোচনাতেই।

নিজেদের ‘ছাওয়ালের’ প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের মরদেহ মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর নেয়া হয়।

সিএমএইচের হিমঘর থেকে সকালে এরশাদের কফিন হেলিকপ্টারে তোলার আগে ভাই ও জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের সাংবাদিকদের বলেন, এরশাদের শেষ ইচ্ছে অনুযায়ী তাকে বাদ আছর বনানীতে সেনাবাহিনীর কবরস্থানে দাফন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘এখন মরদেহ রংপুরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে সর্বস্তরের মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন। এরপর চতুর্থ নামাযে জানাযার পর ঢাকায় এনে সমাহিত করা হবে।’

কিন্তু, রংপুরে এরশাদের মরদেহ যেতেই পাল্টে গেল সেই সিদ্ধান্ত। স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে চরম হট্টগোল আর উত্তেজনা শেষে জিএম কাদেরই আবার সাংবাদিকদের জানালেন, রংপরের নিজ বাসভবন পল্লীনিবাসেই তাকে দাফন করা হবে।

স্ত্রী রওশন এরশাদও তাকে সেখানে দাফনের বিষয়ে অনুমতি দিয়েছেন। একই সঙ্গে এরশাদের পাশে তার নিজের কবরের জন্যও জায়গা রাখতে অনুরোধ করেছেন।

পরে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি খন্দকার দেলোয়ার জালালীও এ তথ্যই জানালেন।

তিনি বলেন, ‘রংপুরের মানুষের ভালোবাসার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে পল্লীনিবাসে দাফনের অনুমতি দিয়েছেন বেগম রওশন এরশাদ। পাশে নিজের জন্য কবরের জায়গা রাখার অনুরোধ করেছেন তিনি।’

এর আগে বাদ যোহর রংপুর শহরের কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে এরশাদের মরদেহ রাখা হয়। সেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষ শেষবারের মতো তাকে শ্রদ্ধা জানান। পরে তার নামাযে জানাযা হয়। এতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ অংশ নেন।

গত ১৪ জুলাই সকাল পৌনে ৮টায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ৯০ বছর বয়সী বিরোধীদলীয় নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

এরপর থেকেই তার নির্বাচনী এলাকা রংপুরের নেতাকর্মীরা সেখানে দাফন করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তারা এরশাদের রংপুরের বাড়ি পল্লীনিবাসের লিচুবাগানে কবরও খুঁড়ে রাখেন।

রংপুরের মেয়র ও জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ঘোষণা দেন, তারা ‘যেকোনো মূল্যে’ এরশাদের মরদেহ রংপুরে রেখে দেবেন।

এমন প্রস্তুতির মধ্যেই মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা সিএমএইচ থেকে এরশাদের কফিন নিয়ে রংপুরের উদ্দেশে রওনা হয় বিমানবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার।

জিএম কাদের ছাড়াও মরদেহের সঙ্গে রংপুর যান এরশাদের বড় ছেলে রাহগির আল মাহি সাদ এরশাদ, জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও রংপুর-৩ (সদর) আসনের এমপি মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ, সাবেক মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, মেজর (অব.) খালেদ আখতার, আজম খান, এটিইউ তাজ রহমান ও শফিকুল ইসলাম সেন্টু।

ওএস/আইএম

আরও পড়ুন...
এরশাদকে রংপুরের মাটিতেই দাফনের ঘোষণা 
রংপুরে এরশাদের কবর খোঁড়ার কাজ চলছে
এরশাদের দাফন সেনা কবরস্থানে: জিএম কাদের

 

রাজনীতি: আরও পড়ুন

আরও