বড়দের ‘খপ্পরে’ দিকভ্রান্ত ছাত্রদল

ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

বড়দের ‘খপ্পরে’ দিকভ্রান্ত ছাত্রদল

মাহমুদুল হাসান ৯:২৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০১৯

বড়দের ‘খপ্পরে’ দিকভ্রান্ত ছাত্রদল

ছাত্রদল নিয়ে মূল সংগঠন বিএনপির নেতাদের কাইজ্যা নতুন কিছু নয়। কিন্তু, এবার এটি খুবই নগ্নভাবে প্রকাশ্যে এসেছে।

ইতোমধ্যে কমিটি নিয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভাংচুর, তালা ঝোলানো, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রহুল কবির রিজভীর ওপর হামলা ছাড়াও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। নিত্য দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হচ্ছে। বহিষ্কার করা হয়েছে অনেককে।

এর ফলে পূর্বঘোষণা অনুযায়ী শুধুমাত্র ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ১৫ জুলাইয়ের কাউন্সিল ঝুলে গেছে। আবেদন ফরম পর্যন্ত বিক্রি করা সম্ভব হয়নি।

ছাত্রদলের এমন পরিস্থিতির জন্য দায়ী করা হচ্ছে বিএনপির সিনিয়র কয়েক নেতাকে, যারা আগে সংগঠনটির শীর্ষ পর্যায়ে দায়িত্বে ছিলেন। তারা সংগঠনটিকে নিজের পকেটে রাখার জন্য সংকট জিইয়ে রাখছেন বলে আলোচনা এখন ‘ওপেন সিক্রেট’।

সূত্রের দাবি, যে সার্চ কমিটিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল, তাদেরই কয়েক নেতা আন্দোলনকারীদের নির্দেশনা দেন- তারা যেন কার্যালয়ে আবাসন গেড়ে বসা রিজভীর হাত-পা ভেঙে বের করে দেন। কয়েকজন তো আগুন দিতেও বলেন। নির্দেশনা বাস্তবায়নে নয়াপল্টনে অ্যাম্বুলেন্সও জোগাড় করা হয়েছিল।

কিন্তু, আন্দোলনকারীদের একাংশ সার্চ কমিটির ওই ধ্বংসাত্মক পরিকল্পনা বুঝতে পারেন। পরে নিজেদের মধ্যে কথা বলে বিক্ষুব্ধদের নিবৃত্ত করেন।

সর্বশেষ ছাত্রদলের সংকট নিরসনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান দলের স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে দায়িত্ব দেন। তারা দফায় দফায় বৈঠক করলেও সমাধানে আসতে পারেননি।

মূলত কমিটি গঠন নিয়ে তারেক রহমানের এই দায়িত্বশীলরা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে করা সার্চ কমিটির তোপে পড়েন। এরপরই শুরু হয় নতুন সমীকরণ। নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে আঁটঘাট বেঁধে নেমেছেন সাবেক ছাত্রনেতারা। আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে এখন কাউন্সিলের পথে হাঁটছেন।

এমন প্রেক্ষাপটে গত ৯ জুলাই নয়াপল্টনে সার্চ কমিটি বৈঠকে বসে। তাতে স্কাইপির মাধ্যমে লন্ডন থেকে যুক্ত হন তারেক রহমান। তিনি সাফ জানান, ছাত্রদল থেকে যারা সাবেক হবে, তাদের জন্য যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন রয়েছে। সেখানে মূল্যায়ন করা হবে। এরপর সার্চ কমিটির নেতারাও ওয়ান টু ওয়ান কথা বলছেন। ছাত্রদলের আন্দোলনকারীদের বোঝানোর চেষ্টা করছেন।

জানা গেছে, সার্চ কমিটির এই প্রস্তাবে এখন পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা সম্মতি দেননি। তারা বিকল্প হিসেবে স্বল্প মেয়াদে হলেও কমিটি গঠন করে, তাতে পদ দেয়ার দাবি করেছেন।

ছাত্রদলের সংকট নিরসনে দায়িত্বপ্রাপ্ত তিন সিনিয়র নেতাও এমন নানা ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন। গতকাল বুধবার এক বৈঠকে তারা বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘক্ষণ আলাপ করেন। এক পর্যায়ে সার্চ কমিটির মুখোমুখি হওয়ার বিপদ বুঝতে পেরে মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান।

তারা কাউন্সিল করার বাকি কাজ সার্চ কমিটির মাধ্যমে করতে তারেক রহমানকে পরামর্শ দেন। কিন্তু, তারেক রহমান তাদের ইস্তফা গ্রহণ করেননি। ছাত্রদলের চলমান সংকটের সমাধান তাদেরই করতে নির্দেশনা দিয়েছেন।

এ বিষয়ে সদ্য বিলুপ্ত ছাত্রদলের প্রথম যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘দলের হাই-কমান্ডের প্রতি আমাদের আস্থা রয়েছে। তারা আমাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়েই কমিটি করবেন।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় পরিবর্তন ডটকমেক বলেন, ‘ছাত্রদলের কাউন্সিল নিয়ে অনেক জল ঘোলা হয়েছে। সর্বশেষ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান আমাদের তিনজনকে দায়িত্ব দিয়েছেন। আমরা সবপক্ষের সঙ্গে কথা বলছি। আশা করছি, ভাল কিছুই হবে।’

এ বিষয়ে সার্চ কমিটির অন্যতম নেতা বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘সংকট সমাধানে আমরা অনেকটাই এগিয়ে গেছি। আপাতত কিছু বলতে চাচ্ছি না। আগামী শনিবারের মধ্যে সব দৃশ্যমান হবে।’

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের অক্টোবরে রাজীব আহসানকে সভাপতি ও আকরামুল হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। দুই বছর মেয়াদি কমিটির মেয়াদ শেষ হয় ২০১৬ সালের অক্টোবরে।

এরপর আড়াই বছরেরও বেশি সময় মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে চলছে ছাত্রদলের কার্যক্রম। গত ৩ জুন রাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি বাতিল করে গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়।

এতে বলা হয়, ৪৫ দিনের মধ্যে কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করা হবে। পদ দুটির জন্য ২০০০ সালের আগে এসএসসি পাস থাকলে তারা প্রার্থী হিসেবে অবিবেচিত হবেন।

এরপরই ছাত্রদলের একাংশ ক্ষুব্ধ হয়। তারা নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ধারাবাহিক কমিটির দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। বেশ কয়েক দিন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্মও দিয়েছেন তারা।

এমএইচ/আইএম

 

পরিবর্তন বিশেষ: আরও পড়ুন

আরও