গ্যাস নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন রওশন

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৪ কার্তিক ১৪২৬

গ্যাস নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন রওশন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৭:৫৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০১৯

গ্যাস নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন রওশন

গ্যাসের দাম বাড়ানোয় সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান বেগম রওশন এরশাদ।

বৃহস্পতিবার সংসদের বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

গ্যাসের দাম হঠাৎ কেন বাড়ানো হলো, প্রশ্ন রেখে রওশন বলেন, ‘আমরা উন্নয়ন চাই। কিন্তু, গ্যাসের দাম বাড়িয়ে নয়। আমার নয়, এটি জনগণের কথা। যেদিন বাজেট পাস হলো, সেদিন গ্যাসের দাম বাড়ানো হলো। গণশুনানির পরই দাম বেড়ে গেলে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যখন গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দিলাম, তখন প্রতিবেশী ভারত গ্যাসের দাম কমিয়ে দিল। গৃহস্থালির গ্যাসের দাম তারা ১০০ টাকা কমিয়ে দিলো।’

রওশন বলেন, ‘আমাদের তো প্রাকৃতিক গ্যাস আছে। সেগুলো উত্তোলনের ব্যবস্থা আমরা করতে পারি। হয়তো ২/৩ বছর লেগে যাবে। গ্যাসের দাম না বাড়িয়ে অন্য কিছু করা যায় কিনা দেখুন। জনগণকে একটু রেহাই দেন। অনেকে আছেন, যাদের এত দাম দিয়ে গ্যাস কেনার সামর্থ নেই। তাদের একটু রেহাই দেয়া উচিত।’

এ সময় তিনি সারা দেশে শিশু নির্যাতন বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

শিক্ষকদের প্রতি মানবিকতার হাত বাড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অনুরোধ জানিয়ে রওশন বলেন, ‘এমপিওভুক্তি বঞ্চিত শিক্ষকরা আন্দোলন করছেন। তারা বেতন পাচ্ছেন না। এই অসহায় শিক্ষকদের প্রতি মানবিকতার হাত বাড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।’

বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, ‘স্মার্টফোন ব্যবহার করে আমাদের ছেলেমেয়েরা অন্য রকম জগত তৈরি করছে। এটার হাত থেকে যদি তাদের বাঁচানো না যায় তাহলে ভবিষ্যত বাংলাদেশের তারা কীভাবে নেতৃত্ব দেবে? এটা থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের রাস্তা খুঁজতে হবে। তারা যদি সারারাত জেগে স্মার্ট ফোন দেখে। ঘুম নাই, লেখা পড়া নেই। একেকটার চেহারা কেমন হয়ে যায়।’

তিনি বলেন, ‘দেশের উন্নয়নের সঙ্গে দিনরাত পরিশ্রম করে তথ্য সরবরাহ করেন গণমাধ্যমকর্মীরা। অথচ গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের উন্নয়নে কোনো সরকারই গুরুত্ব দেয় না। যদিও বর্তমান সরকার গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য নবম ওয়েজ বোর্ড গঠন করেছে। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, সাংবাদিকদের ওয়েজ বোর্ড দ্রুত বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেবেন। ওয়েজবোর্ড যেন সাংবাদিকরা পায় সেটি বাস্তবায়নে তথ্যমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।’

রওশন বলেন, ‘আমাদের ডাক্তার আছে, পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি নেই। এদেশের ডাক্তাররা রোগীদের সময় দেন না। তারা সময় দেন না বলেই বেশিরভাগ মানুষ দেশের বাইরে চলে যান।’

তিনি বলেন, ‘খাদ্য ভেজাল এখনো বন্ধ হয়নি। ঔষধ আর খাদ্য মানুষের অনেক বেশি মৌলিক উপাদান। এই দুটি উপাদান ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না, চলতেও পারে না। আমাদের ছোট ছোট শিশুরা যদি ভেজাল খাদ্য খায় তাহলে দেশ গড়ার কাজ করবে কীভাবে? বাচ্চাদের খাবারের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। কারণ, এই বাচ্চারাই ভবিষ্যতে এই দেশকে নেতৃত্ব দেবে।’

রওশন বলেন, ‘ছোট ছোট বাচ্চাদের ধর্ষণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুলে-মাদ্রাসায় আমাদের বাচ্চারা সুরক্ষিত না, নিরাপদ না। যদি নিরাপদ না হয় তাহলে লেখাপড়া করবে কীভাবে? নুসরাতের মতো যদি জীবন দিতে হয়, সেটি দুঃখজনক। আমাদের দেশে আইন আছে। আমি সরাসরি বলতে চাই, এদের মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে।’

আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, ‘তাদের দ্রুত শাস্তি দেয়া উচিত। মামলাগুলো ঝুলিয়ে না রেখে তাদের শাস্তি দেয়া উচিত।’

বক্তব্যের শেষদিকে রওশন তার স্বামী জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের আমলের বিভিন্ন উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরেন।

এইচকে/আইএম

 

রাজনীতি: আরও পড়ুন

আরও