৪৫৫ উপজেলায় নৌকার ৩০২ চেয়ারম্যান

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

৪৫৫ উপজেলায় নৌকার ৩০২ চেয়ারম্যান

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ১০:৫৭ অপরাহ্ণ, জুন ১৯, ২০১৯

৪৫৫ উপজেলায় নৌকার ৩০২ চেয়ারম্যান

পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পাঁচ ধাপে ৪৫৫ উপজেলার মধ্যে ৩০২টিতে ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে জয়ী হয়েছেন। যার মধ্যে ৯৬জন ভোট ছাড়াই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পান। বাকি ১৫৩টি উপজেলার ১৪৫টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন; যাদের বেশিরভাগই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

অন্যান্য দলের মধ্যে জাতীয় পার্টি ৩টিতে, জাতীয় পার্টি-জেপি ১টিতে এবং বিএনপি থেকে বহিস্কৃত ৪জন উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। পাঁচ ধাপের ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, গত ১০ মার্চ থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত পাঁচ ধাপে ৪৫৫টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে অনিয়ম, উচ্চ আদালতের রায়, নির্বাচনী পরিবেশ না থাকাসহ বিভিন্ন কারণে কয়েকটি উপজেলার ভোট ও ফল স্থগিত রয়েছে।

এ নির্বাচনে ৪৫৫টি ভোটার সংখ্যা ছিল ৬ কোটি ৩৭ লাখ ৭০ হাজার ৩০৯ জন। এদের মধ্যে ভোট দিয়েছে ২ কোটি ৫৭ লাখ ৩৯ হাজার ৭৮৮জন; যা মোট ভোটারের ৪০ দশমিক ৩৬ শতাংশ। পাঁচ ধাপে বাতিল ভোটের পড়েছে ৫লাখ ৪৮ হাজার ৮২০টি।

প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে বিএনপিসহ বেশিরভাগ দল অংশগ্রহণ না করায় নির্বাচনে ভোট পড়ার হার কমেছে বলে জানিয়েছে ইসি।

এ নির্বাচনে অন্তত ৩৪টি উপজেলার সবকটি পদ (চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস) চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন। এসব উপজেলায় ভোটের আয়োজন করার প্রয়োজন হয়নি। আর একক পদ হিসেবে চেয়ারম্যান পদে ৯৭টি উপজেলায় বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পান। এর মধ্যে ৯৬জন আওয়ামী লীগের ও একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী।

ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ায় গণতন্ত্র নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার।

বুধবার নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এবারের উপজেলা নির্বাচনে সবচেয়ে আশঙ্কার দিক হচ্ছে ভোটারদের নির্বাচনবিমুখতা। একটি গণতান্ত্রিক দেশ ও জাতির জন্য নির্বাচনবিমুখতা অশনিসংকেত।

তিনি আরও বলেন,বিরোধীদলগুলো অংশগ্রহণ না করায় এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ছিল একতরফা। একতরফা নির্বাচন গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়।

জানা গেছে, গত মার্চ মাস জুড়ে চার ধাপ ও জুনে পঞ্চম ধাপের ভোট হয়েছে। এবার পাঁচধাপে ৪৮৮টি উপজেলা পরিষদের তফসিল ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে ৪৫৫টির ফল পাওয়া গেছে। বাকি ৩৩টির ভোট ও ফল বিভিন্ন কারণে স্থগিত রয়েছে। এবারই প্রথম ১৪টি উপজেলায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) এ ভোটগ্রহণ করা হয়। ভোটের তাৎক্ষণিক তথ্য সংগ্রহে কয়েকটি কেন্দ্রে পরীক্ষামূলক ট্যাব ব্যবহার করা হয়।

ফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পঞ্চম ধাপে ২২টি উপজেলার মধ্যে ১৩টিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে ৫জনই বিনাপ্রতিদ্বদ্বিতায় জয়ী হয়েছেন। এ ধাপে ৯জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এ ধাপে ভোটের হার ৩৮.৬২ শতাংশ। দলগতভাবে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনো দল এ ধাপে জয় পায়নি।

চতুর্থ ধাপ: গত ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত চতুর্থ ধাপে ১০৬টি উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা ৭৩টিতে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে ৪৯জন নির্বাচনের মাধ্যমে ও ২৪জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছেন। আর স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন ৩২টিতে। একটি জাতীয় পার্টি জেপির প্রার্থী জয় পেয়েছেন। ভোট পড়ার হার ছিল ৩৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

তৃতীয় ধাপ: গত ২৪ মার্চ তৃতীয় ধাপে ১২২টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ ধাপে ৮৩টিতেই জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী; এর মধ্যে ৩১জনই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছেন। বাকি ৫০জন প্রতিযোগিতা করে জয় পেয়েছেন। এছাড়া এ ধাপে ৩৮জন স্বতন্ত্র প্রার্থী চেয়ারম্যান হয়েছেন। আর জাতীয় পার্টির ১জন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এ ধাপেও আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি ছাড়া অন্য কোনো দলের প্রার্থী জয় পাননি। এ ধাপে ভোট পড়ার হার ছিল ৪১ দশমিক ৪১ শতাংশ।

দ্বিতীয় ধাপ: গত ১৮ মার্চ দ্বিতীয় ধাপে ১২৩ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে ৭৭টিতে আওয়ামী লীগ, ৪৩টিতে স্বতন্ত্র, ২টিতে জাতীয় পার্টি ও একটি বিএনপির বহিস্কৃত প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে। আওয়ামী লীগের ৭৭জন চেয়ারম্যানের মধ্যে ৫৫জন ভোটের লড়াইয়ে ও ২২জন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পান। এ ধাপে বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ মজিবর রহমান মজনু আনারস প্রতীক নিয়ে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছেন। এ ধাপে ভোট পড়ার হার ছিল ৪১ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

প্রথম ধাপ: গত ১০ মার্চ প্রথম ধাপে ৮২টিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এ ৫৬টিতে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। আর স্বতন্ত্র নির্বাচিত হয়েছেন ২৩জন। আওয়ামী লীগের দলীয় চেয়ারম্যানদের মধ্যে ৪২জন ভোটে লড়াই করে ও ১৪জন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এ ধাপে হবিগঞ্জের মাধবপুর, জামালপুরের বকশীগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় বিএনপি থেকে বহিস্কৃত নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। প্রথম ধাপে ভোট পড়ার হার ছিল ৪৩ দশমিক ৩২ শতাংশ।

এইচকে/এআরই

 

রাজনীতি: আরও পড়ুন

আরও