খালেদার সুস্থতা নিয়ে বিএনপির সহ-স্বাস্থ্য সম্পাদকের প্রশ্ন

ঢাকা, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

খালেদার সুস্থতা নিয়ে বিএনপির সহ-স্বাস্থ্য সম্পাদকের প্রশ্ন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৯:৩৭ অপরাহ্ণ, জুন ১২, ২০১৯

খালেদার সুস্থতা নিয়ে বিএনপির সহ-স্বাস্থ্য সম্পাদকের প্রশ্ন

ফাইল ছবি

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দলের সহ স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়া যদি সুস্থই হয়ে থাকেন তাহলে তাকে কেন হুইল চেয়ারে করে হাসপাতালের ‘এ’ ব্লকে আনা হয়। আর দাঁতের পরীক্ষা করা হয়?

বুধবার সন্ধ্যায় পরিবর্তন ডটকমের সঙ্গে আলাপকালে ডা. রফিকুল ইসলাম এমন প্রশ্ন তোলেন।

তিনি বলেন, আমাদের নেত্রী আদালতে যখন গিয়েছেন তখন সুস্থ ছিলেন, পায়ে হেঁটে গেছেন। আমরা কি দেখলাম কারাগার থেকে হুইল চেয়ারে করে হাসপাতাল আনা হলো। দেশের মানুষের প্রশ্ন হলো সরকারের দাবি অনুযায়ী তিনি সুস্থ হয়ে থাকেন তাহলে তাকে কেন হুইল চেয়ারে বসতে হয়?

তিনি বলেন, দেশের মানুষ দেশনেত্রী বেগম খালোদ জিয়াকে সুস্থ অবস্থায় তাদের মাঝে ফিরে পেতে চায়।

বুধবার দুপুরে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে কেবিন ব্লক থেকে নামিয়ে একটি মাইক্রোবাসে করে হাসপাতালের ‘এ’ ব্লকে আনা হয়। পরে হুইল চেয়ারে বসিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় চতুর্থ তলায় ডেন্টাল ইউনিটে। সেখানে দাঁত পরীক্ষার পর খালেদা জিয়াকে আবারো কেবিন ব্লকের ৬২১ নম্বর কেবিনে নিয়ে যাওয়ার হয়।

হাসপাতালের অতিরিক্ত পরিচালক নাজমুল করিম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

জানা গেছে, খালেদা জিয়ার মাড়ির নিচের দিকে একটি দাঁত ধারালো হয়ে পড়েছিল। এর সাথে ঘষা লেগে তার গালে একটি আলসার (ক্ষত) হয়েছিল। অন্যান্য ওষুধে তা না কমায় এখন দাঁতের ধারালো অংশটি ভোতা করে দেয়া হয়।

ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিফেসিয়াল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাহমুদা খাতুনের তত্ত্বাবধানে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা দেয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, খালেদা জিয়াকে সাময়িকভাবে দাঁতের চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের না  জানিয়ে এ চিকিৎসা দেয়া হয়। 

তিনি জানান, ডা. মামুনও জানতেন না খালেদা জিয়ার দাঁতের  চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তিনি হাসপাতালের তৎপরতা দেখে নিজ থেকে খোঁজ নিয়ে ওখানে যান।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ মার্চ বেগম খালেদা জিয়াকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে চিকিৎসার জন্য বিএসএমএমইউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খালেদা জিয়া আর্থাইটিস ও ডায়াবেটিসের সমস্যাসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছেন।

বিএসএমএমইউ-তে ভর্তির পর গত ২৮ মার্চ খালেদা জিয়ার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। এ বোর্ডের প্রধান হলেন ডা. জিলন মিঞা। বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন- ডা. সৈয়দ আতিকুল হক, ডা. তানজিমা পারভিন, ডা. বদরুন্নেসা আহমেদ, ডা. চৌধুরী ইকবাল মাহামুদ।

এ ছাড়া ডা. শামিম আহমেদ এবং ডা. মামুন মেডিকেল বোর্ডকে সহযোগিতা করছেন।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানা করা হয়। এ রায় ঘোষণার পরই থেকেই খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়। বিএসএমএমইউ-তে স্থানান্তরের আগে তিনি সেখানেই বন্দি ছিলেন।

এমএইচ/এসবি

 

রাজনীতি: আরও পড়ুন

আরও