শীর্ষ নেতাদের আশ্বাসে পদবঞ্চিতদের আন্দোলন স্থগিত

ঢাকা, ২৪ জুন, ২০১৯ | 2 0 1

শীর্ষ নেতাদের আশ্বাসে পদবঞ্চিতদের আন্দোলন স্থগিত

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ, মে ২০, ২০১৯

শীর্ষ নেতাদের আশ্বাসে পদবঞ্চিতদের আন্দোলন স্থগিত

আওয়ামী লীগের চার জ্যেষ্ঠ নেতার আশ্বাসে অবশেষে আন্দোলন স্থগিত করেছেন ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া বিক্ষুব্ধরা।

ছাত্রলীগের নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি থেকে বিতর্কিতদের এবং মধুর ক্যান্টিনে পদবঞ্চিতদের ওপর হামলার ঘটনায় চিহ্নিতদের বহিষ্কারের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন আন্দোলনকারীরা।

ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে চার জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে কয়েক ঘণ্টার বৈঠক শেষে গতকাল রোববার রাত দেড়টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন তারা।

এর আগে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পদবঞ্চিতদের সঙ্গে সংগঠনটির শীর্ষ দুই নেতার দ্বন্দ্ব মেটাতে ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে উভয়পক্ষের সঙ্গে আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান; সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হক ও বাহাউদ্দিন নাছিম। এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মোল্লা আবু কাওসার।

আন্দোলনকারীদের পক্ষে সেখানে ছিলেন- ছাত্রলীগের রোকেয়া হলের সভাপতি বিএম লিপি আক্তার, বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হলের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা পারভীন, শামসুন নাহার হলের সভাপতি নিপু ইসলাম তন্বী, ডাকসুর সদস্য তিলোত্তমা সিকদার, গত কমিটির প্রচার সম্পাদক সাঈফ বাবু, বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হলের সভাপতি শ্রাবণী শায়লা, জসীম উদ্দীন হলের সাধারণ সম্পাদক শাহেদ খান।

বৈঠকে ছাত্রলীগ সভাপতি সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীও উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি প্রকাশের প্রায় ১০ মাস পর গত সোমবার সংগঠনের ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়৷ ওই দিন সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া ছাত্রলীগের বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা সংবাদ সম্মেলন করতে গেলে সংগঠনের বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা তাদের ওপর হামলা চালান৷ এতে কয়েকজন নারী নেত্রীসহ ১০ থেকে ১২ জন আহত হন।

পরে গত বুধবার ছাত্রলীগের কমিটি থেকে ‘বিতর্কিতদের’বাদ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নির্দেশ দেন৷

তারপর ছাত্রলীগের কমিটিতে বিতর্কিত নেতাদের বিষয়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে গিয়ে শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে হামলার শিকার হন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছিলেন তারা।

ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া অংশের নেতৃত্ব দেওয়া সংগঠনের বিগত কমিটির প্রচার সম্পাদক সাঈফ বাবু গণমাধ্যমকে বলেন, আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে তারা আশ্বস্ত হয়েছেন৷ আর সে কারণেই তারা তাদের আন্দোলন স্থগিত করছেন।

ওএস/আরপি

 

রাজনীতি: আরও পড়ুন

আরও