ডিসেম্বরে কাউন্সিল, কতটা চ্যালেঞ্জে বিএনপি?

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৯ | ১২ বৈশাখ ১৪২৬

ডিসেম্বরে কাউন্সিল, কতটা চ্যালেঞ্জে বিএনপি?

মাহমুদুল হাসান ৮:২১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৫, ২০১৯

ডিসেম্বরে কাউন্সিল, কতটা চ্যালেঞ্জে বিএনপি?

কোণঠাসা বিএনপি। সরাসরি দলটির নেতাকর্মীরা শীর্ষস্থানীয়দের নেতৃত্ব থেকে বঞ্চিত। চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ১৪ মাসের বেশি কারাবন্দি।

তার ঠিক পরেই যার দলের হাল ধরার কথা, তারেক রহমান দীর্ঘদিন লন্ডনে স্বেচ্ছানির্বাসনে। ফলে দিকভ্রান্ত নেতাকর্মীরা। গড়ে ওঠেনি নেত্রীর মুক্তির দাবিতে জোরালো কোনো আন্দোলন।

ঘরোয়া কিছু সভা-সেমিনার ছাড়া বিএনপির নেতাকর্মীরা সক্রিয় কোনো কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামতেই পারেননি। এজন্য সাংগঠনিক দুর্বলতাকেই দায়ী করছেন দলের বড় একটি অংশ।

এজন্য রাজনীতির মাঠে ঘুরে দাঁড়াতে কমিটিগুলো পুনর্গঠনে জোর দিচ্ছে বিএনপি। ইতোমধ্যে মহিলা দল, ড্যাব, ওলামা দল, তাঁতীদল, ঢাকা জেলা বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। চলতি মাসেই তৃণমূল কমিটিগুলো পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপরই বছরের শেষদিকে ডিসেম্বরে কেন্দ্রীয় জাতীয় কাউন্সিল করবে।

সংশ্লিষ্ট নেতাদের ভাষ্যে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান কড়া নির্দেশ দিয়েছেন— এবার ঢাকা থেকে কোনো কমিটি চাপিয়ে দেয়া যাবে না। তৃণমূলের নেতাকর্মীরাই তাদের নেতৃত্ব ঠিক করবেন। ওয়ার্ড থেকে শুরু করে ইউনিয়ন, থানা, উপজেলা, জেলা, মহানগর সব কমিটি সম্মেলনের মাধ্যমে করতে হবে।

আলোচিত ওয়ান-ইলেভেনের পর থেকেই বিএনপি কোণঠাসা হয়ে পড়ে। একের পর এক রাজনৈতিক ভুলে ব্যাকফুটে চলে যায়। যার প্রভাব পড়ে জাতীয় নির্বাচনেও। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মাত্র ৩০টি আসনে বিজয়ী হয়ে বিরোধীদল হওয়ার সুযোগ পায়। কিন্তু, ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে। এরপরই দলটির ওপর নেমে আসে সরকারি খড়্গ। সেখান থেকে আর উঠে দাঁড়াতে পারেনি বিএনপি।

উল্টো ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে জেলবন্দি হতে হয়। এখন পর্যন্ত তিনি মুক্তি পাননি। তাকে ছাড়াই গত ৩০ ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয় বিএনপি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে জোট গঠন করে। কিন্তু, নির্বাচনে জোটের চরম ভরাডুবি হয়, মাত্র ৮টি আসনে জয় পায়। এর মধ্যে বিএনপির প্রার্থীরা ৬টিতে জয় পান।

ভোটে জিতলেও বিএনপির প্রার্থীরা এমপি হিসেবে শপথ না নেয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন। কিন্তু, ঐক্যফ্রন্টের শরিক গণফোরামের দুই প্রার্থী শপথ নিয়েছেন। ফলে জোটে রাজনীতিতেও চলছে টানাপোড়েন।

এমন প্রেক্ষাপটে বিএনপির মধ্যম সারি নেতাদের দাবি, ক্ষমতা কেন্দ্রীক বলয়ে থাকায় বিএনপি সংগঠন হিসেবে তৃণমূলে বিকাশ লাভ করতে পারেনি। কারণ, দীর্ঘ ১২ বছর তারা ক্ষমতার বাইরে। ডিসেম্বরের কাউন্সিলে বেশ চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে বিএনপির জন্য।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা ক্ষোভই প্রকাশ করলেন সাংগঠনিক দুর্বলতা নিয়ে, ‘শক্তিশালী সংগঠন না থাকার পেছনে হাওয়া ভবন একমাত্র দায়ী। এই ভবনটি ঘিরে একটি শ্রেণী দুর্নীতির মহোৎসব করেছে। সারা দেশে পকেট কমিটি দেয়া হয়, যার খেসারত এখন দল দিচ্ছে।’

এ বিষয়ে বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘দেশে দীর্ঘদিন স্বাভাবিক রাজনীতি নেই। এর প্রভাব বিএনপিতেও পড়েছে। কোনো কিছুই ধারাবাহিকভাবে শেষ করা সম্ভব হয়নি বা হচ্ছে না। এরপরও সরকারের দমন-পীড়ন উপেক্ষা করে সাংগঠনিক কাজ এগিয়ে নিচ্ছি। জেলা কমিটিগুলোকে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, থানাসহ সব পর্যায়ের কমিটির পুনর্গঠন করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘জাতীয় কাউন্সিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। তৃণমূলের কমিটি পুনর্গঠন শেষ হলে দলের জাতীয় নেতৃবৃন্দ বসে কাউন্সিলের দিন তারিখ ঠিক করবেন। তবে, ডিসেম্বরে হওয়ার সম্ভাবনায় বেশি।’

জানতে চাইলে বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিন পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের নির্দেশে তৃণমূলের কমিটি পুনর্গঠন চলছে। চলতি মাসেই ওয়ার্ড, ইউনিয়ন বিএনপিসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব কমিটি পুনর্গঠন শেষ করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘এবার ঢাকা থেকে কোনো কমিটি চাপিয়ে দেয়ার সুযোগ নেই। তৃণমূলের নেতাকর্মীরাই তাদের নেতা নির্ধারণ করবেন।’

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ কাউন্সিল হয়। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, তিন বছর পরপর কাউন্সিল করার কথা।

এমএইচ/আইএম