চাওয়া পাওয়ার হিসেব নেই যাদের

ঢাকা, শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

চাওয়া পাওয়ার হিসেব নেই যাদের

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ১১:০০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৯

চাওয়া পাওয়ার হিসেব নেই যাদের

টানা দশ বছর ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ। যেখানে সবাই চাওয়া পাওয়ার হিসেব মেলাতে ব্যস্ত। কে কি পেলেন, কেউ মন্ত্রীত্ব কেউ সংসদ সদস্য, কেউবা অন্যকিছু। চাওয়া পাওয়ার হিসেবে গড়মিল হলেই হতাশা। তখন তাদের বক্তব্য হলো এত ত্যাগ স্বীকার করলাম, ত্যাগের মূল্য পেলাম না। দু:সময়ের সঙ্গী ছিলাম কিন্তু তার মূল্যায়ন হলো না। আওয়ামী লীগ সুখের সময়ে দলের ত্যাগী,পরীক্ষিতদের মূল্যায়ন করে না ইত্যাদি নানা কথা কান পাতলেই শোনা যায়।

কিন্তু এরমধ্যেও দেখা যায়, কিছু মানুষের সরকারের কাছে চাওয়া পাওয়ার কোনো হিসেব নেই। যেভাবে আছেন, তাতেই সন্তুষ্ট। আওয়ামী লীগের দলের জন্য কাজ করছেন, নিবেদিত প্রাণ হয়ে। দলের ভালোর জন্য সবসময় পরিশ্রম করছেন তার জায়গা থেকে তিনি অবদান রাখছেন।

এরকম কিছু মানুষের মধ্যে অন্যতম হলেন:

ওমর ফারুক চৌধুরী : তিনি যুবলীগের চেয়ারম্যান। তিনি যুবলীগের চেয়ারম্যান হলেও এখন পর্যন্ত কোনো মন্ত্রীত্ব চাননি। সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়নের জন্য কখনো আবেদনও করেননি। এমনকি মেয়র পদের জন্যও কখনো নিজের আগ্রহ প্রকাশ করেননি। তিনি কোনো ব্যাংকের চেয়ারম্যান বা সরকারের পদ পদবি গ্রহণ করেনি। যুবলীগের চেয়ারম্যান হিসেবে এই সংগঠনকে সংগঠিত করার জন্য তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। মেধা মননের চর্চার জন্য তিনি স্থাপন করেছেন যুব জাগরণ কেন্দ্র। শতাধিক প্রকাশনা করেছেন। চাওয়া পাওয়ার হিসেব নিয়ে তার কোন তাড়া নেই। এ নিয়ে তিনি ভাবেনও না। দল তাকে কি দিলো বা কি পেলেন। এ নিয়ে ভাবনা নেই। বরং নীরবে নিভৃতে নিজের কাজটি করে যাচ্ছেন।

মোশাররফ হোসেন কাজল : বেগম খালেদা জিয়ার দুর্নীতির মামলাগুলোর রাষ্ট্রপক্ষের কুশলী। তিনি জিপি হতে পারতেন, মন্ত্রী হতে পারতেন। সংসদে নির্বাচন করে এমপিও হতে পারতেন। কিন্তু তিনি শুধু দুর্নীতি এবং বিএনপি জামাতের বিরুদ্ধে মামলা লড়েই যাচ্ছেন। তার আইনী লড়াইয়ের জেরেই জিয়া এতিম খানা মামলায় খালেদা জিয়ার সাত বছরের কারাদণ্ড নিশ্চিত করেছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের পরিচিত মুখ। দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার উঠাবসা। কিন্তু তিনি কখনো কোনো চাওয়া পাওয়ার হিসেব করেননি। কখনো বলেননি এটা চাই ওটা চাই। যেভাবে আছেন তাতেই খুশি এই মারকুটে আইনজীবি।

সৈয়দ রেজাউর রহমান : ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলার মামলার প্রধান কৌশলী। তিনি আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু। দলের দু:সময়ের সাথী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মামলারও অন্যতম কৌশলী। দশ বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেও তিনি কখনো পদ পদবি চাননি। কোনো পুরস্কার বা রাষ্ট্রীয় মর্যাদা বা মন্ত্রীত্ব তাকে আকর্ষণ করে না। বরং দলের জন্য বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য কাজ করে যেতে পেরেই তিনি খুশি। তার মধ্যে কোনো অভিমান নেই, রাগ নেই। চাওয়া পাওয়ার হিসেব মেলানোর যন্ত্রণা নেই। নেই অতৃপ্তির বেদনা।

এরকম আরও কিছু মানুষ আছেন আওয়ামী লীগে, যারা দলের সুদিনের সময়ও কোন কিছু প্রত্যাশা করেন না। শুধু প্রত্যাশা করেন, আওয়ামী লীগ যেন ভালোভাবে পরিচালিত হয়।

রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা যেন দেশ চালাতে সফল হন। এবং আওয়ামী লীগ যেন স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে পারে। এই সমস্ত মানুষের সংখ্যা হয়তো অনেক। তবে এসমস্ত মানুষগুলো আছে বলেই আওয়ামী লীগ হয়তো এখনো সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল হিসেবে দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

এসইউজে/এআরই

 

পরিবর্তন বিশেষ: আরও পড়ুন

আরও