টানা তৃতীয়বার সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরী

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ৯ ফাল্গুন ১৪২৫

টানা তৃতীয়বার সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৮:২৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৯

টানা তৃতীয়বার সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরী

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী আবারও সংসদ উপনেতা মনোনীত হয়েছেন। এ নিয়ে তিনি টানা তিনবার এই পদে দায়িত্ব পেলেন।

সাজেদা চৌধুরী প্রথম ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদের উপনেতা নির্বাচিত হন। এর মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো কোনো নারী গুরুত্বপূর্ণ এই পদে আসেন। এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচনের পরও এই পদে মনোনীত হন তিনি।

একাদশ সংসদেও সোমবার তাকে সংসদ উপনেতা করা হয়। এর ফলে দেশের ইতিহাসে দীর্ঘ সময় সাজেদা চৌধুরী জাতীয় সংসদের উপনেতার আসন অলঙ্কৃত করছেন।

তিনি পরিবেশ ও বনমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্ষীয়ান এই রাজনীতিক ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা, সালথা ও সদরপুর আংশিক) আসন থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন।

নবম এবং দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি এই আসনেই বিজয়ী হয়েছিলেন।

সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ১৯৩৫ সালের ৮ মে মাগুরা জেলায় মামা বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম সৈয়দ শাহ হামিদ উল্লাহ এবং মা সৈয়দা আছিয়া খাতুন।

শিক্ষাজীবনে সাজেদা চৌধুরী স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তার স্বামী রাজনীতিবিদ এবং সমাজকর্মী গোলাম আকবর চৌধুরী। ২০১৫ সালের ২৩ নভেম্বর আকবর চৌধুরী তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে পরিচয়ের মাধ্যমে ১৯৫৬ সাল থেকে সাজেদা চৌধুরী আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন।

নিজ মেধা ও যোগ্যতায় ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত তিনি মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৫ সালে জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১১ বছর তিনি এই পদে ছিলেন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে কলকাতা গোবরা নার্সিং ক্যাম্পের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ছিলেন সাজেদা চৌধুরী। মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতাকে ত্বরান্নিত করেছিলেন এই প্রবীন রাজনীতিক।

১৯৭২-১৯৭৫ সময়কালে বাংলাদেশ নারী পুনর্বাসন বোর্ডের পরিচালক ছিলেন তিনি। ১৯৭২-১৯৭৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ গার্ল গাইডের ন্যাশনাল কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন।
’৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর তিনি এবং সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দিন মিলে আওয়ামী লীগকে নতুন করে গড়ে তোলেন।

জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যার পর নেত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আসার ব্যাপারেও তিনি বিশেষ অবদান রেখেছেন।

১৯৮১ সালে শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি করার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯২ সাল থেকে সাজেদা চৌধুরী আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ১৯৭৪ সালে গ্রামীণ উন্নয়ন ও শিক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য ইউনেস্কো ফেলোশিপপ্রাপ্ত হন। একই সময় তিনি বাংলাদেশ গার্ল-গাইড অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় কমিশনার হিসেবে সর্বোচ্চ সম্মানসূচক সনদ সিলভার এলিফ্যান্ট পদক লাভ করেন।

তিনি ২০০০ সালে আমেরিকান বায়োগ্রাফিক্যাল ইনস্টিটিউট কর্তৃক ওমেন অব দ্য ইয়ার নির্বাচিত হন। ২০১০ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করে।

এইচকে/আইএম