প্রশ্নের পর প্রশ্নে পথ হারালেন হাওলাদার!

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০১৯ | ৪ মাঘ ১৪২৫

প্রশ্নের পর প্রশ্নে পথ হারালেন হাওলাদার!

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৯:৩৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৮

প্রশ্নের পর প্রশ্নে পথ হারালেন হাওলাদার!

জাতীয় পার্টিতে নিজের ভূমিকার ব্যাখ্যা দিয়েছেন সদ্য সরিয়ে দেয়া মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার।শুক্রবার বনানীর কার্যালয়ে নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ ব্যাখ্যা দেন।

এ সময় সাংবাদিকরা ইশতেহার ধরে ধরে প্রশ্ন করতে থাকলে বিব্রত হন রুহুল আমিন হাওলাদার। এক পর্যায়ে অসহায় প্রকাশ করে বলে বসেন, ‘যেসব বিষয়ে আপনরা (সাংবাদিকরা) প্রশ্ন করছেন, তার উত্তর সবই জানেন। তারপরও কেন আমাকে প্রশ্ন করছেন?’

দশম জাতীয় সংসদে সরকারের সঙ্গে থাকা জাতীয় পার্টি সরকারের বাস্তবায়িত বিভিন্ন কর্মকাণ্ড আবারো বাস্তবায়নের অঙ্গিকার ইশতেহারে করে।

এবার সাংবাদিকরা প্রশ্ন রাখেন, বর্তমান সরকারে তিনজন মন্ত্রী ও ৩৪ জন এমপি জাতীয় পার্টির। সরকারপ্রধানের বিশেষ দূত স্বয়ং জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তবুও কেন সরকারের বাস্তবায়িত নানা উন্নয়ন কর্মসূচি আবারও বাস্তবায়নের কথা বলা হচ্ছে? তাহলে কী বর্তমান সরকারের এ সকল কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন হয়েছে বলে মনে হচ্ছে না?

জবাবে জাপা চেয়ারম্যানের সাংগঠনিক দায়িত্বে থাকা রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, ‘অনেক কিছু বাস্তবায়িত হয়েছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। তবুও আমরা আরও কিছু করতে চাইছি।’

জাপা ইশতেহারে উল্লেখ করেছে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা দেয়া হবে। জাতীয় পার্টি সুযোগ পেলে এক বছরের মধ্যে এটা নিশ্চিত করবে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মামলা দায়ের করার প্রবণতাও বন্ধ করা হবে।

সাংবাদিকরা প্রশ্ন রাখেন, এর অর্থ জাপা বলতে চাইছে, বর্তমানে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নেই। জবাবে হাওলাদার বলেন, ‘স্বাধীনতা রয়েছে। তবে সবার কাছে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলব আমরা।’

গণতন্ত্র রক্ষায় জাপা ভূমিকা পালন করবে— ইশতেহারের এই প্রসঙ্গ আনলে তিনি বলেন, ‘ছোট দলগুলো বলছে তারা অধিকার পাচ্ছে না। গণতন্ত্র নেই। সুযোগ পেলে তাদের অধিকার বাস্তবায়ন করার জন্য ইশতেহারে এমনটি রাখা হয়েছে।’

এমন একের পর এক প্রশ্ন করা হলে খেই হারিয়ে ফেলেন হাওলাদার। এক পর্যায়ে বলেন, ‘আপনাদের (সাংবাদিক) কাছে সব কিছু স্পষ্ট থাকার পরেও কেন প্রশ্ন করছেন?’

ইশতেহারে নতুনত্বের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘দেশের এককেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করে প্রাদেশিক ব্যবস্থা করা হবে। এটাই এবারের নির্বাচনে আমাদের নতুনত্ব। দেশে বিদ্যমান ৮টি বিভাগকে ৮টি প্রদেশে উন্নীত করা হবে। কেন্দ্রীয় সরকারকে বলা হবে ফেডারেল সরকার। কেন্দ্রীয় সরকারে থাকবে ৩০০ আসন বিশিষ্ট জাতীয় সংসদ এবং প্রাদেশিক সরকার। প্রাদেশিক সরকারের থাকবে প্রাদেশিক সংসদ। প্রতি উপজেলা কিংবা থানাকে প্রাদেশিক সরকারের এক একটি আসন হিসেবে বিবেচনা করা হবে।’

জাতীয় পার্টির প্রতীক লাঙ্গল নিয়ে মাত্র ২৯ আসনে নির্বাচন করার পথ খোল রয়েছে। বাকি ১৪৭ আসনে উন্মুক্ত নির্বাচন করার জন্য প্রার্থী দিলেও মহাজোটের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে সরে দাঁড়াতে হতে পারে, যা ইতোমধ্যে পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ শুরু করেছেন।

এত অল্প আসন নিয়ে ক্ষমতায় কীভাবে যাওয়া যাবে? আর প্রতিশ্রুতি কীভাবে বাস্তবায়ন হবে— এমন প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিয়ে হাওলাদার বলেন, ‘আমরা মনে করছি পারব। জাপা একটা বড় রাজনৈতিক দল। তবে রাজনৈতিক কৌশলের জন্য অনেক কিছু করতে হয়।’

বর্তমান প্রেক্ষাপটে দলে নিজের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘দলে কোনো সমস্যা নেই। দল পরিচালনার দায়িত্বে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদই আছেন। নির্বাচনকালীন সময়ে দায়িত্বে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। নির্বাচনের পরে আমরা আবারও বসব, তখন সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।’

হাওলাদার বলেন, ‘আমার নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি হাইকোর্টে আটকে আছে। তাই পার্টির চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতে আমাকে সাংগঠনিক দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।’

এফবি/আইএম

আরও পড়ুন...
পুরনো প্রতিশ্রুতিতে জাপার নতুন ইশতেহার (ভিডিও)