মহাজোটে দ্বৈত প্রার্থী, লাভ কার?

ঢাকা, রবিবার, ২০ জানুয়ারি ২০১৯ | ৬ মাঘ ১৪২৫

মহাজোটে দ্বৈত প্রার্থী, লাভ কার?

সালাহ উদ্দিন জসিম ১২:৫১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১১, ২০১৮

মহাজোটে দ্বৈত প্রার্থী, লাভ কার?

আর মাত্র ১৯ দিনের অপেক্ষা। ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট। ইতোমধ্যে ভোটযুদ্ধের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে রাজনৈতিক দলগুলো।

এবার মাঠে সবার নজর থাকবে বড় দুই জোটের দিকে। যার একটি মহাজোটের নেতৃত্বে রয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। আর বিএনপি নেতৃত্ব দিচ্ছে ২০ দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের।

ভোটের লড়াইয়ে বিএনপি জোট ৩০০ আসনে একক প্রার্থী দিলেও ২ শতাধিক আসনে দ্বৈত প্রার্থী নিয়ে বিপাকে মহাজোট। যেটিকে রাজনৈতিক বোদ্ধারা, ক্ষমতাসীন জোটের জন্য নেতিবাচক বলছেন এবং এটি ভোটের ফলে ভয়াবহ বিপর্যয় আনতে পারে বলেও সতর্ক করছেন।

বিএনপি জোটের ৩০০ আসন ভাগাভাগিতে দেখা গেছে, ২৪২টি আসনে সরাসরি বিএনপির প্রার্থী, বাকি ৫৮টিতে শরিকরা। এর মধ্যে ২৯৮ প্রার্থীই ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন। দু’জন ভিন্ন প্রতীকে ভোট করবেন। তবে সেখানেও ধানের শীষ বা তাদের জোটের কোনো প্রার্থী নেই।

অন্যদিকে, মহাজোটের ৩০০ আসন ভাগাভাগিতে দেখা গেছে, ২৫৮ প্রার্থী আওয়ামী লীগ, আর বাকি ৪২ আসন শরিকদের। এর মধ্যে ২৭২ জন নৌকা প্রতীকে, দু’জন বাইসাইকেল আর ২৬ জন লাঙ্গল প্রতীকে।

এর বাইরেও জাপার লাঙ্গল নিয়ে ১৬২, বিকল্পধারার কুলা প্রতীকে ২০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এদের বিপরীতে আওয়ামী লীগেরই প্রার্থী রয়েছেন। দুই জোটের আসন ভাগাভাগির বাইরেও ৯৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন, যার সিংহভাগ ক্ষমতাসীনদের।

আসন ভাগাভাগির এই চিত্রে দেখা যায়, মহাজোটের প্রধান শরিক আওয়ামী লীগের ২৫৮ প্রার্থীর পাশাপাশি ২ শতাধিক আসনে অন্য শরিক জাতীয় পার্টি ও যুক্তফ্রেন্টের প্রার্থী রয়েছেন। আর শরিকদের জন্য ছেড়ে দেয়া বাকি ৪২ আসনের কয়েকটিতেও ‘স্বতন্ত্র’ নামের বিষফোঁড়া রয়ে গেছেন। এতে করে আনুমানিক শ’খানেক আসন ছাড়া বেশিরভাগ আসনেই মহাজোটের দ্বৈত প্রার্থী।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই দ্বৈত প্রার্থী বা ওপেন করে দেয়ার নীতি আওয়ামী লীগের লাভের চেয়ে ক্ষতির শঙ্কায় বেশি।

বিগত দুটি সংসদ নির্বাচনের ভোট বিশ্লেষণের আলোকে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের ভোট দুই ভাগ হবে। বিপরীতে বিরোধী জোটের প্রার্থীরা এককভাবে ভোট পাবেন।

কবির আহমদ নামে এক রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেছেন, ‘উন্মুক্ত আসনগুলোতে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির একাধিক প্রার্থী থাকার কারণে প্রকৃত অর্থে লাভবান হবে কে এ নিয়ে হিসাব কষার সময় এখনও না আসলেও কিছুটা হলেও ধারণা করা যায়। এই ধারণায় আওয়ামী লীগের লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা কম। একইভাবে ভোটের মাঠে এই আসনগুলোতে জাতীয় পার্টিও যে লাভবান হবে তা না। এতে করে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির ভোটগুলো ভাগাভাগি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল, যার সুফল ভোগ করবে বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা।’

যদিও আওয়ামী লীগ নেতারা এ বিষয়ে সরাসরি কিছু বলছেন না। কিন্তু, তাদের একটি অংশ এই ডাবল প্রার্থী দেয়াকে নিজেদের কৌশল হিসেবে দেখছেন। কারণ, হিসেবে তারা বলছেন, মাঝপথে বিএনপি সরে গেলে যেন জাতীয় পার্টিকেই বিরোধী দল হিসেবে নিয়ে নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়া যায়। অনায়াসেই সরকার ও বিরোধীদল গঠন করা যায়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাদের এই অনুমান সঠিক হলেতো তারাই গেইনার। অন্য রকম হলে বিপর্যয় হবে আওয়ামী লীগেরই। সুফল নেবে বিরোধীপক্ষ।

তবে এ নিয়ে আওয়ামী শিবিরে কোনো ভাবনা নেই। তারা বিষয়টিকে পাত্তাই দিচ্ছে না।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘জোটের বাইরে অনেক শরিকই নির্বাচন করছে। এটা আমাদের জোটগত সিদ্ধান্ত।’

তবে এতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে কি না— জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা জোটগতভাবে ৩০০ আসনে মনোনয়ন দিয়েছি। এর বাইরে কারা, কীভাবে ভোট করবেন, সেটা নিয়ে আমাদের মাথা ব্যথা নেই।’

তবে দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘ভোটের বাজারের কথা এখনতো বোঝা যাবে না, তাই এখনই এই বিষয়টা নিয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না।’

মহাজোটে থেকেও জাতীয় পার্টির এত বিশাল সংখ্যক প্রার্থী দেয়ার একটি ঠুনকো ব্যাখ্যা দিয়েছেন দলটির নবনিযুক্ত মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা।

তিনি বলেন, ‘দ্বৈত প্রার্থী হওয়ায় ভোটাররা বিভ্রান্তিতে পড়বেন সত্য। এতে জোটের প্রার্থীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। কিন্তু, আওয়ামী লীগের অনেক প্রার্থী হওয়ায় সামাল দেয়া যাচ্ছিল না। প্রতিটি আসনে আমাদেরও অনেক প্রার্থী রয়েছেন। এটা নিয়ে একটু অসুবিধা হচ্ছিল জোটে।’

রাঙ্গা বলেন, ‘আমাদের প্রার্থী দাঁড়ালে আওয়ামী লীগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, আমরাও এটি জানি। সেভাবেই আওয়ামী লীগকে বলা হয়েছিল। কিন্তু, পরে মহাজোট থেকে সিদ্ধান্ত আসল, ঠিক আছে উন্মুক্ত করে দেয়া হোক। এজন্য ওপেন রাখা হয়েছে।’

তিনি মনে করছেন, ১৬২টি আসন উন্মুক্ত করে দেয়ায় মহাজোটের দুই বড় দল আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি ‘লাভবান হবে’। তবে প্রকৃত লাভের হিসাব-নিকাশের জন্য ৩০ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু, এবার জোটের রসায়ন ভাল ছিল না, এটাও সত্য।

এসইউজে/আইএম