নয়াপল্টনে সংঘর্ষে হুকুমের আসামি আব্বাস-রিজভী

ঢাকা, বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

নয়াপল্টনে সংঘর্ষে হুকুমের আসামি আব্বাস-রিজভী

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৯:১৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৫, ২০১৮

নয়াপল্টনে সংঘর্ষে হুকুমের আসামি আব্বাস-রিজভী

রাজধানীর নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় পৃথক তিনটি মাললা করা হয়েছে (মামলা নং ২১, ২২ ও ২৩)।

এই মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ ৬ নেতাকে হুকুমের আসামি করা হয়েছে।

অন্য আসামিরা হলেন— জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, যাত্রাবাড়ী বিএনপির সভাপতি নবীউল্লাহ নবী, ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) আকতারুজ্জামান এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কফিল উদ্দিন।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, এই ৬ জনের নির্দেশে ও সরাসরি মদদে রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্ট, হত্যার উদ্দেশে পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা প্রদান, সড়কে যানচলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি ও সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্ন ঘটানো হয়েছে।

মামলায় অন্য আসামিরা হলেন— বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিব, মিডিয়া উইং সামসুদ্দিন দিদার, দফতর সম্পাদক বেলাল আহমেদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট নিপুন রায়, যুবদলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম মজনু, ছাত্রদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন, কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক আরিফা সুলতানা রুমাসি প্রমুখ।

মামলা নং ২১:

পল্টন থানার এসআই সোমেন কুমার বড়ুয়া বাদী হয়ে বিস্ফোরক ও বাংলাদেশ দণ্ডবিধি আইনে প্রথম মামলাটি (২১নং) দায়ের করেন। এই মামলায় ১৯২ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত সহস্রাধিক বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। এরই মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে ১৬ জনকে।

মামলার এজহারে বলা হয়, নির্বাচনী আচরণ বিধির নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও প্রথমে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের নেতৃত্বে ব্যান্ড পার্টি ব্যানার-ফেস্টুনসহ শোডাউন নিয়ে বিএনপির পল্টন কার্যালয়ে আসে। এরপর নবীউল্লাহ নবী ও কফিল উদ্দিনের নেতৃত্বে পৃথক মিছিল শোডাউন নিয়ে আসে। পরে মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে ৮-১০ হাজার নেতাকর্মী নিয়ে মিছিল সহকারে কার্যালয়ে আসে। তারা নয়াপল্টনের ভিআইপি সড়ক বন্ধ করে মিছিল ও শোডাউনের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ তৈরি ও যানচলাচল বন্ধ করে। রাস্তার এক লেন ছেড়ে দিতে অনুরোধ করা হলে তারা ক্ষিপ্ত হয়। আচরণ বিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি রুহুল কবির রিজভীকেও জানানো হয়। মাইকেও বলা হয়। এরপর দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে কার্যালয়ের পাশের সড়কে অবস্থান নেয়। তাদের পার্টি অফিস থেকে লাঠিসোটা নিয়ে রাস্তায় দাঙা করে পুলিশকে হত্যার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে আক্রমণ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। গাড়িতে আগুন দেয়া হয়।

মামলা নং ২২:

বিশেষ আইনে করা ২২নং মামলায় আসামি করা হয়েছে ১৫৯ জনকে। এ মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে ২৩ জনকে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যাত্রাবাড়ী বিএনপির সভাপতি নবীউল্লাহ নবী, ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) আকতারুজ্জামান এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কফিল উদ্দিনসহ পার্টি অফিসে উপস্থিত অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রত্যক্ষ মদদ, নির্দেশ ও অর্থায়নে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল ও দেশে অস্থিতিশীল এবং নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরির অসৎ ও অভিন্ন উদ্দেশ্যে মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রাস্তায় দাঙা করে পুলিশকে হত্যার উদ্দেশ্যে ইচ্ছেকৃতভাবে আক্রমণ, সরকারি কাজে বাধা, লাঠিসোটা ও ইটপাটকেল দিয়ে পুলিশকে আক্রমণ করে মারাত্মক জখম, পুলিশের যানবাহন পুড়িয়ে কার্যক্ষমতা ব্যাহতের চেষ্টা করা হয়।

মামলা নং ২৩:

বাংলাদেশ দণ্ডবিধি আইনে করা ২৩নং মামলায় ১৩৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে ২৬ জনকে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতাররা স্বীকার করে যে, তারা ওই ছয়জনসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশে ও মদদে পলাতক এজাহার নামীয় আসামিসহ আরও অনেককে নিয়ে পুলিশের মনোবল ভেঙে আসন্ন সংসদ নির্বাচন বানচাল এবং অস্থিতিশীল ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরির অসৎ ও অভিন্ন উদ্দেশে এসব ঘটনা ঘটানো হয়। আসামিদের নিক্ষিপ্ত ইটের আঘাতে মতিঝিল বিভাগের এডিসি শিবলি নোমান, পল্টন জোনের সহকারী কমিশনার মিশু বিশ্বাস, পল্টন থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) আবু সিদ্দিকসহ ২৩ সদস্য আহত হন।

উল্লেখ্য, বুধবার (১৪ নভেম্বর) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এতে পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যানসহ দুটি গাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়।

পিএসএস/এসবি

আরও পড়ুন...

হঠাৎ যেভাবে সংঘর্ষের শুরু