ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র আসলে কে?

ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮ | ৩০ কার্তিক ১৪২৫

ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র আসলে কে?

মাহমুদুল হাসান ৬:২৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩১, ২০১৮

ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র আসলে কে?

সব কিছু ঠিকঠাকই চলছে। নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা কিংবা সংলাপের প্রস্ততি। তবু এর অন্তরালে রয়েছে অজানা আতঙ্ক, আছে শঙ্কাও। এই বুঝি ‘ভাঙছে’ ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এই যখন অবস্থা, তখন ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র নিয়ে নতুন ‘সংকট’ তৈরি হয়েছে। তবে এসব এখনও ঐক্যফ্রন্টের ভেতরের আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ।

মঙ্গলবার বিকালে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মিটিংয়ের পর কিছুটা দৃশ্যমান হওয়ার অবকাশ তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত বিএনপির তিন শীর্ষনেতা বিষয়টা আড়াল করতে সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান। ফলে ওইদিন বৈঠক শেষে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিএনপির কেউ ছিলেন না। এর আগে অবশ্য এমনটা কখনও ঘটেনি।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে মঙ্গবার রাতে বৈঠক শেষে। ড. কামাল হোসেনের চেম্বারের গেটেই গুটিকয়েক জনের সামনেই ঐক্যফ্রন্টের এক নেতা কথা বলতে শুরু করেন। পরে তাকে থামিয়ে দিয়ে বলা হয় নিচে সাংবাদিকরা অপেক্ষা করছেন?

সেখানে হুট করেই সাংবাদিদের সামনে কথা বলার বিষয়টি ভালোভাবে নেননি বিএনপির তিন নেতাসহ ঐক্যফ্রন্টের উপস্থিত আরও কয়েকজন। তারা মনে করেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে হলে ড. কামাল হোসেন বা মির্জা ফখরুল বলবেন।

এই নিয়ে ভবনের নিচ তলায় বিএনপির তিন নেতাসহ ঐক্যফ্রন্টের বেশ কয়েকজনকে অনেকটা ক্ষুদ্ধ হতে দেখা যায়। তাদের মধ্যে কেউ বলছিলেন, ‘সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে হলে ড. কামাল হোসেন বলবেন, আরও কাউকে মুখপাত্র করতে হলে সেটা হবেন বিএনপি মহাসচিব।’

পরক্ষণেই ভবনের লিফট দিয়ে নেমে আসেন জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসিন মন্টুসহ ঐক্যের আরও কয়েকজন। আসম রব গেটের দিকে এগিয়ে গেলেও বিএনপি নেতারা ওখানেই দাঁড়িয়ে থাকেন। এরমধ্যে মির্জা ফখরুলকে সংবাদ বিফ্রিংয়ে নেয়ার জন্য চেষ্টা করে ব্যর্থ হন মোস্তফা মোহসিন মন্টু।

এরমধ্যে সাংবাদ বিফ্রিংয়ে  জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে কথা বলেন জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব। তিনি সংলাপে অংশগ্রহণসহ ঐক্যফ্রন্টের বিষয়ে কথা বলেন।

রব জানান, তাকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র নির্বাচিত করা হয়েছে। বৈঠকে তাকে এই দায়িত্ব দেয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘আজকের বৈঠক থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে আমাকে মুখপাত্র করা হয়েছে। আমি এবং ড. কামাল হোসেনের বাইরে কেউ কোনো বক্তব্য দিলে সেটি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বক্তব্য বলে বিবেচিত হবে না।’

এ ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘এ বিষয়ে(মুখপাত্র) মিটিংয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। কেউ যদি নিজেকে মুখপাত্র দাবি করে থাকে তাহলে তাদেরকেই জিজ্ঞাস করতে হবে।’

এছাড়া বিএনপি স্থায়ী কমিটির অপর এক সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘আমরা সংলাপে যাচ্ছি, এটা মিটিংয়ে আলোচনা হয়েছে। এর বাইরে মিটিংয়ের সব কথা তো বলা যাবে না।’

জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘মিটিংএ আসম আবদুর রবকে জাতীয় ঐক্যফন্টের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘কয়েকটি জনসভার তারিখ ঠিক করা হয়েছে। বৈঠকে এগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আতিকুর রহমান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘মিটিংয়ে কোনো মুখপাত্র ঠিক করা হয়নি। আমি মিটিংয়ে যতক্ষণ ছিলাম ততক্ষণ এই ধরনের কোনো কথা হয়নি।’  

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্ত ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আদায়ের লক্ষ্যে ৭ দফা দাবি ও ১১টি লক্ষ্য  নিয়ে গত ১৩ অক্টোবর গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। বিএনপি, গণফোরাম, জেএসডি ও নাগরিক ঐক্যের নেতাদের সমন্বয়ে ঐক্যফ্রন্ট ঘটনা করা হয়। সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে বাইরে রেখে এ ঐক্যফ্রন্ট গঠন করা হয়।

গত ২২ অক্টোবর সিলেটে দুই আওলিয়ার মাজার জিয়ারত ও জনসভার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে পথ চলতে শুরু করে ঐক্যফ্রন্ট। এরপর চট্টগ্রামেও জনসভা করে তারা। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সংলাপে যাচ্ছে ঐক্যফ্রন্টের ১৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। 

এমএইচ/এএসটি

আরও পড়ুন...
‘কামাল-রব ছাড়া কারও বক্তব্য ঐক্যফ্রন্টের নয়’
‘ফখরুল ছাড়া সংলাপ হবে নাকি’