ঐক্যের ব্যানারে নির্বাচনী সরকারের রূপরেখা দিতে চায় বিএনপি

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

ঐক্যের ব্যানারে নির্বাচনী সরকারের রূপরেখা দিতে চায় বিএনপি

মাহমুদুল হাসান ১০:৩৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৮

ঐক্যের ব্যানারে নির্বাচনী সরকারের রূপরেখা দিতে চায় বিএনপি

একাদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা ঘোষণা করতে যাচ্ছে বিএনপি। সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য এই রূপরেখা জাতির সামনে তুলে ধরবে দলটি। তবে বিএনপি নয়, জাতীয় ঐক্যের ব্যানারেই এই ঘোষণা দিতে চান দলটির নেতারা।

তবে কবে নাগাদ এই রূপরেখা ঘোষণা করা হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এনিয়ে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বিএনপি নেতাদের আলাপ-আলোচনা চলছে বলে উভয় সূত্রেই জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ঐক্যমতের ভিত্তিতে নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার জন্য প্রস্ততি নেয়া হচ্ছে। জাতীয় ঐক্যের ব্যানারে যে পাঁচ দফা প্রস্তাব আনা হয়েছে, তাতে বিএনপিও একমত হয়েছে। এরসঙ্গে আরও কিছু যুক্ত করে বিএনপি একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা ঘোষণা করবে।

এই রূপরেখা নিয়ে ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদের সঙ্গে ভেতরে ভেতরে আলাপ-আলোচনা চলছে। বৈঠক করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ঐকমত্য হলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তা জাতির সামনে তুলে ধরা হবে।

জাতীয় ঐক্যের পাঁচ দফায় রয়েছে- নির্বাচনের তফসিলের আগে সংসদ ভেঙে দেয়া, সরকারের পদত্যাগ, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার বাতিল, নির্বাচনের সময় আগে-পরে মিলে অন্তত এক মাস সেনা মোতায়েন।

এর সঙ্গে নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্বে কারা থাকতে পারবে, এর গঠন কেমন হবে এবং মেয়াদকাল কতদিন হবে- এসব বিষয়গুলো যুক্ত করে বিএনপি একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা ঘোষণার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের একটা রূপরেখা তৈরি আছে। সেটা নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। একটু সময় লাগবে ঘোষণা করতে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা ঘোষণা করব। এখন যেহেতু একটা জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি, আমরা সবার সঙ্গে আলোচনা করেই তা প্রকাশ করব। এখনো তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। তারাও (জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া) নির্বাচনকালীন সরকারের কথা বলেছেন।’

ড. মোশাররফ বলেন, ‘মোটামুটিভাবে আমাদের যে সহায়ক সরকারের রূপরেখা তাতে অনেক রাজনৈতিক দলেরই সম্মতি আছে। আলোচনা করে সিদ্ধান্ত হবে- যারা যার প্লাটফর্ম থেকে নাকি জাতীয় ঐক্যের ব্যানারে তা ঘোষণা করা হবে।’

জানতে চাইলে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় জড়িত গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘আমাদের পাঁচ দফার মধ্যে নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে বলা আছে। যদি এর সঙ্গে নতুন কিছু যুক্ত করতে হয় সামনে আমাদের মিটিং আছে সেখানে সিদ্ধান্ত হবে। তারপর বলা যাবে, তবে একটু তো সময় লাগবেই।’

এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ‘কিভাবে এই নির্বাচনকালীন সরকার হওয়া উচিত এনিয়ে আমাদের নিজস্ব প্রস্তাবনা দেব। খুব শিগগিরই আপনারা পাবেন।’

শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী রেখেই নির্বাচনকালীন সরকার হলে সেটা বিএনপির কাছে গ্রহণযোগ্য হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘না। তিনি একটি দলের প্রধান, যে দল নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবে। তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকলে সংবিধান অনুযায়ী তার অধীনেই প্রশাসন থাকবে। সেটা ডেলিগেট করার (অন্য কারো হাতে অর্পণ করার) ক্ষমতা তো তার নেই।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘কোনো দলীয় সরকারের অধীনে বাংলাদেশে কোনো সুষ্ঠু, অবাধ নির্বাচন হয়নি, এবারও হবে না। কোনো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন কমিশন কোনো দিনই স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে না। এগুলো ঐতিহাসিকভাবে সত্য কথা।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামছুজ্জামান দুদু পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘আমাদের মূল দাবিটা হচ্ছে কোনো দলীয় সরকার বা দলীয় প্রধানের অধীনে আমরা নির্বাচনে যাব না। নিরপেক্ষ সরকারের কথা বলছি। যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া, অন্যান্য বামদলগুলো নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের কথা বলছে। আমরা চাই, সকলে মিলেই আলোচনার মাধ্যমে একটা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন করা। এর বাইরে আওয়ামী লীগও নয়।’

তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, এটা ঠিক কোনো স্বৈরাচারী সরকার সাধারণত আলোচনায় আসতে চায় না। এক্ষেত্রে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো মিলেই আন্দোলনের পথে যাবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে দুদু বলেন, সরকার যদি আলোচনায় না আসে, তাহলে অন্য রাজনৈতিক দলেগুলোর মধ্যে যদি ঐক্য হয় তাহলে ওই ব্যানারে নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা ঘোষণা হতে পারে। এছাড়া নিজ নিজ ব্যানারেও হতে পারে।

বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়জ্জেম হোসেন আলাল পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য সরকার পরিবেশ তৈরি করতে পারেনি। বিগত নির্বাচনগুলো তার প্রমাণ দিয়েছে। তাই এই অকার্যকর নির্বাচন কমিশন ও দলীয় সরকারের অধীনে দেশের মানুষ কোনো নির্বাচন দেখতে চায় না। তাই সকলেই আজ ঐক্যবদ্ধ। শুধু বিএনপি নয়, বিএনপির বাইরে থাকা দলগুলো আজ নিরপেক্ষ সরকারের কথা বলছে।’

তিনি বলেন, ‘সহায়ক সরকারের রূপরেখা তৈরি আছে। সবার মতামতের ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্যের ব্যানারে এটা ঘোষণা করা হতে পারে। এটা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।’

এমএইচ/এমএসআই