নির্বাচন নিয়ে বিএনপিতে এত শঙ্কা কেন?

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮ | ২ কার্তিক ১৪২৫

নির্বাচন নিয়ে বিএনপিতে এত শঙ্কা কেন?

মাহমুদুল হাসান ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৮

নির্বাচন নিয়ে বিএনপিতে এত শঙ্কা কেন?

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসন্ন। নির্বাচনী প্রস্তুতির সঙ্গে বিএনপির ওপর নেতাকর্মীদের চাপ বাড়ছে দাবি আদায়ের কর্মসূচির। কিন্তু, কোনোভাবেই মাঠে নামতে পারছে না তারা।

এর সঙ্গে হঠাৎ করেই বেড়েছে সারাদেশে মামলা-গ্রেফতার। রাতে নেতাকর্মীদের বাড়িতে চলছে তল্লাশি। এতে দেশজুড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

এমন অবস্থায় বিএনপি নেতাদের মনে সংশয় দেখা দিয়েছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে! অবশ্য তারা গুণে গুণে ভোট না হওয়ার পেছনে ডজনখানেক কারণও দাঁড় করাচ্ছেন।

বিএনপি নেতারা বলছেন, আওয়ামী লীগ আবারো বিএনপিকে বাদ দিয়ে একতরফা নির্বাচনের ষড়যন্ত্র করছে। যে কারণে নির্বাচনের আগেই কর্মীশূন্য করতে নিপীড়ন চালাচ্ছে। হামলা-মামলা আর গণগ্রেফতারের মাধ্যমে হয়রানি-আতঙ্ক তৈরি করছে। নির্বাচন ঘিরেই নতুন করে হাজার হাজার নেতাকর্মীর নামে মামলা দেয়া হয়েছে, হচ্ছে।

ফাঁকা মাঠে গোল দেয়ার প্রস্তুতি হিসেবে ক্ষমতাসীনরা সিনিয়র নেতাদের নামে দায়ের পুরনো মামলা পুনরুজ্জীবিত করে তাদের কারাগারে পাঠানো হবে বলেও আশঙ্কা করছে বিএনপি।

এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলাগুলো যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে সহসা তিনি মুক্তি পাচ্ছেন না— এমন বাস্তবতা এখন দলটির নেতারাও মানছেন।

বিএনপির নীতি-নির্ধারকদের ভাষ্যে, সরকার তার কঠোর মনোভাব থেকে একচুলও নড়েনি। সংলাপের নামগন্ধ পর্যন্ত শুনতে পারছে না। বিরোধী মতের বেড়ে ওঠা কিংবা সংঘবদ্ধ ঐক্য প্রচেষ্টাকেও তারা সহ্য করতে পারছে না। এর সঙ্গে সব মতকে উপেক্ষা করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই নির্বাচনকালীন সরকার গঠন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করে ফেলেছে।

সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার ইচ্ছে সরকারের থাকলে এসব বিষয়ে নমনীয় হতেন বলে বিএনপি নেতারা মত দিয়েছেন।

বর্তমানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে বন্দি। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও নির্বাসিত। দলটির নীতি-নির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ সিনিয়র নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের বহু মামলা বিচারাধীন। নতুন করে মামলা দেয়ায় অনেকেই আত্মগোপনে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

এমতাবস্থায় নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা থাকলেও বিএনপি এখনো তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেনি। তারা কী ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির পথ ধরে নির্বাচন বর্জন করবে নাকি সব শঙ্কা মেনে নিয়েই ভোটের লড়াইয়ে নামবে তা সময়ই বলে দেবে।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘অবৈধ সরকার যা শুরু করেছে, তা নিয়ে আমরা একদম শঙ্কিত নই। তবে তাদের করুণ বিদায় আসন্ন ভেবেই কষ্ট হচ্ছে, যে বিদায়ে হয়তো চিরদিনের জন্য এদেশে আওয়ামী লীগের সমাধি রচিত হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘একাদশ সংসদ নির্বাচন আদৌ হবে? তবে এবার আরেকটি ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচন করা সহজ হবে না।’

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবীব পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আবারো একদলীয় একতরফা নির্বাচনের পথে হাঁটছে। এজন্য মামলা-হামলা-গ্রেফতার করে বিএনপিকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করছে তারা। এসব করে ক্ষমতাসীনদের শেষরক্ষা হবে না। সুযোগ পেলে মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে এসবের জবাব দেবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা খালেদা জিয়াকে নিয়েই নির্বাচন করার বিষয়ে আশাবাদী। এর বিপরীত কিছু হলে বিএনপি আদৌ নির্বাচনে যাবে কিনা তা সময়ই বলে দেবে।’

বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘সরকার যেভাবে আদালতকে ব্যবহার করে খালেদা জিয়াকে নির্বাচন পর্যন্ত বন্দি রাখার ষড়যন্ত্র করছে, নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে, তাতে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন হবে কিনা তা নিয়েই যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।’

এমএইচ/আইএম