‘এটা কি মামা বাড়ির আবদার’

ঢাকা, বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

‘এটা কি মামা বাড়ির আবদার’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৭:১০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮

‘এটা কি মামা বাড়ির আবদার’

‘প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ কেন করতে হবে, এটা কি মামা বাড়ির আবদার? তাহলে কাকে বসাব? দেশের দায়িত্বে কি ফখরুল সাহেব বসবেন?’

বুধবার দুপুরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সভা কক্ষে ‘ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পরিষদ’ এর বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের  এক প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ নিয়ে বিএনপির দাবির বিষয়ে ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, ‘তাহলে কে বসবে? সংবিধান থাকবে না দেশে, নিয়ম কানুন থাকবে না দেশে?’

‘পৃথিবীর অন্যান্য দেশে নির্বাচন যেভাবে হয় বাংলাদেশেও নির্বাচন একইভাবে হবে। তারা বলুক আমরা সংবিধানের বাইরে কোথায় যাচ্ছি। আমরা সংবিধানের বাইরে যাবো না,’ বলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

এছাড়া সংসদ ভাঙ্গা, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আমেরিকা সফর এবং খালেদা জিয়ার জামিন নিয়েও সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন ওবায়দুল কাদের।

সংসদ ভাঙ্গা প্রসঙ্গে

সংসদ ভেঙ্গে দিতে হবে বিএনপির এমন দাবির প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সংসদের এই অধিবেশনের পরে আরেকটি অধিবেশন হবে, সম্ভবত অক্টোবরের মাঝামাঝি শেষ হবে। এরপর আর সংসদ বসবে না।’

‘শিডিউলের পর সংসদ অধিবেশন বসবে না। পরবর্তী অধিবেশনই শেষ অধিবেশন। এরপর মন্ত্রীরা রুটিন ওয়ার্ক করবেন, এমপিদের কোনো পাওয়ার থাকবে না। তাদের হাতে কোনো দায়িত্ব থাকবে না।’

‘সংসদ আনু্ষ্ঠানিকভাবে ভাঙ্গাও হবে না, সংসদের কোনো কার্যকারিতাও থাকবে না। নির্বাচনকালীন সময়ে সংসদ বসবেও না।’

নতি স্বীকার নয়

সংবিধান বহির্ভূত কোনো চাপের কাছে সরকার নতি স্বীকার করবে না বলেও মন্তব্য করেন সেতুমন্ত্রী।

নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতিসংঘের নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের আমেরিকা সফরের বিষয়টি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তারা তো জাতিসংঘে অবিরাম অভিযোগ দিয়েই যাচ্ছে। দেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়ে যাচ্ছে, নালিশ করছে।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সামনা-সামনি কোনো পলিটিক্যাল আলোচনা হতে পারে, সেটা নিয়ে আমাদের আপত্তি থাকার কোনো বিষয় না। জাতিসংঘ কাউকে ডাকলে যাবে। আমাদের শক্তির উৎস এদেশের জনগণ।’

তিনি আরো বলেন, ‘কোনো সমস্যা থাকলে জাতিসংঘ জানতে পারে, কিন্তু আমাদের সিদ্ধান্ত আমরাই নিব। আমাদের সিদ্ধান্ত-সংবিধান বহির্ভূত কোনো প্রেসারের কাছে নতি স্বীকার করব না।’

খালেদার মুক্তি প্রসঙ্গ

বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে বিএনপির দাবি সম্পর্কে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বেগম জিয়ার মুক্তির ব্যাপারটি আদালতের ব্যাপার। বেগম জিয়ার মুক্তি দেওয়ার কোনো ক্ষমতা সরকারের নেই।’

‘আদালতে ইতোপূর্বে অন্তত ৩০টি মামলা জামিন দিয়েছেন। আদালতে সরকার হস্থক্ষেপ করে তাহলে তিনি এত বার জামিন পেলেন কেমন করে? জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট মামলায় হাইকোর্টেও জামিন পেয়েছেন। এখন তার জামিন, তাকে মুক্তি দেওয়া এই ব্যাপারটি আদালতের।’

‘তার মুক্তির জন্য বিএনপি নেতাদের এত আগ্রহ, এত সিরিয়াসনেস, তাহলে দশ বছর কেন একটি মামলাকে প্রলম্বিত করেছেন? এই মামলাটি তো অনেক আগেই শেষ হয়ে যেত। এখন নির্বাচনের সময় পর্যন্ত গড়াত না।’

‘এত বিজ্ঞ আইনজীবী আছে, তারা কি পারলেন না এত দিনে এই মামলাটা শেষ করতে? দশ বছর লাগবে কেন। তিনি ১৫৪ অনুপস্থিত থাকবে এই দায়িত্ব কে নিবে?’

এসইউজে/এএসটি