আদালতে আসেননি খালেদা, জামিনের ব্যাখ্যা চাইলেন বিচারক

ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৭ আশ্বিন ১৪২৫

আদালতে আসেননি খালেদা, জামিনের ব্যাখ্যা চাইলেন বিচারক

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৫:২৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮

আদালতে আসেননি খালেদা, জামিনের ব্যাখ্যা চাইলেন বিচারক

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাগারের অস্থায়ী আদালতে আসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আর আদালতে হাজির না হলে জামিনে থাকার আইনি ব্যাখ্যা কী তার আইনজীবীদের কাছে তা জানতে চেয়েছেন আদালত।

রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে অবস্থিত আদালতে বুধবার হাজির হতে অস্বীকৃতি জানান খালেদা জিয়া। ফলে তাকে আদালতে হাজির করতে পারেনি কারা কর্তৃপক্ষ।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল আদালতকে বিষয়টি অবহিত করেন। পরে উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেন ঢাকার অস্থায়ী ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান।

শুনানিতে বিচারক বলেন, খালেদা জিয়া আদালতে না এলে কিভাবে তিনি জামিনে থাকবেন- এ ব্যাপারে খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) আইনি ব্যাখ্যা দেবেন।

এদিকে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল আদালতে বলেছেন, ‘খালেদা জিয়া কারাগারে আছেন। তিনি আদালতে না এলে আইন অনুযায়ী এ মামলার বিচারকাজ চলবে।’

এর আগে শুনানির শুরুতে খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া আদালতে বলেন, এ আদালত প্রকাশ্য আদালত নন। সংবিধানপরিপন্থী। খালেদা জিয়ার জামিন বাড়ানোর আবেদন করেন তিনি।

অপর আসামি জিয়াউল ইসলাম মুন্নার আইনজীবী আদালতকে বলেন, এ আদালত গুহার মতো। এখানে ঠিকমতো শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়া যায় না। যেকোনো সময় যে-কারও ‘সাফোকেশন (দমবন্ধ হওয়া)’ হতে পারে। এ আদালত সংবিধানপরিপন্থী।

এক মাসের জন্য আদালতের কার্যক্রম মুলতবি চেয়ে তিনি বলেন, এমন আদালত তিনি তার পেশাগত জীবনে দেখেননি। আইনজীবী, সাংবাদিকদের বসার পর্যাপ্ত জায়গা নেই। এটি কোনোভাবে প্রকাশ্য আদালত হতে পারে না। এ ব্যাপারে আদালতের হস্তক্ষেপ চান আমিনুল।

তবে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, ‘আইন মেনে এ আদালত গঠিত হয়েছে। খালেদা জিয়ার সুবিধার জন্য এখানে আদালত বসেছে। একদিকে খালেদার আইনজীবীরা বলছেন, এ আদালত প্রকাশ্য আদালত নন, সংবিধানপরিপন্থী। অথচ এ আদালতে আবার জামিন চাচ্ছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বারবার বলা হচ্ছে খালেদা অসুস্থ। উনি (খালেদা) কিসের অসুস্থ। উনি আদালতে এসে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সবাই দেখেছে।’

উল্লেখ্য, বিশেষ জজ আদালত-৫ এর কার্যক্রম ঢাকা মহানগরের বকশিবাজার এলাকার সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা ও সাবেক ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার সংলগ্ন মাঠে নির্মিত অস্থায়ী আদালত ভবনে পরিচালিত হচ্ছিল।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. মাহবুবার রহমান সরকার স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।

ওএস/ এমএসআই