প্রতীকী অনশন কর্মসূচিতে যা বললেন বিএনপি নেতারা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৫ আশ্বিন ১৪২৫

প্রতীকী অনশন কর্মসূচিতে যা বললেন বিএনপি নেতারা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৪:০১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮

প্রতীকী অনশন কর্মসূচিতে যা বললেন বিএনপি নেতারা

কারাবন্দি দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আয়োজিত পূর্বঘোষিত প্রতীকী অনশন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপি নেতারা। রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, মূল মামলায় জামিন হওয়ার পরও সরকার ষড়যন্ত্র করে খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দি করে রেখেছে।

তিনি বলেন, সারাদেশ আজকে ঐক্যবদ্ধ। যারা জাতীয় ঐক্য গঠন প্রক্রিয়ায় কাজ করছেন তারাও বলছেন, দেশি-বিদেশি বন্ধু রাষ্ট্রগুলো বলছে, আগামী জাতীয় নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হতে হবে। আর খালেদা জিয়া ছাড়া বিএনপিকে ছাড়া অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে না। তাই স্পষ্ট করে বলতে চাই, সরকার যতই ষড়যন্ত্র করুক না কেন, ২০১৪ সালের মতো একতরফা নির্বাচন দেশে আর হতে দেওয়া হবে না। কারণ ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারি দেশে কোনো নির্বাচন হয়নি।

সরকার ও পুলিশ বাহিনীকে উদ্দেশ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, আপনাদের সময় শেষ। মামলা গ্রেফতার করে বিএনপির দাবি আদায়ের আন্দোলন দমন করা যাবে না। আপনারা যারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী, তারা আওয়ামী লীগের কর্মচারী নন। যারা এখনও আওয়ামী লীগের কথায় কাজ করছেন তাদেরকেও কিন্তু আগামীতে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তাই অযথা বিএনপির নেতাকর্মীদের হয়রানি, গ্রেফতার ও মামলা করবেন না।

খালেদা জিয়ার মুক্তি ব্যতীত দেশের গণতন্ত্রের মুক্তি হবে না বলেও মন্তব্য করেন মোশাররফ হোসেন।

প্রতীকী অনশনে অংশ নিয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, সময় আসতেছে। বেশি দেরি নাই। এমন কর্মসূচি দেওয়া হবে যে কর্মসূচিতে এই সরকারের নৌকা ভেসে যাবে।

খালেদা জিয়া নির্জন কারাগারে আছেন। তাকে একটি পরিত্যক্ত কক্ষে আবদ্ধ করে রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে করে মওদুদ বলেন, সময় মাত্র মাস খানেক। আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। এবার রাজপথে নেমে অভিষ্ঠ লক্ষ্যে পৌঁছানোর শেষ পর্যন্ত থাকতে হবে। সরকারকে বিদায় করতে হবে।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া অসুস্থ কারাগারে। তাকে সুস্থ করতে সরকারের কোনো প্রচেষ্টা নেই। বরং খালেদা জিয়াকে জেলখানায় তিলে তিলে মারার ষড়যন্ত্র করছে সরকার।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া কারাগারের ভেতরে অবস্থিত আদালতে উপস্থিত হয়ে বলেছেন, আমি অসুস্থ। বার বার হাজিরা দিতে আসতে পারবে না। এখানে ন্যায়বিচার হয় না। তাই যা ইচ্ছে সাজা দেন। আমি আসতে পারব না। কাজেই নেত্রীর বার্তার প্রতি সমর্থন জানিয়ে আমরাও বলছি, এই আদালতের রায় আমরা মানি না। দেশের জনগণও মানে না।

ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, এই দেশের কোটি কোটি মানুষ খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করে আগামী দিনে দেশের চর্তুথবারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করবে।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই গণতান্ত্রিক লড়াই চলবে। সেই  লড়াইয়ের অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবে বিএনপি। বিজয়ী হয়ে খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী করব।

এ সময় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বানও জানান সাবেক এই রাষ্ট্রদূত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর এমাজ উদ্দিন আহমেদ বিএনপির সিনিয়র নেতাদের পানি পান করিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতীকী অনশন ভাঙান।

সমাপনী বক্তব্যে এমাজ উদ্দিন বলেন, আজকে গণতন্ত্র ভুলণ্ঠিত। ৭১-এ ত্যাগ তীতিক্ষায় অর্জিত গণতন্ত্র ভেসতে গেছে। এর থেকে উত্তরণের পথ আগামী জাতীয় নির্বাচন। যে নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। কারণ আমরা আইনের শাসন, মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার, গণতন্ত্র হারিয়েছি। তা খালেদা জিয়ার মুক্তি ও আগামী সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ফিরে পেতে চাই।

প্রসঙ্গত, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে নাজিমুদ্দিন রোডে ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। কারাবন্দি হওয়ার পর থেকে তার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ, প্রতিবাদ সমাবেশ, প্রতীকী অনশন, মানববন্ধন, কালো পতাকা প্রদর্শন, গণস্বাক্ষর অভিযান, বিভাগীয় শহরে জনসভা ও অন্যান্য কর্মসূচি পালন করে আসছে দলটি।

এমএইচ/আরপি

আরও পড়ুন...
প্রতীকী অনশন কর্মসূচির অনুমতি পেয়েছে বিএনপি
বিএনপির প্রতীকী অনশন শুরু (ভিডিও)
বিএনপির অনশন কর্মসূচি শেষ