বাংলাদেশের হারিয়ে যাওয়া স্লোগান

ঢাকা, রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮ | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

বাংলাদেশের হারিয়ে যাওয়া স্লোগান

তাসলিমুল আলম তৌহিদ ৭:৩২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮

বাংলাদেশের হারিয়ে যাওয়া স্লোগান

বক্তব্যের বিস্ফোরণ আর স্লোগানের সঞ্জীবনী শক্তি— দেখেছে বাংলাদেশ, ১৯৭১ সালে। ৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এক বক্তব্যে গণবিস্ফোরণ ঘটে। দেশমাতৃকার মুক্তির সংগ্রামে, যার যা আছে তাই নিয়ে সারাদেশে ঝাঁপিয়ে পড়েন সব বয়সীরা।

সেদিন জয়বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু; তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা মেঘনা যমুনা— এমন নানা স্লোগানে প্রকম্পিত হয়েছিল রেসকোর্স ময়দান (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান)। শুধু কি রেসকোর্স ময়দান! স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হয়েছিল গোটা বাংলা। কাঁপন ধরিয়েছিল পশ্চিমপাকিস্তান, তাদের এদেশীয় দোসর ও পাক হানাদার শিবিরে।

স্লোগানের শক্তি সম্প্রতি দেখা গেছে, নিরাপদ সড়ক দাবির আন্দোলনে। ‘We Want Justice’ লিখে সারাদেশে রাষ্ট্র মেরামতের যে কর্মযজ্ঞ শিক্ষার্থীরা দেখিয়েছে, তা আন্দোলনের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তারও আগে ২০১৩ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে রাজধানীর শাহবাগে গড়ে ওঠে গণজাগরণ মঞ্চ। সেখান থেকে আসা রাজাকারের ফাঁসি চাই, পক্ষ নিলে রক্ষা নাই; তুই রাজাকার, তুই রাজাকার; ‘জামায়াত-শিবির রাজাকার, র-তে রাজাকার, এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়, স্লোগান মানুষকে দারুণভাবে উজ্জীবিত করেছিল।

বিচিত্র বাংলাদেশ, রাজনীতি তার আরো বৈচিত্র্যময়। এই ভূমিতে সৃষ্ট অনেক স্লোগানই ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে। আবার এমন সব স্লোগান, যা কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে। কিছু আছে এমন, যা এখন উচ্চারণ করতেও কুণ্ঠাবোধ করেন অনেকে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘মানুষ তার প্রয়োজন ও পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনায় স্লোগান সৃষ্টি করেন। সময়ের বিবর্তনে তার পরিবর্তনও আসে। যেমন: স্বাধীন বাংলাদেশে স্লোগানে ইংরেজির ব্যবহার ছিল না বললেই চলে। সম্প্রতি নিরাপদ সড়ক দাবির আন্দোলনে সবচেয়ে জোরাল স্লোগান কিন্তু ‘We Want Justice’. এটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।’

সময়ের প্রয়োজনে নতুন নতুন স্লোগান সৃষ্টি হলেও কিছু আজ বিলুপ্ত। কিন্তু, কেন একটি প্রতিষ্ঠিত স্লোগান হারিয়ে গেছে? কেন ব্যবহার হচ্ছে না? পরিবর্তন ডটকমে তারই একটি পোস্টমর্টেমের প্রচেষ্টা—

‘অমুক-তমুক ভাইয়ের চরিত্র, ফুলের মতো পবিত্র

বাংলাদেশে দলীয় রাজনীতিতে এক সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় স্লোগান হয়তো এটিই। যেকোনো কর্মসূচির প্রধান ব্যক্তি উপস্থিত হলে নেতাকর্মীরা এই স্লোগানে মুখরিত করে তুলতেন। কিন্তু, এখন এটি ব্যবহার হয় না বললেই চলে। বড় কারণ হয়তো, কর্মীরাও এখন তাদের নেতাদের চরিত্র বদলের রাজনীতি সম্পর্কে অবহিত।

এই স্লোগানটি বিলুপ্তির বিষয়ে ১৯৮৮-৯১ পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি, পরে বিএনপিতে এসে বর্তমানে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘দুর্নীতিবাজ এবং বাজে চরিত্রের রাজনীতিকরাও স্লোগানটি ব্যবহার করেন। ফলে স্বচ্ছ, সৎভাবে যারা রাজনীতি করেন, তারা এর প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক মিজান উদ্দিন পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘বর্তমানে রাজনীতিকরা ব্যাপকমাত্রায় দুর্নীতিগ্রস্ত। ফলে তাদের প্রতি জনগণের মধ্যে আস্থাহীনতা প্রবল। এজন্যই হয়তো কর্মীরাও তার নেতার প্রশস্তি গাইতে এখন ‘অমুক ভাইয়ের চরিত্র, ফুলের মতো পবিত্র’ শব্দযুগলের ব্যবহার করেন না।’

এক দফা এক দাবি,  .... তুই কবে যাবি

নব্বইয়ের দশকে স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনের কথা আসলেই শহীদ নূর হোসেনের সেই ছবি সবার চোখে ভেসে উঠতে বাধ্য। বুকে-পিঠে লেখা, ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’। এই আন্দোলনেরই দামি স্লোগান, ‘এক দফা এক দাবি, এরশাদ তুই কবে যাবি’। যুগপৎ আন্দোলনে এরশাদ ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন, এরপর আর কখনো এককভাবে ক্ষমতাসীন হতে পারেননি। ফলে এই স্লোগানটি আর ব্যবহৃত হয় না।

নব্বই দশকে স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম নেতা শফী আহমেদ, জাসদ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

বর্তমানে আওয়ামী লীগের এই নেতা পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘এরশাদবিরোধী আন্দোলনে আমাদের একটাই স্লোগান ছিল, এক দফা এক দাবি, এরশাদ তুই কবে যাবি। সময়ের প্রেক্ষাপটে এই স্লোগানের আর মূল্য নেই। কিন্তু, নাম পরিবর্তন করে আমরা ঠিকই ব্যবহার করছি। ফলে এটি তামাদি হয়ে গেছে, বলা মনে হয় ঠিক হবে না।’

রুশ-ভারতের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান

ভারতবিরোধী যেকোনো আন্দোলনে এমন স্লোগান আগে খুব ব্যবহার হতো। আওয়ামী লীগকে ইঙ্গিত করে বিএনপি এবং ইসলামী দলগুলোর নেতাকর্মীরা এই স্লোগান দিতেন। বাম দলগুলোর তো কমন স্লোগান ছিল এটি। কিন্তু, সময়ের ব্যবধানে এখন আর বিরোধী শিবিরকে এ স্লোগান দিতে দেখা যায় না।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ক্ষমতার রাজনীতিতে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বা তাদের অনুকম্পা পেতে বিএনপি এখন আগের অবস্থান পরিবর্তন করেছে। ফলে দলটির নেতাকর্মীরাও স্লোগানের ভাষা প্রয়োগে সচেতন হয়েছেন।

বিএনপি কেন এ অবস্থান থেকে সরে এসেছে, জানতে চাইলে ডাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘ভারত প্রতিবেশী রাষ্ট্র। ভূ-রাজনীতিতে তারা এখন বৃহৎ শক্তিগুলোরও অংশ। রাজনীতির আন্তর্জাতিক মেরুকরণের কারণেই সব সময় একই অবস্থানে থাকা কঠিন।’

এই স্লোগানটির উৎপত্তি বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল কাশেম পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘চীনপন্থী বামেরা এক সময় আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্যে রুশ-ভারতের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান, স্লোগান দিতেন। পরে স্লোগানটি বিএনপিতে বিলীন হয়ে যায়। এখন সবাই এটিকে বিএনপির স্লোগানই মনে করে। কিন্তু, ক্ষমতার রাজনীতিতে তারাও অবস্থান পরিবর্তন করেছে। এখন আর এটি উচ্চারিত হচ্ছে না।’

এ বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক মিজান উদ্দিন পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক রাজনীতির পরিবর্তন ঘটেছে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে গেছে। রাজনীতিতে আমেরিকা-রাশিয়ার সম্পর্কের ভিন্নতা পেয়েছে। এসব কারণে স্লোগানটির প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে গেছে।’

এ বিষয়ে ১৯৮৮-৮৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি ও বর্তমান রাজশাহী জেলা সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রাগীব হাসান মুন্না পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘বিএনপি-আওয়ামী লীগ ক্ষমতার স্বার্থে সবকিছুই করে। মানুষের কোনো ক্ষমতা বা অধিকার দিতে চায় না তারা।’

তিনি বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন এবং পরবর্তী সময়ে ভারত যা করেছে, তাতে বিএনপি জেনে গেছে, ভারতবিরোধী হয়ে ক্ষমতায় আসা যাবে না। এজন্য তারা স্লোগানটি থেকে পিছু হটেছে। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।’

সিকিম নয় ভুটান নয়, এদেশ আমার বাংলাদেশ

সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে পুনর্গঠিত হচ্ছিল। তখন আওয়ামী বিদ্বেষী বাম রাজনৈতিক শক্তির নেতাকর্মীদের মুখে মুখে স্লোগানটি ফিরত। কিন্তু, এখন আর তাদের এটি ব্যবহার করতে দেখা যায় না।

আওয়ামী লীগ নেতা শফী আহমেদ বলেন, ১৯৭৩-৭৪ সালে বামধারার দলগুলো আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ্য করে এই স্লোগান দিতো। কিন্তু, এখন তো বামেরাই নিজেদের নীতি-আদর্শে অটল নেই। ফলে তারা এ ধরনের স্লোগান ব্যবহারের নৈতিক শক্তি হারিয়ে ফেলেছে।

মুজিব হত্যার পরিণাম, বাংলা হবে ভিয়েতনাম

এটিও এক সময়ের জনপ্রিয় স্লোগান। কিন্তু, এখন আর এর বাস্তবতা নেই।

স্লোগানটির উৎপত্তির বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মানস চৌধুরী ই-মেইল বার্তায় পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘স্লোগান হারানোর মতো বিষয়ে মতামত দেয়ার আগে যে নিবিড় ইতিহাস চর্চা দরকার, তা আমার নেই। নিশ্চয়ই কারো না কারো আছে।

কিন্তু, প্রসঙ্গক্রমে বলা যায়, কিছু স্লোগান তো পরিপ্রেক্ষিতমূলক। যেমন: ধরুন ‘মুজিব হত্যার পরিণাম, বাংলা হবে ভিয়েতনাম’। তদানীন্তন বাংলাদেশের মস্কোপন্থী বামদের এই স্লোগান তো এখন পরিপ্রেক্ষিত হারিয়ে ফেলেছে। কিংবা ‘বাংলার হিন্দু বাংলার মুসলিম... আমরা সবাই বাঙালি’ এই স্লোগানের তাৎপর্য হারাক না হারাক এটা ‘সাবেকী’ হয়ে গেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধকালীন রাষ্ট্রীয়-সমাজ গঠনের যে ঐক্য জরুরি মনে হয়েছিল, তা হয়তো এখনকার সমাজের ‘ভ্যানগার্ড’দের মনে হয় না। পরিপ্রেক্ষিতকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা দরকার।’

আরো যেসব স্লোগান কালের গর্ভে

স্বাধীনতা পরবর্তী আওয়ামী লীগের স্লোগান কি ছিল? বাম দলগুলোর কটূক্তির জবাবে আওয়ামী লীগের স্লোগান কেমন ছিল? জানতে চেয়েছিলাম ১৯৮৫ সাল থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্বে থাকা সুলতান মুহাম্মদ মনসুর আহমেদের কাছে।

তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে প্রথম নির্বাচিত ভিপি। ১৯৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে এমপিও হন।

পরিবর্তন ডটকমকে সুলতান মুহাম্মদ মনসুর বলেন, ‘স্বাধীনতার পরে দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে বাম রাজনীতিকদের সঙ্গেই মূলত আওয়ামী লীগের বিরোধ ছিল। যার কারণে বামদের বিরোধিতা করেই আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ নানা স্লোগান সৃষ্টি করেছিল। যেমন: বাংলাদেশ স্বাধীন হলো, মুজিববাদ কায়েম কর; এক নেতার এক দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ; বঙ্গবন্ধুর বিরোধিতা করে যারা, বিদেশের দালাল তারা; বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রে লাথি মার, মুজিববাদ কায়েম কর; একটা-দুইটা জাসদ ধর, সকাল-বিকাল নাস্তা কর ইত্যাদি।

পরে জিয়াউর রহমান ও এরশাদের শাসনামলে স্লোগান দেয়া হতো— জেনারেলদের শাসন নয়, জনগণের শাসন চাই; সেনা শাসক জিয়ার বিরুদ্ধে, রুখে দাঁড়াও একসাথে; অস্ত্রবাজদের শাসন নয়, জনগণের শাসন চাই।’

এসব স্লোগান হারিয়ে যাওয়ার বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মানস চৌধুরী বলেন, ‘এগুলো হারাবেই, এটাই বাস্তবতা। আজকে সুন্দরবন বাঁচানোর যে স্লোগান, তা তো আজকের রাষ্ট্রীয়-বহুজাতিক কর্মকাণ্ড থেকেই তৈরি হয়েছে বা বলা উচিত প্রতিক্রিয়া থেকে তৈরি। আবার রাজনৈতিক পরিস্থিতি যে রকম ক্রমবদলমান, তাতে টপ-ডাউন বা উপর থেকে বহু স্লোগানও এসে থাকে। রাষ্ট্রের পরিচালকরা চান কিছু স্লোগানকে জনপ্রিয় করতে।

যেমন: সমৃদ্ধিবিষয়ক সরকারি স্লোগানগুলো। কোন স্লোগান কোন মহল থেকে সৃষ্ট, কোন মহলে বাধাগ্রস্ত, কাদের কাছে তার আবেদন— এসব আসলে নানাবিধ রাজনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত। বহুকাল ধরে এক স্লোগান থাকবে, এ রকম আকাঙ্ক্ষাই বরং বেশ অস্বাভাবিক।’

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা শফী আহমেদ বলেন, ‘আমরা ছাত্ররাজনীতি করতাম। ঘটনার প্রেক্ষাপটে নানা ধরনের স্লোগানের সৃষ্টি হয়েছে। যেমন: ১৯৭৬ সালে ২১ জুলাই জিয়াউর রহমানের সময়, যখন কর্নেল তাহেরকে ফাঁসি দেয়া হয়, তখন ’৭৬ এর ক্ষুদিরাম, তাহের তোমায় লাল সালাম স্লোগানটি জনপ্রিয় হয়। কিন্তু, এখন এটির প্রাসঙ্গিকতা হরিয়েছে, এটাই কিন্তু স্বাভাবিক।’

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘স্লোগান শৈল্পিক বিষয়, যা মানুষের হৃদয়কে জাগ্রত করে। সময় ও ঘটনার পেক্ষাপট প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হয়, ফলে স্লোগানেও বিবর্তন অথবা পরিবর্তন আসে। একটি এসে আরেকটিকে হটিয়ে দেয়। বলা চলে, এটাই কালের চাহিদা।’

টিএটি/আইএম