সরকার ও সাংবাদিকদের মুখোমুখি করতেই এ হামলা: তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা, বুধবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৮ | ৮ কার্তিক ১৪২৫

সরকার ও সাংবাদিকদের মুখোমুখি করতেই এ হামলা: তথ্যমন্ত্রী

সচিবালয় প্রতিবেদক ৪:২৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০৯, ২০১৮

সরকার ও সাংবাদিকদের মুখোমুখি করতেই এ হামলা: তথ্যমন্ত্রী

কোমলমতি ছাত্রদের আন্দোলনে যারা সাংবাদিকদের উপর হামলা করেছে তারা সরকারকে বিব্রত করতে চেয়েছে। এ হামলার মধ্য দিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের উস্কে দেওয়ার পাঁয়তারা করা হয়েছে। তারা চায় সরকার ও সাংবাদিকরা মুখোমুখি অবস্থানে থাকুক। এর মধ্য দিয়ে এসব দুর্বৃত্তকারী ফায়দা হাসিল করতে চায়।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতাদের সাথে বৈঠকে এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

সম্প্রতি রাজধানীতে দুই শিক্ষার্থী বাসচাপায় নিহত হওয়ার ঘটনায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে সাংবাদ কর্মীদের মারধরের ঘটনায় সাংবাদিক নেতাদের সাথে এ বৈঠক করেন তথ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আমরা আহত সাংবাদিকদের জন্য ইতোমধ্যে চিকিৎসার সকল ব্যয়ভার বহনের ঘোষণা দিয়েছি। তাদের খোঁজখবর সার্বক্ষণিক তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নেওয়া হচ্ছে। আজ মিটিং চলাকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বিষয়গুলো অবহিত আছেন। তিনি ব্যবস্থা নিতে আন্তরিক। শনিবার সারাদেশে সাংবাদিকরা যে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন, আমরা আশা করছি সাংবাদিকদের এ আন্দোলনের আগেই দুর্বৃত্তদের গ্রেফতারে দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, আপনারা জানেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেত্রী হিসেবে যেমন সাংবাদিক বান্ধব তেমনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও। আমি মনে করি সাগর-রুনির হত্যার ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ নেই তাই হয়তো তাদের হত্যার বিচার দেরি হচ্ছে। কিন্তু ছাত্রদের আন্দোলনের মাঝে যারা সাংবাদিকদের হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করেছে তাদের ভিডিও ফুটেজ ও ছবি সবার কাছে পরিষ্কার। ফলে তাদের গ্রেফতার করতে কোনো রকমের দেরি হওয়ার কথা নয়।

তিনি দাবি তুলে বলেন, আমি তথ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করব তারা যেন আহত সাংবাদিকদের চিকিৎসার সব দায়দায়িত্ব নেন এবং পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাদের মোবাইল, ক্যামেরা ও যেসব যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাও কিভাবে সমাধান করা যায়, তার দায়িত্ব সাংবাদিকদের অভিবাবক মন্ত্রণালয় হিসেবে তথ্য মন্ত্রণালয়কে নিতে হবে।

বৈঠকে বিএইউজে সভাপতি মোল্লা জালাল বলেন, আমরা আগামী শনিবার সারাদেশে ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের উদ্যোগে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছি। যদি আপনারা সরকারের পক্ষ থেকে আহত সাংবাদিকদের চিকিৎসাভার ও দুর্বৃত্তদের গ্রেফতার না করেন, তাহলে দেশে অস্থিরতা তৈরি হবে। আর এর ফায়দা নেবে সরকারের বিরদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করছে তারা। ফলে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সরাসরি হস্তক্ষেপে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে হামলাকারীদের গ্রেফতার করতে হবে।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজের সভাপতি আবু জাফর সূর্য বলেন, সাংবাদিকরা জানে তাদের অধিকার আদায়ে কিভাবে আন্দোলন করতে হয়। তথ্যমন্ত্রী তাৎক্ষণিক আহত সাংবাদিকদের দেখতে হাসপাতালে গেছেন এবং সার্বিক খোঁজখবর নিয়েছেন। আমরা আশা করি হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে। তা না হলে সাধারণ সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ে আমরা রাজপথে যেতে বাধ্য হবো।

বৈঠকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবসময় সাংবাদিকদের খোঁজখবর নিয়েছেন। আমাদের সরকার সংবাদমাধ্যম বান্ধব। আহত সাংবাদিকদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে তথ্য মন্ত্রণালয়ে ইতোমধ্যে দাপ্তরিক চিঠি লিখেছি আমরা। আপনারা আস্থা রাখতে পারেন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই হামলাকারীদের গ্রেফতার করা হবে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, সদ্য নির্বাচিত ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক শাবান মাহমুদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা কামরুন্নাহার প্রমুখ। 

এসএস/এএল/