তৃপ্তি নিয়ে রাজনীতি থেকে অবসরে যেতে পারব: অর্থমন্ত্রী (ভিডিও)

ঢাকা, রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৮ আশ্বিন ১৪২৫

তৃপ্তি নিয়ে রাজনীতি থেকে অবসরে যেতে পারব: অর্থমন্ত্রী (ভিডিও)

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৮:৪৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০১৮

তৃপ্তি নিয়ে রাজনীতি থেকে অবসরে যেতে পারব: অর্থমন্ত্রী (ভিডিও)

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছেন, ‘যেভাবে দেশে উন্নয়ন হচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। এটা আমার জন্যও অনেক বড় তৃপ্তি। আমার তো এখন চলে যাওয়ার সময়। চলে যাওয়ার সময় এমন তৃপ্তি নিয়ে যাওয়া- এটা ২০০১ সালে যখন ঠিক করলাম (রাজনীতি থেকে) রিটায়ার্ড করবো। তখন এমন তৃপ্তি ছিল না। এখন যে কোনো মুহূর্তে রিটায়ার্ড করতে কোনো অসুবিধা নেই। কারণ আমার বদ্ধমূল ধারণা- দেশটা এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যেতেই থাকবে।’

বুধবার বিকেলে সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ স্টাডি ট্রাস্টের আয়োজনে ‘আগামীর সিলেট- উন্নয়ন প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ১০ বছরে যে উন্নয়ন সাধিত হয়েছে, তা অসাধারণ। আর এই উন্নয়ন কয়েকটি বিষয়ের সমন্বয়ে হয়েছে। প্রথমত, শেখ হাসিনার অত্যন্ত উপযোগী ও গণমুখী প্রগতিশীল নেতৃত্বের কারণে সম্ভব হয়েছে। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের জন্য গৌরবের বিষয়। এমনকি তিনি এখন বিশ্ব নেতৃত্বের শীর্ষ স্থানে আরোহন করছেন। এটিও আমাদের দেশের জন্য মঙ্গলকর।

দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে, আমরা যেসব উদ্যোগ গ্রহণ করেছি, সেগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। যেমন ২০০৯ সালে যখন ক্ষমতায় আসি, তখন সারা বিশ্বে রফতানি বাজারে সমস্যা। তখন আমরা কিভাবে প্রবৃদ্ধি বাড়াতে পারি এই চিন্তায় ছিলাম। তখন আমরা দেশের ডমেস্টিক ডিমান্ড বাড়ানোর উদ্যোগ নিলাম। আমরা কৃষি প্রধান দেশ হলেও অন্য দেশের মুখপেক্ষি ছিলাম। তখন আমাদের ডমেস্টিক ডিমান্ড খুবই কার্যকরী হয়েছে। 

দেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি যখন উড়োজাহাজে উঠি। তখন নিচ থেকে শুধু বাংলাদেশের বড় বড় বিল্ডিং দেখা যায়। অথচ আমার কৈশরে গ্রামের মধ্যে একটা বড় বিল্ডিংও দেখা যেত না। এটা একটা পরিবর্তন। দ্বিতীয়ত কৈশরে যখন বিদেশ থেকে বাংলাদেশ আসতাম। তখন অন্ধকার একটি দেশের মধ্যে ঢুকতাম। তখন সাড়ে ৭ কোটি ৮ কোটি মানুষের দেশ, কিন্তু আলো-টালো কোথাও নেই। আর এখন রাতে যদি দেশে ঘুরেন, তাহলে প্রত্যেক জায়গায় কোনো না কোনো আলো আছে। অর্থাৎ প্রত্যেক জায়গায় আলো পৌঁছে গেছে। আর বিদ্যুৎ হচ্ছে একটি দেশের উন্নয়নের অন্যতম সূত্র।

সিলেটের উন্নয়ন সম্পর্কে বলেন, আপনারা যদি ঢাকা থেকে সিলেট যান। তখন হবিগঞ্জের পর থেকে সিলেট সদর পর্যন্ত দেখবেন পুরোটাই ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়া। সেখানে যেমন সিলেটের উদ্যোক্তা আছে, একইভাবে অন্য জায়গার উদ্যোক্তারাও আছে। তবে সিলেটের মানুষ অন্য এলাকার মানুষকে টলারেট করে। এমনকি দেখে গেছে সিলেটের এমপি সিলেটের না। তারা সিলেটে থেকেছে, সিলেটকে গ্রহণ করেছে, তাদেরকে সিলেটবাসী গ্রহণ করেছে।

সিলেট অন্য এলাকার মানুষকে সহজেই গ্রহণ করে। যেটা অন্যরা করে না উল্লেখ সিলেটের এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ বলেন, সিলেট শহরে যদি যান। সেখানে একটা রিকশাওয়ালাকেও সিলেটি পাবেন না। ওই রংপুরের পাবেন, নোয়াখালীর পাবেন, ময়মনসিংহের পাবেন, খুলনার পাবেন। কিন্তু সিলেটের কাউকে পাবেন না।

তিনি বলেন, সিলেটের উন্নয়ন হয়েছে ঠিকই। তবে এটা বাংলাদেশের উন্নয়নের সাথে সংশ্লিষ্ট। আমরা বাংলাদেশের সরকার হিসেবে চেষ্টা করছি, যাতে বাংলাদেশের যথাযথ উন্নয়ন হয়।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ স্টাডি ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল বলেন, আপনারা জানেন বাংলাদেশ স্টাডি ট্রাস্ট বিভিন্ন জাতীয় ইস্যু নিয়ে সভা-সেমিনার করে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় আজকের এই আয়োজন।

তিনি বলেন, সিলেটকে বেছে নেওয়ার কারণ হচ্ছে সিলেট বাংলাদেশের জন্য অন্যতম পথ নির্দেশক। যেমন আমরা বাংলাদেশে যে ইসলামকে চিনতাম, সেটা হচ্ছে সুফি ইসলাম। যার সূচনা সিলেট থেকে। সিলেটে যে চা বাগান আছে, সেখানে যে শ্রমিকরা কাজ করে, তাদের সাথে মুসলিম কমিউনিটির যে ভালো সম্পর্ক বিরাজমান। সেটা দ্বারা বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নির্দশন বহন করে। এছাড়া সিলেট পর্যটনের জন্য আকর্ষণীয়, সিলেটের বিপুল জনগোষ্ঠী দেশের বাইরে অবস্থান করে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখে। এসব বিবেচনায় আজকে আমরা বিষয়টাকে বেছে নিয়েছি আলোচনার বিষয়বস্তু হিসেবে।

অনুষ্ঠানে চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. নুজহাত চৌধুরী সম্পা বলেন, একটি সরকারের আমলে এতো ব্যাপক উন্নয়ন সিলেটে হয়েছে সেটা কল্পনা করা যায় না। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্যালুট দিতে চাই। আমি চাই সিলেটের এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাক।

তিনি বলেন, আমি শহীদ কন্যা হিসেবে আশা করি সিলেট হবে উন্নয়নের সিলেট, উদার সিলেট, অসাম্প্রদায়িকতার সিলেট, পীর-সুফি সাধকরা যে সিলেট তৈরি করেছিল সেই সিলেট হোক।

বাংলাদেশ স্টাডি ট্রাস্টের সভাপতি ড. এ কে আব্দুল মোমিনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন  সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী, পিকেএসএফের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ, সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ।

টিএটি/এএল/