খালেদাকে মাইনাস করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে: মির্জা ফখরুল

ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫

খালেদাকে মাইনাস করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে: মির্জা ফখরুল

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৫:৫২ অপরাহ্ণ, জুলাই ১০, ২০১৮

খালেদাকে মাইনাস করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে: মির্জা ফখরুল

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মাইনাস করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ৯০-এর ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের আয়োজনে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তারেক রহমানের সাজা বাতিলের দাবিতে এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এ অভিযোগ করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কেন জেলে, তা আমরা সবাই জানি। একটি সুদূরপ্রসারী নীলনকশার মধ্যে তাকে নিয়ে আসা হয়েছে। এই নীলনকশাটি হলো মাইনাস ওয়ান। বেগম জিয়াকে মাইনাস করতে হবে।’

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনারা যদি অনেক দিনের মেমোরি ঝালিয়ে নেন, তাহলে দেখবেন আমাদের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু একটি কথা সবসময় বলেন- রাজনীতিকে খালেদা মুক্ত করতে হবে। তিনি শুধু একটা কথাই বলেন। বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে খালেদা জিয়াকে দূরে সরিয়ে দিতে হবে। তাকে রাখা যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘কি অপরাধ তার (খালেদা জিয়া)? অপরাধ হলো তিনি দেশের মানুষের অধিকারের কথা বলেন। একটি সমৃদ্ধ ও স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ দেখতে চান তিনি। সেই জন্যই এই নীলনকশার মধ্য দিয়ে তার বিরুদ্ধে মামলাগুলো সাজানো হয়েছে।’

ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে আদালতকে তারা দখল করে নিয়েছে। আজকের সবকিছু সেই আদালতকে দিয়েই করাচ্ছে। আপনার মামলার সাজা দেয় কে? আদালত। ত্রায়োদশ সংবিধান সংশোধনী কে আনলো? সবকিছুই করেছে আদালতকে দিয়ে। সরকার কোনো ফরমান দিয়ে নিয়ে আসেনি। সবকিছু আদালতের আদেশ দিয়ে করছে। এখন প্রায়ই বলে বেগম খালেদা জিয়াকে কি আমরা জেলে পাঠিয়েছি। তাকে তো আদালত জেলে পাঠিয়েছে।’

'সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার কোনো পরিবেশ নেই। ছাত্রলীগ দখল করে নিয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগে চিকিৎসার পরিবেশ নেই। নৈরাজ্য চলছে। ডাক্তাররা হাসপাতালগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। রোগীদের বের করে দিচ্ছে।’ 

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা অবশ্যই সফল হব। আরো দৃঢ় হন। মনকে শক্ত করেন। মানুষকে জাগ্রত করেন, মানুষকে নিয়ে আসেন। আমরা ঢাকা শহর বসে বসে বক্তৃতা করবো আর বাইরে যাব না, তা হবে না।’

আগামী জাতীয় নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়া প্রসঙ্গে  তিনি বলেন, ‘দেশনেত্রীকে মুক্ত না করে আমরা নির্বাচনে যাব না। আমরা অবশ্যই নির্বাচনে যাব। নির্বাচনের আগে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে হবে। নির্বাচনকালীন সময় একটি নিরপেক্ষ সরকার দিতে হবে।’

সমাবেশে ডাকসুর সাবেক ভিপি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সহ-জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, জাগপা সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফুর রহমাম, যুগ্ম সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, যুবদলের সিনিয়র সহ সভাপতি মুরতাজুল করিম বাদরু  প্রমুখ। 

এমএইচ/এএল/