খালেদাকে বন্দি রেখে নির্বাচন করতে দেয়া হবে না: ফখরুল

ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫

খালেদাকে বন্দি রেখে নির্বাচন করতে দেয়া হবে না: ফখরুল

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৭:৩১ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৯, ২০১৮

খালেদাকে বন্দি রেখে নির্বাচন করতে দেয়া হবে না: ফখরুল

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে একাদশ নির্বাচন হতে দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে প্রতীকী অনশন কর্মসূচির সমাপনী বক্তব্যে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিতের প্রতিবাদ ও তার মুক্তির দাবিতে বিএনপির উদ্যোগে মহানগর নাট্যমঞ্চ প্রাঙ্গনে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত এই প্রতীকী অনশন পালন করা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে এই অনশন কর্মসূচিতে অনেকে বক্তব্য দিয়েছেন। বক্তব্যের মধ্যদিয়ে স্পষ্ট হয়ে এসেছে যে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে এদেশে কোনো জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে না।’

খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে তিনি বলেন, ‘নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে, সংসদ ভেঙে দিতে হবে, সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। তবেই  নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হলে এদেশে নির্বাচন হবে, অন্যথায় নির্বাচন হবে না।’

বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করে বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়াকে আজকে সুচিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না, তার ন্যূনতম যে প্রাপ্য সেই প্রাপ্যটুকু তাকে দেয়া হচ্ছে না। এই সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্য ষড়যন্ত্র করছে।’

রাজনীতিক-পেশাজীবী সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা ঐক্যবদ্ধ হোন। শুধু খালেদা জিয়ার মুক্তি কিংবা নির্বাচন যাওয়ার জন্য নয়, বরং দেশের মুক্তির জন্য, ১৬ কোটি মানুষের মুক্তির জন্য, আবার গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘সরকার একটাই ষড়যন্ত্র করছে। সেটা হচ্ছে- দেশনেত্রীকে ছাড়া, বিএনপিকে ছাড়া এবং ২০ দলকে ছাড়া তারা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির প্রহসনের পুনরাবৃত্তি।’

তিনি বলেন, ‘সেই ষড়যন্ত্র জনগণ আরেকবার বাস্তবায়ন হতে দেবে না। এই স্বৈরাচারের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে হলে আন্দোলনের বিকল্প নাই। তাই রাজপথে আন্দোলন করেই গণতন্ত্রের মাতাকে মুক্ত করতে হবে, দেশনেত্রীকে নিয়েই নির্বাচনে যাব।’

দলের স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘নিম্ন আদালত সম্পূর্ণভাবে সরকারের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে, যার কারণে বেগম জিয়ার মুক্তি বিলম্বিত হচ্ছে। তবে আমি এটুকু বলতে পারি, যত কৌশল করা হোক না কেন এটা সম্ভব হবে না। একটা পর্যায়ে গিয়ে তারা দেশনেত্রীকে জামিন না দিয়ে আর পারবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমি আশাবাদী তিনি আমাদের মধ্যে মুক্ত হয়ে ফিরে আসবেন খুব শিগগিরই। যদি আইনি প্রক্রিয়ায় বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি না হয় তার একমাত্র বিকল্প হলো রাজপথ।’

এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আবদুল্লাহ আল নোমান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সেলিমা রহমান, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, এজেডএম জাহিদ হোসেন, আমানউল্লাহ আমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, জয়নুল আবদিন ফারুক, কবির মুরাদ, আতাউর রহসান ঢালী, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, আশারফউদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, শিরিন সুলতানা, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আবদুস সালাম আজাদ, মীর সরফত আলী সপু, আমিরুল ইসলাম আলীম, কাজী আবুল বাশার, আহসানউল্লাহ হাসান, আফরোজা আব্বাস, মোরতাজুল করীম বাদরু, নুরুল ইসলাম নয়ন, আবদুল কাদের ভুঁইয়া, সাদেক আহমেদ খান, হাফেজ এম এ মালেক, রাজীব আহসান, আকরামুল হাসান, আসাদুজ্জামান আসাদ, আবু আতিক আল হাসান মিন্টু, জহিরুল ইসলাম বিপ্লব প্রমুখ।

কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য দেন ২০ দলীয় জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক মজিবুর রহমান, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ, খেলাফত মজলিশের মাওলানা সৈয়দ মজিবুর প্রমুখ। এছাড়া যুক্তফ্রন্টের সদস্য সচিব নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না অনশনে সংহতি প্রকাশ করেন।

এমএইচ/এমএসআই