‘অনুপ্রবেশ না ঠেকালে নৌকার সলিল সমাধি হবে’

ঢাকা, সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

‘অনুপ্রবেশ না ঠেকালে নৌকার সলিল সমাধি হবে’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ১১:৪৭ অপরাহ্ণ, জুন ২৩, ২০১৮

‘অনুপ্রবেশ না ঠেকালে নৌকার সলিল সমাধি হবে’

দুঃসময়ের নেতা-কর্মীদের পাশ কাটিয়ে ভিন্নমতের লোকদের আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ দিয়েছেন তৃণমূল আওয়ামী লীগ নেতারা। সারাদেশে আওয়ামী লীগের কোন্দলের বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।

দলের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শনিবার গণভবনে আওয়ামী লীগের এক বিশেষ বর্ধিত সভায় প্রধামন্ত্রীর সামনে এসব সতর্কতামূলক বক্তব্য রাখেন ক্ষমতাসীন দলের তৃণমূল নেতারা। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বর্ধিত সভায় দলটির আট বিভাগ থেকে আটজন জেলা নেতা বক্তব্য রাখেন।

জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাকি বিল্লাহ দলে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি করে বলেন, নতুন করে অনেকে নৌকায় ওঠার কারণে আমাদের পশ্চাত দেশের কাপড় ভিজে গেছে। এটা অব্যাহত থাকলে নৌকার সলিল সমাধি হবে। নৌকা তীর খুঁজে পাবে না। তিনি বলেন, জিয়া আর মোশতাকের পেতাত্মারা নৌকার ওপর ভর করেছে। এদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি বলেন, ‘পঁচাত্তরে আমরা বলেছিলাম এক মুজিবের রক্ত থেকে হাজার মুজিব জন্ম নেবে; আজকে লক্ষ- কোটি মুজিব অনুসারী। আমরা বলেছিলাম, খুনী জিয়ার বিচার হবে; কাফন ছাড়া দাফন হবে- তাই হয়েছে।’

পঁচাত্তরের রক্তাক্ত প্রান্তরে যারা নৌকার সঙ্গে ছিলেন তাদের প্রতি আস্থা রাখার অনুরোধ করে তিনি বলেন, আমরা সক্ষম, আমাদের উপর আস্থা রাখুন। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বাকি বিল্লাহ বলেন, এ পার্টিতে শুধু আপনিই অপরিহার্য, আমরা সবাই প্রাসঙ্গিক।

দলের কোন্দলের কথা তুলে ধরে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজির আহমেদ কোন্দল নিরসনে কেন্দ্রীয় টিম গঠনের প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন, ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগের কোনো সমস্যা আছে বলে মনে হয় না। ভোটের পরিবেশটা করে দিতে হবে। আমাদের সমস্যা হচ্ছে দলের কোন্দল। তৃণমূলে একই সাথে কর্মসূচি পালনের কোনো পরিবেশ নেই। দলের নেতারা একই মঞ্চে উঠে না। কেউ কারো সঙ্গে কথা বলেন না। চেহারাও দেখতে চান না। পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগকে হারানোর জন্য আওয়ামী লীগই যথেষ্ট।

বেনজীর বলেন, আমাদের মধ্যে ঐক্য সুসংহত করা জরুরি। ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগকে হারানোর মতো কোন দল বাংলাদেশে নেই। আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ থাকলে বিএনপি-জামায়াত কোথায় আছে খুঁজে পাওয়া যাবে না। সারাদেশে যেখানে যেখানে দলীয় কোন্দল আছে তা চিহ্নিত করে; নিরসন করার জন্য কেন্দ্রীয় টিম গঠনের প্রস্তাব করেন বেনজীর আহমেদ।

গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক বলেন, রংপুর বিভাগ আওয়ামী লীগের ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। গাইবান্ধার পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটি আসনেই আওয়ামী লীগের এমপি। সব মিলিয়ে রংপুর আওয়ামী লীগ খুব সুসংগঠিত। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সুর মিলিয়ে তিনি বলেন, ‘কী পেলাম কী পেলাম না, সেই চিন্তা না করে নৌকার জন্য কাজ করতে হবে।’

খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হারুন-অর রশীদ দুর্দিনে যারা দলের সঙ্গে ছিলেন তাদের মূল্যায়নের দাবি করেন। তিনি পদ্মা সেতুর নাম শেখ হাসিনার নামে নামকরণ করার প্রস্তাব করেন। এ বিভাগের ৩৭টি আসনে আওয়ামী লীগের শক্ত অবস্থানের কথা জানান হারুন।

সিলেট বিভাগের পক্ষে বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নেছার আহমেদ। তিনি জেলার বন্যা পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, এ জেলার চারটি উপজেলা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। কিন্তু সরকারের ব্যাপক তৎপরতায় তেমন কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ত্রাণমন্ত্রী প্রয়োজনের দ্বিগুন ত্রাণ দিয়েছেন। ত্রাণের জন্য কোন হাহাকার নেই। আগামী নির্বাচনের আগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতের অনুরোধ জানান এই নেতা।

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন সিটি নির্বাচনে তাকে মনোনয়ন দেওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি তার পক্ষে কাজ করতে রাজশাহীর আশপাশের জেলা নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।

বরিশাল বিভাগের পক্ষে ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, চট্টগ্রামের পক্ষে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির, সিলেটের পক্ষে মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নেসার উদ্দিন আহমেদও এ সময় বক্তব্য রাখেন। দলের স্থায়ী কার্যালয় স্থাপনের জন্য দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান তৃণমূল নেতারা।

সভায় বিএনপি শাসনামলের সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, অগ্নিসংযোগসহ নানা অপকর্মের ওপর নির্মিত ভিডিও চিত্রের দুটি করে সিডি দেয়া হয় জেলা নেতাদেরকে। পরে প্রধানমন্ত্রী এসব সিডি প্রত্যন্ত এলাকায় প্রচারের পাশাপাশি সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে নির্দেশ দেন। এছাড়া বর্ধিত সভা শেষে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে চলতি সংসদ অধিবেশন দেখে যাওয়া ও ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর ঘুরে দেখা, বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী ও কারাগারের রোজনামচা সংগ্রহ করার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।

এসইউজে/এএস