তিন মামলায় জামিন পেতে খালেদার দেড় ডজন যুক্তি

ঢাকা, বুধবার, ১৫ আগস্ট ২০১৮ | ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫

তিন মামলায় জামিন পেতে খালেদার দেড় ডজন যুক্তি

হাইকোর্ট প্রতিবেদক ১০:০০ অপরাহ্ণ, মে ২০, ২০১৮

print
তিন মামলায় জামিন পেতে খালেদার দেড় ডজন যুক্তি

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সর্বোচ্চ আদালতে জামিন বহাল থাকলেও অন্যান্য মামলায় আটক দেখানোয় খালেদা জিয়া এখনো কারামুক্ত হতে পারেননি। রোববার তার পক্ষে হাইকোর্টে তিনটি মামলায় জামিন আবেদন করেছেন আইনজীবীরা।

এসব মামলায় জামিন পেতে দেড় ডজনের মতো যুক্তিও ঠিক করেছেন আইনজীবীরা। জামিন আবেদন ও আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিস্ফোরক ও হত্যার অভিযোগে করা কুমিল্লায় দুটি এবং মানহানির অভিযোগে নড়াইলের একটি মামলায় এই জামিন আবেদন করেছেন খালেদা জিয়া।

এরমধ্যে বিস্ফোরকের মামলায় হাইকোর্টে আবেদন করে সেখানে ১৩টি যুক্তি দেখানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মামলার এফআইআরে খালেদা জিয়ার নাম নেই, ঘটনাস্থলেও তিনি ছিলেন না। তিনি অসুস্থ হওয়ায় অন্য মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েও হাইকোর্টে জামিন পেয়েছেন এবং সর্বোচ্চ আদালত তা বহাল রেখেছে।

এছাড়া খালেদা জিয়া বয়স্ক, এ মামলায় তার বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এবং

হয়রানি করতে এই মামলা করা হয়েছে। এ মামলার অন্য আসামিরা জামিনে আছেন এসব যুক্তি তুলে ধরা হচ্ছে।

আর হত্যার অভিযোগে করা কুমিল্লায় আরেক মামলায় জামিনের যুক্তিতে বলা হয়েছে- এই মামলার তিনজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের কেউই জবানবন্দিতে খালেদা জিয়ার নাম উল্লেখ করেননি। এছাড়াও খালেদা জিয়া অসুস্থ, বয়স্ক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী।

এদিকে মানহানির অভিযোগে নড়াইলে করা মামলায় জামিন চাওয়া যুক্তিতে বলা হয়েছে- দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০১ ও ৫০২ ধারার অধীনে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়। এই তিন ধারার মামলাই জামিনযোগ্য। তাছাড়াও খালেদা জিয়া অসুস্থ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বয়স্ক মহিলা।

প্রসঙ্গত, বিস্ফোরকের মামলাটি ২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারি করা হয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের হায়দার পুলের চৌদ্দগ্রামে একটি কাভার্ড ভ্যানে অগ্নিসংযোগ ও আশপাশের বেশ কিছু গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় বিস্ফোরক আইনের মামলাটি করা হয়।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে নাশকতার অভিযোগে মামলাটি করা হয়। ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারিতে এই মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। খালেদা জিয়াসহ ৩২জনকে এই মামলায় আসামি করা হয়।

মামলাটি বর্তমানে কুমিল্লার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এ বিচারাধীন। ২০১৭ সালের ৯ অক্টোবর এ মামলায় অভিযোগ আমলে নেয় আদালত। পরে গত ২৩ এপ্রিল এ মামলায় জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়। কিন্তু আদালত আবেদনটির পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৭ জুন দিন ধার্য রাখেন। কিন্তু এ অবস্থায় শুনানি না করে এই মামলায় জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আপিল আবেদন করা হয়েছে।

হত্যার অভিযোগে কুমিল্লার আরেক মামলা করা হয় ২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি বাসে প্রেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এই ঘটনায় সাতজন যাত্রী মারা যান এবং আরও ২৫-২৬ জন গুরুতর অসুস্থ হন।

এ ঘটনায় পরদিন ৩ ফেব্রুয়ারি চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই নুরুজ্জামান ৫৬ জনের বিরুদ্ধে বাদি হয়ে মামলা করেন। পরে এ মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। বিচারকালে দায়রা আদালতে খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়। সেই জামিন আবেদনের পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৭ জুন দিন ধার্য রাখা হয়েছে। কিন্তু এ অবস্থায় গত ৫ এপ্রিল এ মামলায় খালেদা জিয়াকে আটক দেখানো (শ্যোন অ্যারেস্ট) হয়। তাই ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারায় হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।

আর মানহানির অভিযোগে নড়াইলের মামলাটি করা হয়েছে ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর। মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা নিয়ে খালেদা জিয়া বিরূপ মন্তব্য করেন বলে এতে অভিযোগ আনা হয়। স্থানীয় এক  মুক্তিযোদ্ধার সন্তান রায়হান ফারুকি ইমাম বাদি হয়ে মামলাটি করেন।

নড়াইলের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মামলাটি বিচরাধীন রয়েছে। এ মামলায় চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে তার আইনজীবীরা আবেদন করেন। কিন্তু বিচারক বাদির উপস্থিতিতে জামিন শুনানির জন্য গত ৮ এপ্রিল শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করেছিলেন।

এরপর নির্ধারিত দিনে শুনানি নিয়ে পুনরায় জামিন শুনানির জন্য আগামী ২৫ মে দিন ধার্য রেখেছেন আদালত। এ অবস্থায় বিচারাধীন থাকা মামলায় খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা তার জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন।

এমএ/এমএসআই

 
.


আলোচিত সংবাদ