‘সাধারণ মানুষের জামিন হয়, কিন্তু খালেদাকে জামিন দেয়া হয়নি’

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৮ | ১ ভাদ্র ১৪২৫

‘সাধারণ মানুষের জামিন হয়, কিন্তু খালেদাকে জামিন দেয়া হয়নি’

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৭:৫৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২১, ২০১৮

print
‘সাধারণ মানুষের জামিন হয়, কিন্তু খালেদাকে জামিন দেয়া হয়নি’

জামিনযোগ্যা মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে জামিন না দেয়ার কড়া সমালোচনা করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বেগম জিয়া অসুস্থ। তাকে চিকিৎসা নিতে দেয়া হচ্ছে না। আমরা বারবার বলে এসেছি- তাকে মুক্তি দেয়া হোক, এই মুক্তি তার প্রাপ্য।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, মিথ্যা, সাজানো মামলায় তাকে সাজা দেয়া হয়েছে। এই মামলাতে আপিল করার সঙ্গে সঙ্গে জামিন হয়ে যায়। অন্য যেকোনো সাধারণ মানুষেরও জামিন হয়ে যায়, কিন্তু তাকে (খালেদা জিয়া) জামিন দেয়া হয়নি। ইচ্ছে করে তাকে জামিন দিচ্ছে না।

জাতীয় প্রেসক্লাবে শনিবার বিকালে জাতীয় যুব সংহতির ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি ও চলমান গণতান্ত্রিক সংগ্রাম’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় যুব সংহতি সভাটির আয়োজন করে।

মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করায় জীবন সায়াহ্নে এসে বিএনপি চেয়ারপারসন অসুস্থ শরীর নিয়ে পরিত্যক্ত স্যাঁতস্যাঁতে কারাকক্ষের মধ্যে পড়ে আছেন।

তিনি বলেন, ‘দেশনেত্রী সারা জীবন গণতন্ত্রের জন্য লড়াই সংগ্রাম করেছেন। এরশাদের সময় দীর্ঘ নয় বছর গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন। জীবন সায়াহ্নে এসে সেই গণতন্ত্রের জন্য তাকে নির্জন কারাবাস করতে হচ্ছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, কারাগারে একটি পরিত্যক্ত স্যাঁতস্যাতে ঘরের মধ্যে অসুস্থ শরীরে পড়ে আছেন তিনি। কিসের জন্য? এগুলো তো তার প্রয়োজন ছিল না। তিনি তো অত্যন্ত সুখের জীবনযাপন করতে পারতেন। তার রাজনীতি না করলে কোনো সমস্যাই ছিল না।

‘তিনি (খালেদা জিয়া) স্বামী হারিয়েছেন। তাকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। ছেলেকে হারিয়েছেন। আজ ৭২ বছর বয়সে জীবন সায়াহ্নে এসে তাকে কারাবাস করতে হচ্ছে’ যোগ করেন মির্জা ফখরুল।

আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার চেতনাকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘তারা এই দেশ থেকে গণতন্ত্রকে পুরোপুরি বিদায় করার চক্রান্ত করছে। সারা দেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। মানুষের মৌলিক অধিকারগুলোকে বন্দুকের জোরে অপহরণ করছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিসিএস পরীক্ষাতে ভাইভাতে পাস করার পরেও পরীক্ষার্থীর ডিএনএ টেস্ট করা হয়। খোঁজ-খবর নিতে গিয়ে দেখা হয় তার চৌদ্দগোষ্ঠির কেউ বিএনপি ছিল কিনা। যদি বিএনপির গন্ধ পায় তাহলে তার চাকরি হবে না- এটাই বাস্তবতা।’

তিনি দাবি করেন, এর মধ্যে অতিরঞ্জিত কোনো কিছু নেই। একজন পুলিশ কনস্টেবলের চাকরি পেতেও ১৫ লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়। তার ওপর আওয়ামী লীগের সার্টিফিকেট তো থাকতেই হবে।

আয়োজক সংগঠনে আহ্বায়ক মহসিন সরকারের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. টি আই এম ফজলে রাব্বি চৌধুরী, মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লিংকন প্রমুখ।

এসআই/এমএসআই

 
.


আলোচিত সংবাদ