সক্রিয় আন্দোলনের প্রস্তুতি, তৃণমূলে যাচ্ছে বিএনপি

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৬ আশ্বিন ১৪২৫

সক্রিয় আন্দোলনের প্রস্তুতি, তৃণমূলে যাচ্ছে বিএনপি

মাহমুদুল হাসান ৯:৫২ অপরাহ্ণ, মার্চ ২১, ২০১৮

সক্রিয় আন্দোলনের প্রস্তুতি, তৃণমূলে যাচ্ছে বিএনপি

আপিল বিভাগে জামিন স্থগিত হয়ে যাওয়া এবং অন্য মামলায় গ্রেফতার দেখানোর তোড়জোড় দেখে কেবল আইনি প্রক্রিয়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি মিলবে না বলে মনে করছেন দলটির নেতারা। এজন্য ধাপে ধাপে সক্রিয় আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। এরই অংশ হিসেবে সাংগঠনিক সফরে তৃণমূলে যাচ্ছেন নেতারা।

নেতাকর্মীদের আন্দোলনের প্রস্তুত করতে বেশ কয়েকটি সাংগঠনিক টিম করে দেশব্যাপী জেলা ও মহানগর পর্যায়ে কর্মীসভা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির মওদুদ আহমদের বক্তব্যেও এমন ইঙ্গিত মিলেছে। তিনি বলেন, ‘দেশের উচ্চতর আদালত আমরা পছন্দ করি আর না করি, তাদের রায় মেনেই আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। তার সাথে সাথে ভাবার সময়ও আসছে, কতদিন আর আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করব? একটা পর্যায় আসবে দেশের মানুষ শান্তিপূর্ণ আন্দোলন আর চাইবে না।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ব্যারিস্টার মওদুদ পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘আমরা নেত্রীর মুক্তির জন্য আইনি প্রক্রিয়ার সাথে সাথে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। আন্দোলন ও নির্বাচনের প্রস্তুতি আমাদের এক সঙ্গে চলবে। তবে এখন আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হতে নেত্রীর মুক্তি।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আমাদের কর্মসূচি চলমান আছে। সময় মতই আমরা সক্রিয় কর্মসূচিতে যাব। সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আমাদের চলমান রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘দলের ৩৭টি টিম দেশব্যাপী সাংগঠনিক সফর করবে। এখন আমাদের মূল লক্ষ্য নেত্রীর মুক্তি। সময় আসুক তারপর নির্বাচনের প্রস্তুতি ও নির্বাচন নিয়ে কথা বলা যাবে।’

বিএনপির দফতর সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দেশব্যাপী বিএনপির নেতাদের সাংগঠনিক সফর চূড়ান্ত করা হয়। আগামী ১০ এপ্রিলেরে মধ্যে কর্মীসভা শেষ করার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে দলের হাইকমান্ড থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এজন্য মোট ৩৭টি টিম গঠন করা হয়েছে, এতে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকরা সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট জেলার জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, সাবেক সংসদ সদস্য, বিগত সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী, জেলা কমিটির সকল সদস্য, উপজেলা ও পৌর ইউনিটের সভাপতি, প্রথম সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, প্রথম যুগ্ম-সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক, বিএনপি দলীয় উপজেলা চেয়ারম্যানও পৌর মেয়র, দল স্বীকৃত অঙ্গদলগুলোর সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকরা টিমে থাকবেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির কর্মীসভা সফল করার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়ে এক সভা আহ্বান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া দিকনির্দেশনা দিয়ে সাংগঠনিক টিমের প্রধান ও দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে দলের করণীয় নিয়ে আলোচনা ও মতামতের গ্রহণের জন্য দেশব্যাপী জেলা ও মহানগর পর্যায়ে দলের কর্মীসভা করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধি করার জন্য এই সভা অত্যন্ত গূরুত্বপূর্ণ।  এ সভাগুলো সফল করতে কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত টিম সারাদেশে বিভিন্ন জেলা/মহানগর সফর করবে।

ঢাকা বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘দেশের চলমান পরিস্থিতি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে তুলে ধারার জন্য আমরা এই কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। মিথ্যা মামলায় ম্যাডামকে (খালেদা জিয়া) কারাগারে পাঠানো, জামিন দিয়েও উনার মুক্তি নিয়ে সরকারের নানা প্রদক্ষেপ আমরা দেশবাসীকে জানাতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারের দুঃশাসনের চিত্রটা জনগণকে জানাতে চাই।’

রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবীব দুলু পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘কর্মীসভার বিষয়ে এখন বিস্তারিত কিছুই জানি না। আগামীকাল নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক মিটিং আহ্বান করা হয়েছে। হয়তো সেখানে বিস্তারিত আলোচনা হবে।’

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। এরপর থেকে তিনি কারাবন্দি।

এরপর ২০ ফেব্রুয়ারি আপিল আবেদন দাখিল করেন খালেদা জিয়া। গত ২২ ফেব্রুয়ারি সেটি গ্রহণ করে পরে চার যুক্তিতে গত ১২ মার্চ চার মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। কিন্তু আপিল বিভাগ তা স্থগিত করেন এবং শুনানির জন্য আগামী ৮ মে ধার্য করা হয়েছে।

এমএইচ/এমএসআই