আটক কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা মুক্ত, ফুল দিয়ে বরণ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫

আটক কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা মুক্ত, ফুল দিয়ে বরণ

ঢাবি প্রতিনিধি ৯:৫০ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৪, ২০১৮

আটক কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা মুক্ত, ফুল দিয়ে বরণ

কোটা সংস্কারেরর দাবিতে আন্দোলনরত আটক ৫৩ শিক্ষার্থীকে ছেড়ে দিয়েছে রমনা থানা পুলিশ। সন্ধ্যার পর কয়েকশ আন্দোলনকারী আটককৃতদের মুক্তির দাবিতে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রাত ৯টায় রমনা থানা থেকে আটককৃতদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এসময় শাহবাগে এলে তাদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেয় কোটা সংস্কার আন্দোলনে সম্পৃক্ত শিক্ষার্থীরা।

আটককৃতদের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রমনা জোনের ডিসি মারুফ সর্দার। 

এর আগে বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে শাহবাগ থানার সামনের রাস্তা অবরোধ করে রাখেন আন্দোলনকারীরা। পরে রাত ৮টার দিকে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন তারা। এ সময় রাস্তার চারপাশে গাড়ি আটকে যায়। এরই পেক্ষিতে রমনা থানা থেকে আটকদের ছেড়ে দেয়া হয়। রাত ৯টা ১০ মিনিটে তারা শাহবাগে এলে অবরোধ তুলে নেয়া হয়।

উল্লেখ্য, 'বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ'-এর আহ্বানে আজ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে স্মারকলিপি দেওয়ার কথা ছিল।

রাজধানীর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত অসংখ্য চাকরি প্রার্থী শিক্ষার্থী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার উদ্দেশ্যে মিছিল বের করেন।

মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি এলাকা থেকে বের হয়ে শাহবাগ, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি), দোয়েল চত্বর হয়ে হাইকোর্টের সামনে এলে আন্দোলনকারীদের পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয়।

এসময় তিনজনকে আটক করে রমনা থানা পুলিশ। এরপর তাদের ছাড়াতে আরো অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী রমনা থানায় গেলে তাদেরও আটক করা হয়।

আন্দোলনকারীদের একজন মুহিব পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, আমরা যৌক্তিক দাবিতে শান্তিপূর্ণ  আন্দোলন করছি। কিন্তু পুলিশ অন্যায়ভাবে আমাদের উপর টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে। অন্যায়ভাবে ৫৩ জনকে আটক করে।

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সোহেল জানান, আজকের কর্মসূচি থেকে ১৮ মার্চ সারাদেশে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন কর্মসূচি পালন করার আহ্বান জানানো হয়।

উল্লেখ্য, চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলন করছেন। তাদের দাবিগুলো হলো- কোটা ব্যবস্থা সংস্কার করে ৫৬ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নিয়ে আসা, কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধা থেকে শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া, কোটায় কোনো ধরনের বিশেষ পরীক্ষা না নেওয়া, সরকারি চাকরিতে সবার জন্য অভিন্ন বয়সসীমা এবং চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটাসুবিধা একাধিকবার ব্যবহার না করা।

ওএইচ/এএল