নেপালে হতাহতদের বাড়ি বাড়ি যাওয়ার নির্দেশ আ’লীগ সভাপতির

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৯ আশ্বিন ১৪২৫

নেপালে হতাহতদের বাড়ি বাড়ি যাওয়ার নির্দেশ আ’লীগ সভাপতির

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৮:১৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৪, ২০১৮

নেপালে হতাহতদের বাড়ি বাড়ি যাওয়ার নির্দেশ আ’লীগ সভাপতির

নেপালে উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত বাংলাদেশিদের বাড়ি বাড়ি যেতে দলীয় নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগের যৌথসভায় এ নির্দেশ দেন তিনি।

উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় হতাহতদের সকল ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি।

আজ (বুধবার) সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের এক জরুরি সভার সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি এসময় দলীয় সংসদ সদস্য ও দলের নেতাকর্মীদেরও বিমান দুর্ঘটনায় হতাহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন।

দুর্ঘটনার সময় চার দিনের সফরের উদ্দেশ্যে সিঙ্গাপুর ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার পরই আমি সিঙ্গাপুর সফর বাতিল করে দেশে ফিরে আসি। আমার মনে হয়েছিল, এই সময় আমার দেশে থাকা প্রয়োজন। কারণ বহু বছর আমাদের দেশে এরকম ঘটনা ঘটেনি। বিমান দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বুধবার দেশে ফিরে এসে বৃহস্পতিবার সকালে মিটিং করেছি। সেখানে তিন বাহিনী প্রধান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ অনেকেই ছিলেন। ১ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছি। আগামী শুক্রবার সারাদেশের সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রার্থনা সভা করা হবে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, নেপালে একটি মেডিকেল টিম এবং ডিএনএ সংগ্রহের জন্য একটি বিশেষজ্ঞ টিম পাঠানো হচ্ছে। কারণ, আগুনে পোড়া কিছু লাশ ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া শনাক্ত করা কঠিন। তাছাড়া আমরা নেপালে খুব বেশি লোক পাঠাতে পারবো না। কারণ তাদের ওপর চাপ পড়ে যাবে। তবে যা যা লাগবে তার সহায়তা আমরা দেবো।

বিমান দুর্ঘটনাকে ‘দুর্ভাগ্যের বিষয়’ আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যারা নিহত হয়েছেন, তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করার জন্য আমি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকার আমাদের দলের এমপি এবং নেতাদের নির্দেশ দিয়েছি। তাদের কী প্রয়োজন, কী সহায়তা করা যেতে পারে, সে ব্যাপারে দেখা করে খোঁজ নিতে বলেছি।

তিনি বলেন, পরিকল্পনা কমিশনের কমকর্তা, আমাদের দলের সিআরআইর ৫ নম্বর অফিসে কাজ করতো একটা ছেলে, তার স্ত্রী এবং বাচ্চা, সবাই মারা গেছে।

আহতদের বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আহতদের অবস্থা খুবই খারাপ। অনেকের অবস্থা এমন যে ওখান থেকে নিয়ে আসারও উপায় নেই। ইতোমধ্যে আমাদের বিমানমন্ত্রী নেপালে গেছেন। নেপালের প্রধামন্ত্রীর সাথে তিনি দেখা করেছেন। করণীয় বিষয়ে আলোচনা করছেন তিনি।

নেপাল এয়ারপোর্টকে অত্যন্ত দুর্ঘটনাপ্রবণ এয়ারপোর্ট মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওটা খুবই দুর্ঘটনাপ্রবণ এয়ারপোর্ট। এর আগে ৭০ বার দুর্ঘটনা ঘটেছে ওখানে।

তিনি বলেন, নেপালের কিছু শিক্ষার্থী ছিল ওই বিমানে। তারা আমাদের দেশের মেডিকেলে পড়ে ডাক্তার হতে এসেছিল। এমবিবিএস পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি যাচ্ছিল। আজকে তারাও নেই। ফুল না ফুটতেই ঝরে গেলো।

গণভবনের ব্যায়কোয়েট হলে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের মধ্যে এইচ টি ইমাম, মতিয়া চৌধুরী, সাহারা খাতুন, ওবায়দুল কাদের, রাশিদুল আলম, মাহবুবউল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, খালিদ মাহমদু চৌধুরী, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, ফরিদুন্নাহার লাইলী, দেলোয়ার হোসেন, এস এম কামাল হোসেন, ওমর ফারুক চৌধুরী, মোল্লা আবু কাওছার, অপু উকিল, সাইফুর রহমান সোহাগ, এস এম জাকির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অন্যান্য বৈঠকের মতো এই বৈঠকে কোনো আড়ম্বর ছিল না। চেয়ার টেবিল ছাড়াই কয়েকটি সোফা এবং প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে বৈঠক করেন নেতারা। প্রধানমন্ত্রী ও ওবায়দুল কাদের বসে ছিলেন অন্যান্য নেতাদের সমান্তরাল ছোট্ট একটি টেবিলসদৃশ মঞ্চে।

এসইউজে/এএল