খালেদার আপিলের শুনানি আজ

ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৭ আশ্বিন ১৪২৫

খালেদার আপিলের শুনানি আজ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০১৮

খালেদার আপিলের শুনানি আজ

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজার বিরুদ্ধে আপিল করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আজ বৃহস্পতিবার শুনানি জন্য দিন ধার্য রয়েছে। বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি হবে। এর আগে গত মঙ্গলবার আপিলের আবেদন উপস্থাপন করা হলে শুনানির দিন ধার্য করা হয়।

ওইদিন বিকেল সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় খালেদার জিয়ার আইনজীবী দলের সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এ আপিল (ক্রিমিনাল আপিল নং- ১৬৭৩/১৮) দায়ের করেন।

নথিপত্রসহ ১২২৩ পৃষ্ঠার ওই আবেদনে ফাইলিং ল’ইয়ার হিসেবে আব্দুর রেজাক খানের নাম রয়েছে। এছাড়া আপিলের শুনানিতে খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের মধ্যে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জামির উদ্দিন সরকার, এ জে মোহাম্মদ আলী, খন্দকার মাহবুব হোসেনসহ দেশের খ্যাতনামা আইনজীবীরা অংশ নিতে পারেন বলে জানা গেছে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের অর্থ প্রদান ও যাবতীয় লেনদেনের সঙ্গে খালেদার জিয়ার কোনো ধরণের সম্পৃক্ততা নেই; ট্রাস্টের কোনো অর্থ লেনদেন হয়নি। ওই অর্থ বেড়ে বর্তমান তিনগুণ হয়েছে; এ মামলার প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা চার্জশিটে খালেদা জিয়ার নাম দেননি। কিন্তু, দ্বিতীয় তদন্ত কর্মকর্তা অসৎ উদ্দেশ্যে চার্জশিটে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন ও ট্রাস্ট ফান্ড সংক্রান্ত মূল নথি পাওয়া যায়নি কারণ দেখিয়ে পরবর্তীতে আরেকটি নথি তৈরি করা হয়েছে- আপিলে সাজার রায়ের বিরুদ্ধে এমন বেশ কিছু যুক্তি দেখিয়ে খালেদা জিয়ার খালাস চাওয়া হয়েছে।

খালেদা জিয়ার আইনজীবীর প্যানেলের সদস্য ব্যারিস্টার এহসানুর রহমান পরিবর্তন ডটকমকে এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, আপিলের শুনানিতে প্রাথমিকভাবে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা অংশ নেবেন।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে ৫ বছর, তারেক রহমানসহ বাকি আসামিদের ১০ বছর করে কারাদণ্ড ও ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা জরিমানার রায় ঘোষণা করেন ঢাকার বিশেষ জজ-৫ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। ওইদিনই খালেদা জিয়াকে ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে রাখা হয়েছে।

দীর্ঘ ১২ দিন পর গত সোমবার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। পরে বিএনপির আইনজীবীদের কাছে রায়ের সত্যায়িত কপি হস্তান্তর করা হয়। এরপর গত মঙ্গলবার আপিল দায়ের করা হয়।

উল্লেখ্য, সেনা সমর্থিত সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২০০৯ সালের ৫ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দেয় দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক হারুন-অর রশিদ। মামলার দীর্ঘ পাঁচ বছর পর ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ খালেদা জিয়াসহ ছয় আসামির বিরুদ্ধে ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৪০৯ এবং দুদক আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ গঠন করে বিচারকাজ শুরু করেন।

এরপর ২৩৬ কার্যদিবসে, ৩২ জনের সাক্ষ্য নেয়ার মধ্য দিয়ে এ মামলার কার্যক্রম শেষ হয়। এর মধ্যে ২৮ দিন ধরে আসামি খালেদা জিয়া ৩৪২ ধারায় জবানবন্দি দেন। আর ১৬ দিন তার পক্ষ থেকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন আইনজীবীরা।

খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান ছাড়া মামলায় অন্য আসামিদের মধ্যে মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ কারাগারে রয়েছেন। আর সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান মামলার শুরু থেকেই পলাতক।

এমএইচ/এএস