প্রশ্ন ফাঁসের ‘আসল’ তথ্য দিল ডিবি

ঢাকা, শনিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৮ | ৩ ভাদ্র ১৪২৫

প্রশ্ন ফাঁসের ‘আসল’ তথ্য দিল ডিবি

প্রীতম সাহা সুদীপ ১:০৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৮

print
প্রশ্ন ফাঁসের ‘আসল’ তথ্য দিল ডিবি

এসএসসি পরীক্ষার আগের দিন রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যেসব গ্রুপে প্রশ্ন ফাঁস হয়, সেগুলো ভুয়া প্রশ্ন। আসল প্রশ্ন ফাঁস হয় পরীক্ষা শুরুর আধা ঘণ্টা থেকে ৪০ মিনিট আগে। রোববার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার আব্দুল বাতেন এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘আটকরা মেসেঞ্জার, হোয়াটসআপ, ইমোসহ বিভিন্ন অ্যাপসে বিষয়ভিত্তিকভাবে আলাদা আলাদা বেশ কয়েকটি গ্রুপ খুলেছে। সেখানে অনেক এসএসসি স্টুডেন্ট যুক্ত করে ফেক প্রশ্নের অসংখ্য সেট ছেড়ে দেয়।’

আব্দুল বাতেন বলেন, ‘পরীক্ষার দিন সকালে যখন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে কেন্দ্রে পাঠানো হয়, তার আগে আসল প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ, তখন প্রশ্নপত্র বান্ডিল করা অবস্থায় থাকে। কেন্দ্রে যাওয়ার পর বান্ডিল খুলে তা রুমে রুমে পাঠানো হয়। সে সময় মানে পরীক্ষা শুরু হওয়ার আধা ঘণ্টা থেকে ৪০ মিনিট আগে আসল প্রশ্নের সেটগুলো ফাঁস করা হয়।’

প্রশ্ন ফাঁস চক্রের রয়েছে বিশাল চেইন
ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, প্রশ্ন যখন কেন্দ্র থেকে পরীক্ষা কক্ষে যায় ওই সময়টাতে কেউ এর ছবি তুলে আসামিদের পাঠায়। এই সময়টা পরীক্ষার ৩০-৪০ মিনিট আগে। তৃণমূল পর্যায় থেকে অর্থাৎ পরীক্ষার কেন্দ্র থেকে কারা প্রশ্নের ছবি তুলে ফাঁস করছে, কারা এই চক্রের সঙ্গে জড়িত তাদের কাছে যাওয়া খুব কঠিন। কারণ, এই চক্রের বিশাল একটি চেইন আছে। যেটা ধরে এগোতে গেলে মূল চক্র পর্যন্ত পৌঁছাতে ৬ মাস লেগে যাবে।

আটকরা যাদের কাছ থেকে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করছে সুনির্দিষ্টভাবে কারো নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে কিনা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওরা শত শত হাজার হাজার চেইন। কখনও চট্টগ্রাম থেকে প্রশ্ন পাঠানো হয়, কখনও আরেক জেলা থেকে। তাদের সনাক্ত করা কঠিন।’

ঘোষণা দিয়ে প্রশ্ন ফাঁস করতো তিন ভাই
প্রশ্ন ফাঁস চক্রের যে ১৪ জনকে আটক করেছে ডিবি পুলিশ, তাদের মধ্যে আমান উল্লাহ, আহসান উল্লাহ এবং বরকত উল্লাহ আপন তিন ভাই বলে জানিয়েছেন আব্দুল বাতেন।

তিনি বলেন, এই তিন ভাই প্রতিদিন ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে প্রশ্ন ফাঁস করতো। তাদের মধ্যে আহসান সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী।

মোবাইল বন্ধ রাখলেই প্রশ্ন ফাঁস রোধ সম্ভব
পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর পিয়ন থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সবার মোবাইল ফোন বন্ধ রাখলে প্রশ্ন ফাঁস রোধ সম্ভব বলে জানান ডিবির যুগ্ম-কমিশনার আব্দুল বাতেন।

তিনি বলেন, শুধু শিক্ষার্থী নয়, পরীক্ষা প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত প্রতিটি কর্মকর্তার মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধ করলে সুফল পাওয়া যেতে পারে।

প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার ঘটনায় শিক্ষা বোর্ড কিংবা মন্ত্রণালয়ের কারও সংশ্লিষ্টতা পেয়েছেন কিনা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি।’

এরআগে শনিবার রাজধানী ও ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের ১৪ সদস্যকে আটক করে ডিবি পুলিশ।

আটকরা হলেন- মো. রাহাত ইসলাম, মো. সালাহউদ্দিন, মো. সুজন, মো. জাহিদ হোসেন, সুফল রায় শাওন, মো. আল আমিন, মো. সাইদুল ইসলাম, মো. আবির ইসলাম নোমান, মো. আমান উল্লাহ, মো. বরকত উল্লাহ, আহসান উল্লাহ, মো. শাহাদাত হোসেন, ফাহিম ইসলাম ও তাহসিব রহমান।

তাদের কাছ থেকে প্রশ্ন ফাঁসে ব্যবহৃত ল্যাপটপ, ২৩টি মোবাইল সেট ও নগদ ২ লাখ ২ হাজার ৪০০ টাকা জব্দ করা হয়।

পিএসএস/আইএম

 
.


আলোচিত সংবাদ