কয়েদি নম্বর ১

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮ | ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

কয়েদি নম্বর ১

আতিক রহমান পূর্ণিয়া ২:৪৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০১৮

কয়েদি নম্বর ১

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ৫ এবং তারেক রহমানসহ বাকি আসামিদের ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।বৃহস্পতিবার পুরনো ঢাকার বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ের পরপরই আদালত থেকে তাকে নিকটবর্তী নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কারা রেজিস্ট্রারে খালেদা জিয়ার নাম এন্ট্রি করা হয়। তাকে কয়েদি নম্বর ১ দেয়া হয়।

এখান থেকে কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরের পর কোনো বন্দি রাখা হয়নি। খালেদা জিয়ার রায় ঘিরে সম্প্রতি দুটি কক্ষ সংস্কার করা হয়। রায়ের পর একমাত্র বন্দি হিসেবে তাকেই এখানে নেয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারা কর্তৃপক্ষের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘যেহেতু এই বিশেষ কারাগারে একজন মাত্রই বন্দি, খালেদা জিয়া। তাই সব আনুষ্ঠানিকতার পর রেজিস্ট্রেশন শেষে কারা নীতি মেনে বৃহস্পতিবার রাতেই তাকে কয়েদি নম্বর-১ দেয়া হয়েছে।’

তবে বৃহস্পতিবার রাতে খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লা মিয়া ও ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার পরিবর্তন ডটকমকে বলেছিলেন, ‘খালেদা জিয়াকে কয়েদি নম্বর দেয়া হবে কিনা জানি না। তবে কারাগারে রেজিস্ট্রেশনের পর তাকে একটি ফাইল নম্বর দেয়া হতে পারে।’

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে ঢাকা জেল সুপার জাহাঙ্গির কবীর পরিবর্তন ডটকমকে বলেছেন, ‘কারাগারে সব ঠিকঠাক রয়েছে। সকালে কারা কর্তৃপক্ষের দেয়া নাস্তা করেছেন খালেদা জিয়া। জেল কোড মেনে তাকে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেয়া হচ্ছে।’

উল্লেখ্য, সেনা সমর্থিত বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২০১০ সালের ৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার কার্যক্রম শেষ হতে ২৩৬ কার্যদিবস লেগেছে। ৩২ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। ২৮ দিন ধরে আসামি খালেদা জিয়া ৩৪২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। আর ১৬ দিন তার পক্ষ থেকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়।

খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া এ মামলায় অন্য আসামিরা হলেন- মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। শেষের দু’জন মামলার শুরু থেকেই পলাতক।

এআরপি/আইএম